রাহু-কেতু দোষ: জীবনে সমস্যার কারণ ও কার্যকর প্রতিকার
রাহু-কেতু দোষ কী? জেনে নিন এর জ্যোতিষীয় ব্যাখ্যা
রাহু ও কেতু হল দুইটি ছায়া গ্রহ, যাদের বাস্তব অস্তিত্ব না থাকলেও বৈদিক জ্যোতিষে এদের প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ। জন্মছকে যদি রাহু ও কেতু বিশেষ কিছু ঘরে, বিশেষত ১ম, ৫ম, ৭ম, ৮ম বা ১২তম ঘরে থাকে বা যদি সমস্ত গ্রহ রাহু-কেতুর মাঝখানে অবস্থান করে, তবে সেটিকে “রাহু কেতু দোষ” বা কখনো “কাল সर्प দোষ” বলা হয়।
এই দোষ জীবনে অজানা ভয়, মানসিক অস্থিরতা, কেরিয়ার সমস্যা, দাম্পত্য কলহ, সন্তানের সমস্যা, স্বাস্থ্যজনিত জটিলতা, ও আর্থিক অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। রাহু কেতু মূলত আমাদের কার্মিক ঋণ, অতীত জীবনের কৃতকর্ম এবং মায়াবাদ (illusion) নির্দেশ করে।
রাহু কেতু দোষে কী কী সমস্যা দেখা যায়?
১. মানসিক অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি: রাহুর প্রভাবে ব্যক্তি বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে, মনের মধ্যে দুশ্চিন্তা ও ভয় কাজ করে।
২. ক্যারিয়ারে ব্যাঘাত: চাকরি পরিবর্তন, হঠাৎ বেকার হওয়া বা প্রচেষ্টার পরও সাফল্য না পাওয়া রাহু-কেতুর প্রভাবে হয়।
৩. বৈবাহিক জীবনে সমস্যা: ৭ম ঘরে রাহু/কেতু থাকলে সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিচ্ছেদ বা দেরিতে বিয়ের সম্ভাবনা থাকে।
৪. সন্তান সম্পর্কিত সমস্যা: ৫ম ঘরে রাহু/কেতু থাকলে সন্তান ধারণে দেরি, সন্তানের অসুস্থতা বা সম্পর্ক বিচ্ছেদ দেখা দেয়।
৫. অতীন্দ্রিয় বিষয় বা কুসংস্কারে জড়িয়ে পড়া: রাহু মানুষকে বাস্তব থেকে সরিয়ে কল্পনার জগতে নিয়ে যায়।
৬. আইনি ঝামেলা ও শত্রু বৃদ্ধি: কেতুর প্রভাবে পুরনো শত্রুরা ফিরে আসতে পারে বা ভুল সিদ্ধান্তে আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।
রাহু কেতু দোষ থেকে মুক্তির উপায় কী?
যদিও রাহু-কেতুর প্রভাব ভয়ঙ্কর মনে হলেও সঠিক প্রতিকার ও আধ্যাত্মিক পথে এই দোষ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নিচে কিছু কার্যকর প্রতিকার দেওয়া হলো:
✅ রাহু-কেতু গ্রহের মন্ত্র জপ:
• রাহুর জন্য – “ॐ राहवे नमः” – দিনে ১০৮ বার জপ করুন।
• কেতুর জন্য – “ॐ केतवे नमः” – প্রতি বৃহস্পতিবার বা শনিবার জপ করুন।
✅ কাল সर्प দোষের জন্য বিশেষ পূজা: মহারাষ্ট্রের ত্র্যম্বকেশ্বর বা উত্তর ভারতের কিছু মন্দিরে “কালসার্প যোগ নিারন পূজা” করলে উপকার পাওয়া যায়।
✅ নাগ পূজা: শ্রাবণ মাসে নাগপঞ্চমীতে নাগ দেবতার পূজা করলে কেতুর প্রভাব কমে যায়।
✅ কালো তিল, কালো কাপড় দান: শনিবারে দরিদ্র ব্যক্তিকে এই জিনিসগুলো দান করলে রাহুর দোষ কমে।
✅ ধাতব রত্ন: অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর পরামর্শ অনুযায়ী গোমেদ (Rahu) বা লহসুনিয়া (Ketu) ধারণ করা যেতে পারে।
উপসংহার
রাহু কেতু দোষ ভয় পাওয়ার মতো কিছু নয়, বরং এটা আমাদের জীবনের গভীর কার্মিক শিক্ষার প্রতীক। আত্মনিয়ন্ত্রণ, সৎকর্ম, ধার্মিকতা ও উপযুক্ত জ্যোতিষ পরামর্শ গ্রহণের মাধ্যমে এই দোষ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। রাহু-কেতু আমাদের চ্যালেঞ্জ দেয়, কিন্তু তার মধ্যেই উন্নতির সুযোগও লুকিয়ে থাকে।
আপনার জন্মছকে রাহু-কেতুর প্রভাব রয়েছে কিনা এবং তার মাত্রা জানতে চাইলে, একটি নির্ভরযোগ্য জ্যোতিষ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তা জেনে নেওয়া উচিত। তাহলেই সঠিক সময়ে উপযুক্ত প্রতিকার নেওয়া সম্ভব হবে।