বিবাহের সঠিক সময় কখন? কুণ্ডলী দেখে নির্ধারণ করার সহজ উপায়
বিবাহের সঠিক সময় কখন? কুণ্ডলী দেখে নির্ধারণ করার উপায়
বিয়ে জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অনেকেই জানতে চান, “আমার বিয়ের সময় কবে?” কিংবা “বিয়ে দেরি হচ্ছে কেন?” এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে আমরা অনেক সময় জ্যোতিষের দ্বারস্থ হই। হ্যাঁ, বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্র মতে কুণ্ডলী দেখে ব্যক্তির বিবাহের সময়, বয়স, দেরি বা বাধা ইত্যাদি নির্ধারণ করা সম্ভব। আজকের এই লেখায় আমরা জানব কিভাবে আপনার জন্মছক বা কুণ্ডলী দেখে বিবাহের সময় নির্ধারণ করা হয়।
১. সপ্তম ঘর – বিবাহের মূল ঘর
কুণ্ডলীর সপ্তম ঘর (7th House) বিবাহ ও বৈবাহিক সম্পর্কের জন্য প্রধান ঘর। এই ঘরে কোন গ্রহ বসেছে বা কোন গ্রহ এটি দৃষ্টিতে রেখেছে, তা দেখে বোঝা যায় বিয়ে শীঘ্রই হবে না দেরিতে। যদি এই ঘর শুভ গ্রহ যেমন শুক্র, বৃহস্পতি বা চন্দ্র দ্বারা প্রভাবিত হয়, তাহলে বিয়ে তাড়াতাড়ি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর যদি শনি, রাহু বা কেতুর প্রভাব থাকে, তাহলে দেরি বা বাধা আসতে পারে।
২. শুক্র ও বৃহস্পতি – বিবাহের গুরুত্বপূর্ণ গ্রহ
ছেলেদের কুণ্ডলীতে বিবাহের জন্য শুক্র (Venus) এবং মেয়েদের কুণ্ডলীতে বৃহস্পতি (Jupiter) খুবই গুরুত্বপূর্ণ গ্রহ। শুক্র প্রেম, দাম্পত্য সুখ ও রোমান্টিক জীবনকে নির্দেশ করে। বৃহস্পতি নির্দেশ করে স্বামী বা সংসার জীবনের গুণমান। এই গ্রহ দুটি যদি দুর্বল হয় বা পাপগ্রহ দ্বারা আক্রান্ত হয়, তাহলে বিয়ে বিলম্বিত হয়। অন্যদিকে এই গ্রহ শক্তিশালী হলে বিবাহ সময়মতো ও শুভ হয়।
৩. দশা ও অন্তর্দশা – সময় নির্ধারণে মূল হাতিয়ার
বিয়ে কখন হবে তা নির্ধারণে "দশা" (Dasha) খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তির জীবনচক্রে যখন শুভ গ্রহের দশা-অন্তর্দশা শুরু হয়, তখনই সাধারণত বিয়ের সময় আসে। যেমন, সপ্তম ঘরের স্বামী বা শুক্র/বৃহস্পতির দশা চলাকালীন সময়ে বিয়ে হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। দশা পদ্ধতি বিশ্লেষণ করে জ্যোতিষী নির্ধারণ করতে পারেন ঠিক কোন বছর বা সময়কাল বিবাহের জন্য উপযুক্ত।
৪. নবমাংশ কুণ্ডলী (Navamsa) – বিবাহের গুণমান ও সময়
প্রধান জন্মছকের পাশাপাশি নবমাংশ কুণ্ডলীকেও বিবাহ নির্ধারণে বিবেচনা করা হয়। এটি বিয়ের পরবর্তী জীবনের মান, দাম্পত্য সুখ এবং বিয়ের সময় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। নবমাংশে সপ্তম ঘরের অবস্থা এবং তার অধিপতি গ্রহের শক্তি বিবাহের যোগ নির্ধারণে সাহায্য করে।
৫. বিয়ে দেরি হওয়ার কিছু সাধারণ জ্যোতিষ কারণ
অনেক সময় বিয়ে অনেক দেরিতে হয় বা পাত্র-পাত্রীর দেখা মেলে না। এর পেছনে কিছু জ্যোতিষ কারণ হতে পারে যেমন:
– সপ্তম ঘরে শনি, রাহু বা কেতুর উপস্থিতি
– শুক্র/বৃহস্পতির অস্ত (Combust) হওয়া
– কুণ্ডলীতে মাঙ্গলিক দোষ থাকা
– সপ্তম ঘরের পাপকারক গ্রহ দ্বারা দৃষ্টি প্রাপ্তি
এই ধরনের অবস্থান থাকলে জ্যোতিষীরা সঠিক প্রতিকার এবং সময় নির্ধারণে সহায়তা করতে পারেন।
৬. প্রতিকার – বিয়ের যোগ বাড়াতে কী করবেন?
– শুক্র ও বৃহস্পতিকে শক্তিশালী করার জন্য উপবাস ও মন্ত্রজপ
– নিয়মিত শনির দোষ নিরসনে শনি মন্ত্র জপ ও দান
– গৃহস্থ জীবনের গ্রহগুলিকে প্রসন্ন করার জন্য দানপুণ্য ও পূজা
– সদগুরু বা জ্যোতিষীর পরামর্শ অনুযায়ী রত্ন ধারণ
এই নিয়মগুলি অনুসরণ করলে বিবাহের বাধা অনেকটাই কেটে যেতে পারে।
শেষ কথা
বিবাহ জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তাই সময় এবং যোগ দুটোই সঠিক হলে সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়। কুণ্ডলী দেখে একজন অভিজ্ঞ জ্যোতিষী আপনার বিয়ের যোগ এবং উপযুক্ত সময় নির্ধারণে সাহায্য করতে পারেন। আপনি যদি বিবাহ নিয়ে চিন্তিত থাকেন, তবে নিজের জন্মছক বিশ্লেষণ করিয়ে নিন এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিন ভবিষ্যতের জন্য।