মঙ্গল দোষ কী? কীভাবে এটি বৈবাহিক জীবনে প্রভাব ফেলে?

মঙ্গল দোষ কী? কীভাবে এটি বৈবাহিক জীবনে প্রভাব ফেলে?

মঙ্গল দোষ কী? এক নজরে জেনে নিন

বৈদিক জ্যোতিষে “মঙ্গল দোষ” বা “মাঙ্গলিক দোষ” একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জন্মছকে যদি মঙ্গল গ্রহ ১ম, ২য়, ৪র্থ, ৭ম, ৮ম বা ১২তম ঘরে অবস্থান করে, তখন সেই ব্যক্তিকে মাঙ্গলিক বা মঙ্গল দোষ যুক্ত ধরা হয়। অনেকেই একে অশুভ বলে মনে করেন কারণ এর প্রভাব মূলত বিবাহ ও দাম্পত্য জীবনে নেতিবাচক হতে পারে।

মঙ্গল গ্রহ একটি আগ্রাসী ও আগুন স্বভাবের গ্রহ। এটি রাগ, ঝগড়া, সংঘর্ষ এবং নেতৃত্বের প্রতীক। তাই যখন মঙ্গল ভুল ঘরে অবস্থান করে, তখন তা ব্যক্তির জীবনে দাম্পত্য কলহ, দেরিতে বিয়ে, বিচ্ছেদ, এমনকি সঙ্গীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে বলে মনে করা হয়। তবে সব মঙ্গল দোষ একইরকম ভয়ঙ্কর নয় এবং সব ক্ষেত্রে প্রভাব একরকম হয় না। তাই অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর বিশ্লেষণ আবশ্যক।

কীভাবে মঙ্গল দোষ বৈবাহিক জীবনে সমস্যা সৃষ্টি করে?

১. বিয়েতে দেরি: মঙ্গল দোষ যুক্ত ব্যক্তির বিয়ে সাধারণত দেরিতে হয়। উপযুক্ত পাত্র/পাত্রী খুঁজে পেতে সমস্যা হয় বা সম্পর্ক বারবার ভেঙে যায়।

২. বিবাহে অশান্তি: বিয়ের পর দাম্পত্য জীবনে কলহ, ভুল বোঝাবুঝি এবং মানসিক দূরত্ব তৈরি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্ক এতটাই তিক্ত হয় যে বিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়ায়।

৩. সঙ্গীর উপর খারাপ প্রভাব: কিছু কঠিন ক্ষেত্রে বিশ্বাস করা হয়, একজন মাঙ্গলিক ব্যক্তি যদি অমাঙ্গলিক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে করে, তবে তা সঙ্গীর জীবনে বিপদ আনতে পারে। যেমন – গুরুতর অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা অর্থনৈতিক ক্ষতি।

৪. মানসিক চাপ: এই দোষ যুক্ত মানুষের মনে একটি ভয় বা অস্বস্তি কাজ করে। অনেকেই নানা কুসংস্কারে ভুগে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

মঙ্গল দোষের প্রতিকার কী?

যদিও মঙ্গল দোষকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, তবে কিছু কার্যকর জ্যোতিষীয় প্রতিকার রয়েছে –

মাঙ্গলিকের সঙ্গে মাঙ্গলিকের বিয়ে: মঙ্গল দোষযুক্ত দুইজন ব্যক্তি একে অপরকে সাম্যতা দেয়, ফলে দোষ বাতিল হয়।
কুম্ভ বিবাহ (Symbolic Marriage): কোনো গাছ, পাথর বা মূর্তির সঙ্গে প্রতীকী বিয়ে করে মঙ্গল দোষ কাটানো হয়।
মন্ত্র জপ ও পূজা: হনুমান চালীসা পাঠ, মঙ্গল গ্রহের মন্ত্র জপ এবং মঙ্গল বার ব্রত পালন উপকারী হতে পারে।
মঙ্গল যন্ত্র ধারণ: শুভ সময়ে মঙ্গল যন্ত্র ধারণ করলে শারীরিক ও মানসিক প্রভাব হ্রাস পায়।

শেষ কথা

মঙ্গল দোষ থাকা মানেই জীবনে দুর্ভোগ আসবে এমন নয়। সঠিক প্রতিকার, মানসিক শক্তি এবং ভালো পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে এই প্রভাব অনেকটাই হ্রাস করা যায়। জন্মছক বিশ্লেষণ করে অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত উপায়।

আপনার জন্মছকে মঙ্গল দোষ আছে কিনা জানতে চাইলে একটি পূর্ণ হরস্কোপ বিশ্লেষণ আবশ্যক। এতে বিয়ের সঠিক সময়, দম্পতিত্বে সঙ্গীর সঙ্গে মিল, ও দাম্পত্য জীবনের সুখ-দুঃখ সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া যায়।