ফেক কাস্টমার কেয়ার নম্বর চিনবেন কীভাবে? প্রতারণা এড়াতে জেনে নিন উপায়
ফেক কাস্টমার কেয়ার নম্বর চিনবেন কীভাবে?
অনলাইন শপিংয়ে সমস্যা, ব্যাংকের কোনো কাজের জটিলতা, ট্রেন বা বিমানের টিকিট বুকিং বাতিল কিংবা কোনো অ্যাপের পেমেন্ট ফেইলিওরের ক্ষেত্রে সাহায্যের আশায় আমরা প্রায়শই ইন্টারনেটে কাস্টমার কেয়ারের নম্বর খুঁজতে গুগল সার্চ করি। কিন্তু বর্তমান সময়ে সাইবার অপরাধীরা বিভিন্ন নামী কোম্পানি, ব্যাংক বা ই-কমার্স সাইটের নামে ভুয়ো ও জাল কাস্টমার কেয়ার নম্বর ইন্টারনেটে ছড়িয়ে রাখে। সাধারণ মানুষ আসল ভেবে সেই নম্বরে ফোন করলেই প্রতারকরা অত্যন্ত সুকৌশলে নিজেদের ব্যাংক বা কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়ে সর্বস্ব লুটে নেয়।
ভুয়ো কাস্টমার কেয়ার নম্বরগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর (১০ অঙ্কের সাধারণ মোবাইল নম্বর) হয় কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া বা স্পন্সরড ওয়েবসাইটে ভুল তথ্য হিসেবে পোস্ট করা থাকে। আসল ব্যাংক, এয়ারলাইন বা ই-কমার্স সংস্থাগুলোর কাস্টমার কেয়ার নম্বর কখনোই সাধারণ মোবাইল নম্বর হয় না, বরং তাদের সুনির্দিষ্ট টোল-ফ্রি নম্বর বা অফিশিয়াল হেল্পলাইন থাকে। এছাড়া ফেক কাস্টমার কেয়ারে ফোন করলে প্রতারকরা সমস্যার সমাধান করার নাম করে ফোনে অ্যানড্রেড বা আইওএস ডিভাইসে 'AnyDesk', 'TeamViewer' বা 'QuickSupport' এর মতো রিমোট এক্সেস অ্যাপ ডাউনলোড করাতে বাধ্য করে এবং ওটিপি হাতিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দেয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক ও সাইবার ক্রাইম সেলের নির্দেশিকা অনুযায়ী কোনো ব্যাংক বা রেজিস্টার্ড কোম্পানি কখনোই কাস্টমার কেয়ার কল থেকে গ্রাহকদের রিমোট অ্যাক্সেস অ্যাপ ইনস্টল করতে বা ইউপিআই পিন শেয়ার করতে বলে না।
- কাস্টমার কেয়ারের নম্বর খোঁজার সময় সর্বদা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপের 'Contact Us' সেকশন ব্যবহার করুন।
- ইন্টারনেটে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া কোনো ১০ অঙ্কের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে সাহায্যের জন্য ফোন করা থেকে বিরত থাকুন।
- ফোনে কথা বলার সময় কেউ যদি আপনার ফোনে থার্ড-পার্টি রিমোট কন্ট্রোল অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলে, তবে তৎক্ষণাৎ কল কেটে দিন।
- ফেক কাস্টমার কেয়ারের পাল্লায় পড়ে আর্থিক প্রতারণার শিকার হলে সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় সাইবার ক্রাইম পোর্টাল (cybercrime.gov.in) বা জাতীয় ভোক্তা হেল্পলাইনে অভিযোগ দায়ের করুন।
সাইবার সচেতনতা ও অনলাইন নিরাপত্তার গুরুত্ব
প্রতারকদের এই ধরনের অভিনব কায়দা থেকে বাঁচতে একটুখানি সতর্কতা ও সঠিক সোর্স থেকে তথ্য যাচাই করার অভ্যাস অত্যন্ত জরুরি। অন্ধের মতো ইন্টারনেটের যেকোনো নম্বরে ভরসা করবেন না।
ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকুন, ফেক কাস্টমার কেয়ারের ফাঁদ এড়িয়ে চলুন এবং নিজের আর্থিক নিরাপত্তা সম্পূর্ণ নিশ্চিত করুন।