রাস্তার দুর্ঘটনা দেখলে সাধারণ মানুষ কী করবেন? জেনে নিন জরুরি নিরাপত্তা ও সহায়তার নিয়ম
রাস্তার দুর্ঘটনা দেখলে সাধারণ মানুষ কী করবেন?
হঠাৎ চোখের সামনে কোনো ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতে দেখলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বা ঝামেলা এড়ানোর ভয়ে ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরে যান। অথচ দুর্ঘটনার ঠিক পরের সোনালী সময় বা 'গোল্ডেন আওয়ার'-এর মধ্যে আহত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা দিতে পারলে বহু অমূল্য প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে এ ধরনের বিপদে কিছু মৌলিক ও আইনগত সুরক্ষা নিয়ম মেনে আহতদের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব।
দুর্ঘটনার শিকার স্থানে পৌঁছানোর পর সবার আগে নিজের এবং উপস্থিত অন্যান্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। ভাঙা কাঁচ, তেল লিক হওয়া বা পিছন থেকে আসা দ্রুতগতির যানবাহনের হাত থেকে বাঁচতে গাড়ি বা ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়াতে হবে। এরপর অবিলম্বে জাতীয় জরুরি নম্বর বা অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশকে ফোন করে সঠিক লোকেশনসহ দুর্ঘটনার তথ্য জানাতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: দেশের গুড সেমারিটান বা সজ্জন ব্যক্তি আইন অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের সাহায্যকারী বা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে কোনো পুলিশি হয়রানি বা আইনি ঝামেলায় পড়তে হয় না।
- আহত ব্যক্তির জ্ঞান না থাকলে তাকে অযথা নাড়াচাড়া বা টানাটানি করবেন না, বিশেষ করে ঘাড়ে বা মেরুদণ্ডে আঘাত থাকলে সাবধানে রাখুন।
- প্রচুর রক্তপাত হলে পরিষ্কার কাপড় বা গজ দিয়ে ক্ষতস্থান চেপে ধরে রক্তক্ষরণ বন্ধ করার চেষ্টা করুন।
- শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে রোগীর মুখের চারপাশের ভিড় সরিয়ে দিন এবং পরিধানের টাই বা কলার ঢিলা করে দিন।
- জরুরি সেবা কর্মীরা আসার আগে রোগীকে পানি বা কোনো তরল পানীয় খাওয়ানোর ভুল করবেন না।
মানবিক দায়িত্ব ও আইনি সুরক্ষা
দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে আহতদের প্রাথমিক সাহায্য প্রদান কিংবা দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগতভাবে কোনো বাধা নেই। বরং আপনার সময়মতো নেওয়া একটি সাহসী পদক্ষেপ মুমূর্ষু ব্যক্তির জীবন ফিরিয়ে দিতে পারে।
সচেতনতা এবং মানবিক মানসিকতাই পারে দুর্ঘটনা পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে। বিপদের দিনে একে অপরের পাশে থাকুন এবং নিরাপদ সমাজ গড়তে সহায়তা করুন।