গৌতম আদানির আদানি গ্রুপ কীভাবে ভারতের অন্যতম বড় পরিকাঠামো সাম্রাজ্যে পরিণত হল

গৌতম আদানির আদানি গ্রুপ কীভাবে ভারতের অন্যতম বড় পরিকাঠামো সাম্রাজ্যে পরিণত হল

গৌতম আদানির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের বিস্তার

ভারতের অন্যতম পরিচিত শিল্পপতি গৌতম আদানি দেশের পরিকাঠামো, বন্দর, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে একটি বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন Adani Group বর্তমানে ভারতের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পরিকাঠামোগত ক্ষেত্রে সক্রিয়। বন্দর পরিচালনা থেকে শুরু করে বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ উৎপাদন, কয়লা ও খনিজ এবং নবায়নযোগ্য শক্তি—বিভিন্ন ক্ষেত্রে গোষ্ঠীটির ব্যবসা বিস্তৃত হয়েছে।

আদানি গ্রুপের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮৮ সালে একটি কমোডিটি ট্রেডিং ব্যবসা হিসেবে। কয়েক দশকের মধ্যে সেই ব্যবসা ধীরে ধীরে বন্দর, লজিস্টিকস, এনার্জি এবং অন্যান্য পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বড় পরিসরে বিস্তৃত হয়। ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে পরিকাঠামো উন্নয়নের চাহিদা বাড়ায় আদানি গ্রুপও নিজেদের ব্যবসার পরিধি ক্রমশ বাড়িয়েছে।

মুন্দ্রা বন্দর থেকে বিমানবন্দর ব্যবসা

আদানি গ্রুপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা হলো বন্দর পরিচালনা। গুজরাটের মুন্দ্রা পোর্ট ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক বন্দরগুলির মধ্যে অন্যতম এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি পরিকাঠামোয় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বন্দরের পাশাপাশি গ্রুপটি লজিস্টিকস ও বিভিন্ন পরিবহণ-সম্পর্কিত পরিকাঠামোতেও নিজেদের উপস্থিতি তৈরি করেছে।

বিমানবন্দর খাতেও আদানি গ্রুপের সম্প্রসারণ উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর পরিচালনার মাধ্যমে সংস্থাটি ভারতের বেসরকারি বিমানবন্দর অপারেটরদের মধ্যে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। বিমানবন্দর ব্যবসার সঙ্গে যাত্রী পরিষেবা, কার্গো, খুচরো বাণিজ্য এবং অন্যান্য বিমানবন্দর-নির্ভর পরিষেবার সুযোগও যুক্ত রয়েছে।

আদানির ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র: বন্দর ও লজিস্টিকস, বিমানবন্দর পরিচালনা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, কয়লা ও খনিজ এবং গ্রিন এনার্জি—এই ক্ষেত্রগুলিই আদানি গ্রুপের ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

  • ১৯৮৮ সালে কমোডিটি ট্রেডিং ব্যবসা দিয়ে যাত্রা শুরু।
  • মুন্দ্রা পোর্ট আদানি গ্রুপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
  • বিমানবন্দর পরিচালনায় গ্রুপটির বড় উপস্থিতি রয়েছে।
  • বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবসা গোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
  • নবায়নযোগ্য শক্তি বা গ্রিন এনার্জি খাতেও বিনিয়োগ বাড়ানো হয়েছে।

হিন্ডেনবার্গ রিপোর্টের পর বড় ধাক্কা

আদানি গ্রুপের ব্যবসায়িক উত্থানের পাশাপাশি সংস্থাটি বড় ধরনের বিতর্কেরও মুখোমুখি হয়েছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন শর্ট-সেলার Hindenburg Research আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর আদানি গ্রুপের বিভিন্ন তালিকাভুক্ত সংস্থার শেয়ারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা যায় এবং গোষ্ঠীটির বাজারমূল্যে বড় পতন ঘটে। আদানি গ্রুপ অবশ্য ওই প্রতিবেদনের অভিযোগগুলি অস্বীকার করেছিল।

পরবর্তী সময়ে গোষ্ঠীটি বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে। একাধিক কোম্পানির শেয়ার পরবর্তীতে উল্লেখযোগ্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। তবে আদানি গ্রুপকে ঘিরে ২০২৩ সালের বিতর্ক ভারতীয় কর্পোরেট জগতে দীর্ঘদিন আলোচনার বিষয় হয়ে থাকে।

গ্রিন এনার্জিতে নতুন লক্ষ্য

পরিকাঠামো ও প্রচলিত জ্বালানি ব্যবসার পাশাপাশি আদানি গ্রুপ এখন নবায়নযোগ্য শক্তি ও গ্রিন এনার্জির ক্ষেত্রেও বড় বিনিয়োগের দিকে এগোচ্ছে। সৌর ও অন্যান্য পরিচ্ছন্ন শক্তি প্রকল্পের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জ্বালানি বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতের শক্তির চাহিদা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের সঙ্গে এই ব্যবসা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বন্দর, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গ্রিন এনার্জি—বিভিন্ন কৌশলগত খাতে ব্যবসা ছড়িয়ে দেওয়ার ফলে গৌতম আদানির নেতৃত্বাধীন আদানি গ্রুপ ভারতের অন্যতম আলোচিত শিল্পগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। আগামী দিনে নতুন পরিকাঠামো প্রকল্প, জ্বালানি বিনিয়োগ এবং গ্রিন এনার্জি সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য কতটা আরও বিস্তৃত হয়, সেটিই এখন নজরে রাখার বিষয়।

```