অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমে অল্পবয়সীদের চোখে সমস্যা ও অনিদ্রা বাড়ছে, উদ্বেগ প্রকাশ বিশেষজ্ঞদের

অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমে অল্পবয়সীদের চোখে সমস্যা ও অনিদ্রা বাড়ছে, উদ্বেগ প্রকাশ বিশেষজ্ঞদের

অতিরিক্ত মোবাইল ও স্ক্রিন ব্যবহারে অল্পবয়সীদের চোখে সমস্যা ও অনিদ্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে

বর্তমান ডিজিটাল যুগে পড়াশোনা থেকে শুরু করে বিনোদন—সবক্ষেত্রেই মোবাইল ফোন, ট্যাব ও ল্যাপটপের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তবে ছোট ও অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদের মধ্যে অতিরিক্ত মাত্রায় স্ক্রিন টাইম বা মোবাইল ব্যবহারের প্রবণতা এখন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। একটানা দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে শিশুদের চোখে মারাত্মক সমস্যা এবং রাতে ঠিকমতো ঘুম না হওয়ার মতো অনিদ্রার রোগ উদ্বেগজনকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চিকিৎসক ও চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, কম বয়সে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের কারণে শিশুদের চোখের ক্ষতি হচ্ছে অপূরণীয়। চোখের পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া, শুষ্কতা, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পাওয়া এবং ঘন ঘন মাথাব্যথার মতো উপসর্গগুলি এখন ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে। এর পাশাপাশি নীল আলো বা ব্লু-লাইটের প্রভাবে মস্তিষ্কের মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ ব্যাহত হয়, যার ফলে ঘুমের চক্র পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। ফলস্বরূপ, অল্পবয়সীরা গভীর রাতেও জেগে থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদে তারা গুরুতর মানসিক ও শারীরিক অবসাদের শিকার হচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, শিশুদের দৈনিক স্ক্রিন ব্যবহারের সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া এবং ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সমস্ত ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস দূরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

  • অল্পবয়সীদের মধ্যে অতিরিক্ত মোবাইল ও স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে বাড়ছে চোখের জটিল রোগ।
  • অনিদ্রা ও ঘুমের ব্যাঘাতের কারণে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।
  • ডিজিটাল ডিভাইসের ক্ষতিকর নীল আলো থেকে চোখ ও মস্তিষ্ককে সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজনীয়তা।
  • অভিভাবকদের সচেতনতায় শিশুদের স্ক্রিন টাইম সীমিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া।

ডিজিটাল আসক্তি কাটিয়ে সুস্থ জীবনশৈলীর ডাক

প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন আধুনিক জীবনের সুবিধা বাড়িয়েছে, তেমনই এর যথেচ্ছ অপব্যবহার ডেকে আনছে বড় ধরনের বিপদ। অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদের এই ডিজিটাল আসক্তি থেকে মুক্ত করতে অভিভাবক ও শিক্ষক উভয়কেই সমানভাবে দায়িত্ব নিতে হবে। পড়াশোনা ও বিনোদনের জন্য প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাঠে গিয়ে খেলাধুলা এবং বই পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সচেতনতাই পারে তরুণ প্রজন্মের এই স্বাস্থ্য সংকট রোধ করতে।