পিএম কিষাণ সম্মান নিধি যোজনা: কারা পাবেন সুবিধা, কীভাবে আবেদন ও স্ট্যাটাস চেক করবেন
পিএম কিষাণ সম্মান নিধি যোজনা কী?
কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের চালু করা গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি বা PM-KISAN। এই প্রকল্পটি ১ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে কার্যকর হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, যোগ্য ভূমিধারী কৃষক পরিবারকে বছরে মোট ৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এই অর্থ তিনটি সমান কিস্তিতে, অর্থাৎ প্রতিটি কিস্তিতে ২,০০০ টাকা করে, সরাসরি যোগ্য উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।
PM-KISAN একটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প এবং এর সম্পূর্ণ অর্থায়ন ভারত সরকার করে। প্রকল্পের ক্ষেত্রে একটি পরিবার বলতে স্বামী, স্ত্রী এবং নাবালক সন্তানদের বোঝানো হয়েছে। তবে সুবিধা পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত রয়েছে এবং কয়েকটি উচ্চ আর্থিক অবস্থার শ্রেণিকে প্রকল্পের সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। উপভোক্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসনেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
পিএম কিষাণের জন্য কারা যোগ্য?
সরকারি PM-KISAN নির্দেশিকা অনুযায়ী, মূলত যোগ্য ভূমিধারী কৃষক পরিবার এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার জন্য বিবেচিত হন। জমির মালিকানার সরকারি রেকর্ডের ভিত্তিতে উপভোক্তার যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসন প্রকল্পের নিয়ম অনুসারে যোগ্য কৃষক পরিবার চিহ্নিত করে।
যে বিষয়গুলি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: জমির মালিকানা, সরকারি রেকর্ডে থাকা তথ্য, পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য, আধার এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঠিক বিবরণ আবেদন ও সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া PM-KISAN-এ নিবন্ধিত কৃষকদের জন্য e-KYC বাধ্যতামূলক বলে সরকারি পোর্টালে উল্লেখ করা হয়েছে।
- যোগ্য ভূমিধারী কৃষক পরিবার প্রকল্পের সুবিধার জন্য বিবেচিত হতে পারেন।
- প্রতি বছর মোট ৬,০০০ টাকা তিনটি সমান কিস্তিতে দেওয়া হয়।
- প্রতিটি কিস্তির পরিমাণ ২,০০০ টাকা।
- অর্থ সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।
- PM-KISAN সুবিধার জন্য e-KYC বাধ্যতামূলক।
কোন কোন শ্রেণি PM-KISAN সুবিধার বাইরে?
সব ভূমিধারী ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক জমির মালিক, সাংবিধানিক পদে থাকা বা আগে থাকা কিছু ব্যক্তি, নির্দিষ্ট নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সরকারি দফতর ও সংস্থার নির্দিষ্ট কর্মী এবং পেনশনভোগীসহ কয়েকটি শ্রেণিকে প্রকল্পের সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে।
এছাড়াও গত মূল্যায়ন বছরে আয়কর প্রদানকারী ব্যক্তি এবং চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও আর্কিটেক্টের মতো পেশাদার সংস্থায় নিবন্ধিত এবং পেশায় নিযুক্ত ব্যক্তিরাও সরকারি নির্দেশিকার নির্দিষ্ট বর্জন তালিকার অন্তর্ভুক্ত। তাই আবেদন করার আগে সরকারি ওয়েবসাইটে থাকা বর্তমান যোগ্যতা ও বর্জন সংক্রান্ত নিয়ম দেখে নেওয়া জরুরি।
PM Kisan-এ নতুন আবেদন করবেন কীভাবে?
নতুন কৃষক নিবন্ধনের জন্য PM-KISAN-এর সরকারি পোর্টালে গিয়ে Farmers Corner বিভাগ থেকে New Farmer Registration বিকল্প নির্বাচন করা যায়। সেখানে আধার নম্বরসহ প্রয়োজনীয় পরিচয় ও অন্যান্য তথ্য দিয়ে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। আবেদনকারীকে পোর্টালে প্রদর্শিত নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে জমা দিতে হবে।
নিবন্ধনের সময় সাধারণত কৃষকের নাম, পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য, ঠিকানা ও অবস্থান, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিবরণ লাগতে পারে। সরকারি নির্দেশিকায় উপভোক্তা তথ্যের ক্ষেত্রে আধার, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC কোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উল্লেখ রয়েছে। তথ্য ভুল থাকলে আবেদন প্রক্রিয়া বা অর্থপ্রাপ্তিতে সমস্যা হতে পারে।
PM Kisan স্ট্যাটাস কীভাবে চেক করবেন?
আবেদন বা উপভোক্তার বর্তমান অবস্থা জানতে সরকারি PM-KISAN পোর্টালের Know Your Status পরিষেবা ব্যবহার করা যায়। সেখানে রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে এবং পোর্টালের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যাচাই সম্পন্ন করে পেমেন্ট স্ট্যাটাস, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য ও কিস্তির অবস্থা দেখা সম্ভব। রেজিস্ট্রেশন নম্বর জানা না থাকলে সরকারি পোর্টালের Know Your Registration Number পরিষেবায় মোবাইল নম্বর বা আধার নম্বর ব্যবহার করে সেটি খোঁজার সুবিধাও রয়েছে।
স্ব-নিবন্ধিত কৃষক বা CSC-এর মাধ্যমে নিবন্ধিত আবেদনকারীরা Farmer Status বিভাগ থেকেও আবেদনের অবস্থা পরীক্ষা করতে পারেন। সরকারি পোর্টালে বর্তমানে New Farmer Registration, Edit বা Update Self Registration, Know Your Status, Beneficiary List এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা দেওয়া রয়েছে।
সবশেষে, PM-KISAN-এর যোগ্যতা, আবেদন, e-KYC এবং কিস্তি সংক্রান্ত নিয়ম সময়ের সঙ্গে সংশোধিত হতে পারে। তাই আবেদন বা স্ট্যাটাস চেক করার সময় শুধুমাত্র PM-KISAN-এর সরকারি ওয়েবসাইটের বর্তমান নির্দেশিকা অনুসরণ করা উচিত এবং আধার, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা OTP-এর মতো ব্যক্তিগত তথ্য অনির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইটে দেওয়া থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। সরকারি পোর্টাল অনুযায়ী, ২০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রকল্পের ২৩তম কিস্তি প্রকাশ করা হয়েছে।