কন্যাশ্রীতে বিশ্বজয় বাংলার মেয়েদের, পড়াশোনা চালিয়ে যেতে রাজ্যের বড় আর্থিক সহায়তা
কন্যাশ্রী প্রকল্পে বাংলার মেয়েদের পড়াশোনায় আর্থিক সহায়তা
মেয়েদের স্কুলছুট কমানো, বাল্যবিবাহ রোধ এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা দিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ কন্যাশ্রী প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বয়সসীমার অবিবাহিত ছাত্রীদের বার্ষিক আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর এককালীন অনুদানের ব্যবস্থাও রয়েছে। রাজ্য সরকারের ২০২৬-২৭ সালের বাজেট তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি চালুর পর থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৯৬.৩০ লক্ষ উপভোক্তা এর সুবিধা পেয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কন্যাশ্রী প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল মেয়েদের শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত রাখা এবং ১৮ বছরের আগে বিয়ের প্রবণতা কমানো। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি অবিবাহিত মেয়েরা পড়াশোনা চালিয়ে গেলে নির্দিষ্ট শর্তে বার্ষিক আর্থিক সহায়তা পান। আবার ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সে অবিবাহিত অবস্থায় পড়াশোনা বা নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত থাকলে এককালীন অনুদানের সুবিধা পাওয়া যায়।
কন্যাশ্রীতে কত টাকা দেওয়া হয়?
রাজ্য সরকারের বর্তমান প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, কন্যাশ্রীর বার্ষিক বৃত্তি বা K1 উপাদানে যোগ্য ছাত্রীদের প্রতি বছর ১,০০০ টাকা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সের মধ্যে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী উপভোক্তারা K2 উপাদানে এককালীন ২৫,০০০ টাকা পাওয়ার সুযোগ পান। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১৫.৫০ লক্ষ মেয়ে বার্ষিক বৃত্তি উপাদনে এবং ২.২৪ লক্ষ মেয়ে এককালীন অনুদান উপাদনে নথিভুক্ত ছিলেন। ওই অর্থবর্ষে কন্যাশ্রী প্রকল্পে মোট ৪৬৫.১৫ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
- ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি যোগ্য অবিবাহিত ছাত্রীদের জন্য বার্ষিক ১,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা রয়েছে।
- ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সি যোগ্য উপভোক্তারা এককালীন ২৫,০০০ টাকা পেতে পারেন।
- বার্ষিক সহায়তা পেতে সাধারণভাবে ছাত্রীকে পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হয়।
- এককালীন অনুদানের ক্ষেত্রেও অবিবাহিত থাকা এবং শিক্ষা বা নির্ধারিত প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত থাকার শর্ত রয়েছে।
- সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে অনুমোদিত উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়।
কারা কন্যাশ্রীর জন্য আবেদন করতে পারেন?
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী অবিবাহিত মেয়েরা কন্যাশ্রী প্রকল্পের সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন। K1-এর ক্ষেত্রে সাধারণভাবে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি এবং অষ্টম শ্রেণি বা সমমানের স্তরে অধ্যয়নরত ছাত্রীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। K2-এর জন্য ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সি যোগ্য মেয়েদের ক্ষেত্রে আলাদা শর্ত রয়েছে। আবেদন ও অনুমোদনের সময় বয়স, শিক্ষাগত অবস্থান, বৈবাহিক অবস্থা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: কন্যাশ্রী প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা শুধুমাত্র টাকা দেওয়ার কর্মসূচি নয়, এর মাধ্যমে মেয়েদের দীর্ঘদিন শিক্ষার মূলস্রোতে ধরে রাখা এবং বাল্যবিবাহের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিভিন্ন সরকারি পোর্টালে প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হিসেবে মেয়েদের স্কুলে থাকা নিশ্চিত করা এবং অন্তত ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত বিয়ে বিলম্বিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও রয়েছে K3 সুবিধা
কন্যাশ্রী প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ দিতে K3 উপাদানের ব্যবস্থাও রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য উচ্চশিক্ষা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, K3 হল স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট-কাম-মিনস স্কলারশিপের অধীন একটি উপাদান, যা স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনা করা যোগ্য ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা দেয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে K3 বিভাগে ১৮ হাজারের বেশি উপভোক্তার আবেদন বা নথিভুক্তির তথ্যও সরকারি পোর্টালে দেখা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, কন্যাশ্রী প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে মেয়েদের শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি উদ্যোগ হিসেবে চালু রয়েছে। বার্ষিক ১,০০০ টাকা এবং যোগ্যদের জন্য এককালীন ২৫,০০০ টাকার আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় K3 সুবিধাও মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তা করছে। আবেদন করার আগে অবশ্যই সরকারি পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সর্বশেষ যোগ্যতার শর্ত ও আবেদন প্রক্রিয়া যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।