দুর্গাপুজোর আগে কলকাতায় তুঙ্গে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, ভিড় সামলাতে কড়া নজরদারি নিরাপত্তা ও ট্রাফিকে

দুর্গাপুজোর আগে কলকাতায় তুঙ্গে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, ভিড় সামলাতে কড়া নজরদারি নিরাপত্তা ও ট্রাফিকে

দুর্গাপুজোর আগে কলকাতায় তুঙ্গে প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও যান চলাচলে বিশেষ নজর প্রশাসনের

মহোৎসবের দিনগুলি আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকতেই শহরজুড়ে দুর্গাপুজোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি এখন একেবারে চরমে। কলকাতার বিভিন্ন বড় ও মাঝারি পুজো মণ্ডপগুলিতে আলোকসজ্জা এবং প্যান্ডেলের কাজ প্রায় শেষের পথে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের কেনাকাটা ও মণ্ডপ পরিক্রমার সুবিধার্থে শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সুসংহত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের রূপরেখা তৈরি করেছে লালবাজার। শহরের প্রতিটি কোণায় জনস্রোত সামাল দিতে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুজোর দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে শহরের সমস্ত প্রধান রাস্তায় অতিরিক্ত পুলিশ কর্মী এবং মহিলা পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হবে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও উত্তর কলকাতার ভিড়বহুল শপিং মল, বাজার এবং বড় মণ্ডপগুলির আশপাশে যানজট এড়াতে বিশেষ ট্রাফিক ডাইভারশনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেইসঙ্গে প্যান্ডেলগুলিতে অগ্নিকাণ্ড রোধ এবং সুরক্ষার বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে ফায়ার সেফটি ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিমকে পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্যান্ডেল হপিংয়ের সময় পকেটমারি, ইভটিজিং বা যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে সাদা পোশাকের পুলিশ ও সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে। এছাড়াও প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলিতে পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র বা ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হচ্ছে।

  • দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে কলকাতার নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নির্দেশিকা জারি লালবাজারের।
  • ভিড়বহুল এলাকা ও শপিং জোনগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ কর্মী ও মহিলা বাহিনী মোতায়েন।
  • মণ্ডপের অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ও সিসিটিভি নজরদারির ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসনের উদ্যোগ ও সাধারণ মানুষের জন্য পরামর্শ

শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাকে সচল রাখতে উৎসবের দিনগুলিতে নির্দিষ্ট কিছু রাস্তায় ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। পুজো কমিটিগুলিকেও মণ্ডপ চত্বরে পর্যাপ্ত আলো, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং প্রবেশ-প্রস্থানের একাধিক পথ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়ানো যায়।

সবমিলিয়ে, শারদোৎসবের আনন্দ যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে পুজো উপভোগ করতে পারেন, তার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি সেরে রেখেছে প্রশাসন। ট্রাফিক সংক্রান্ত যেকোনো আপডেট ও সাহায্যের জন্য পুলিশের হেল্পলাইন নম্বরগুলি সবসময় সচল রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।