দরিদ্র পরিবারের মেয়ের বিয়েতে রূপশ্রী প্রকল্পে এককালীন ২৫,০০০ টাকা, জানুন যোগ্যতার শর্ত
মেয়ের বিয়েতে আর্থিক সহায়তায় রূপশ্রী প্রকল্প
আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ের খরচে সহায়তা দিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের চালু করা গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম রূপশ্রী প্রকল্প। এই প্রকল্পে নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত পূরণকারী আবেদনকারীরা মেয়ের প্রথম বিয়ের জন্য এককালীন ২৫,০০০ টাকা আর্থিক অনুদান পান। দরিদ্র পরিবারকে বিয়ের খরচ মেটাতে উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়া বা সম্পদ বিক্রির মতো পরিস্থিতি থেকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়াই এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ২০২৬-২৭ সালের বাজেট নথি অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১,৪৩,১৯১ জন উপভোক্তা রূপশ্রী প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন এবং মোট ৩৪৭.১৭ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। :contentReference[oaicite:0]{index=0}
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, রূপশ্রী প্রকল্পে আবেদনকারীকে কয়েকটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং আবেদন জমা দেওয়ার দিন পর্যন্ত তাঁকে অবিবাহিত থাকতে হবে। যে বিয়ের জন্য অনুদানের আবেদন করা হচ্ছে, সেটি আবেদনকারীর প্রথম বিয়ে হওয়াও বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি প্রস্তাবিত পাত্রের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে। :contentReference[oaicite:1]{index=1}
রূপশ্রী প্রকল্পে কারা ২৫,০০০ টাকা পাওয়ার যোগ্য?
রূপশ্রী প্রকল্প মূলত আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের জন্য। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় ১.৫০ লক্ষ টাকার বেশি হওয়া চলবে না। আবেদনকারীর পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হওয়ার শর্তও রয়েছে। সরকারি বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জন্মসূত্রে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হওয়া, নির্দিষ্ট সময় ধরে রাজ্যে বসবাস করা অথবা বাবা-মায়ের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার মতো শর্তের ভিত্তিতে আবাসিক যোগ্যতা যাচাই করা হতে পারে। :contentReference[oaicite:2]{index=2}
- আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।
- আবেদন জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীকে অবিবাহিত থাকতে হবে।
- প্রস্তাবিত বিয়েটি আবেদনকারীর প্রথম বিয়ে হতে হবে।
- প্রস্তাবিত পাত্রের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে।
- পরিবারের বার্ষিক আয় ১.৫০ লক্ষ টাকার বেশি হওয়া যাবে না।
- আবেদনকারীর পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে নির্ধারিত আবাসিক যোগ্যতা থাকতে হবে।
- আবেদনকারীর নিজের নামে সক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা প্রয়োজন।
কীভাবে দেওয়া হয় রূপশ্রীর টাকা?
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: রূপশ্রী প্রকল্পের আবেদন যাচাই ও অনুমোদনের পর আর্থিক অনুদানের টাকা আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অর্থপ্রদানের জন্য আবেদনকারীর নিজের নামে সক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা প্রয়োজন এবং নির্ধারিত ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে টাকা স্থানান্তর করা হয়। কিছু জেলা প্রশাসনের নির্দেশিকায় প্রস্তাবিত বিয়ের তারিখের আগে অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। :contentReference[oaicite:3]{index=3}
আবেদন করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত, পুরসভা, ব্লক উন্নয়ন দফতর বা মহকুমা প্রশাসনের নির্ধারিত দফতরে যোগাযোগ করা যেতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিচয়, বয়স, আবাসিক ও বিয়ে সংক্রান্ত নথি জমা দিতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদন এবং নথি যাচাই করার পর যোগ্যতা নিশ্চিত হলে অনুদান অনুমোদনের প্রক্রিয়া এগোয়। :contentReference[oaicite:4]{index=4}
কোন কোন বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি?
রূপশ্রী প্রকল্পের ক্ষেত্রে শুধু ২৫,০০০ টাকার অনুদানের অঙ্ক জানলেই হবে না, সরকারি সব যোগ্যতার শর্ত পূরণ করাও জরুরি। বয়স, পারিবারিক আয়, বৈবাহিক অবস্থা, প্রথম বিয়ের শর্ত, আবাসিক যোগ্যতা এবং পাত্রের বয়সসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করা হয়। কোনও তথ্য ভুল হলে বা শর্ত পূরণ না হলে আবেদন অনুমোদিত নাও হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতর বা অনুমোদিত সরকারি পোর্টাল থেকে সর্বশেষ নিয়ম ও প্রয়োজনীয় নথির তালিকা যাচাই করা উচিত। :contentReference[oaicite:5]{index=5}
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রূপশ্রী প্রকল্প আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের প্রথম বিয়েতে এককালীন ২৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার একটি সরকারি উদ্যোগ। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষেও বিপুল সংখ্যক উপভোক্তা এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। তবে সুবিধা পেতে হলে পরিবারের বার্ষিক আয় ১.৫০ লক্ষ টাকার মধ্যে থাকা-সহ নির্ধারিত সব সরকারি শর্ত পূরণ করতে হবে এবং আবেদন যাচাইয়ের পরই চূড়ান্তভাবে অনুদান অনুমোদন করা হবে। :contentReference[oaicite:6]{index=6}