বাংলায় শিল্প বিনিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে বড় পদক্ষেপ, লগ্নির আগে শিল্পপতিদের তথ্য যাচাই করবে সরকার
বাংলায় শিল্প বিনিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের
রাজ্যে শিল্পায়ন এবং বিনিয়োগের পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। নতুন শিল্পনীতি রূপায়ণ এবং লগ্নির প্রস্তাব খতিয়ে দেখার আগে এবার থেকে শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলির পূর্বের রেকর্ড, আর্থিক সক্ষমতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ভুয়ো প্রস্তাব বা কাল্পনিক বিনিয়োগের প্রবণতা রোধ করতেই এই কঠোর ও স্বচ্ছ নীতিমালা গ্রহণ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ টানতে এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন বণিক সভা ও শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠকেও সরকারের পক্ষ থেকে শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো রকম অনিয়ম বা ভুয়ো সংস্থার অনুপ্রবেশ না ঘটে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে চাইছে প্রশাসন। সেই কারণেই প্রতিটি বিনিয়োগ প্রস্তাবের নেপথ্যে থাকা শিল্পপতি ও সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করার এই নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: রাজ্য শিল্পোন্নয়ন নিগম (WBIDC) এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি যৌথভাবে এই তথ্য যাচাইয়ের কাজ পরিচালনা করবে। নতুন নীতি অনুসারে, একশো কোটি বা তার বেশি টাকার বিনিয়োগ প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে নথিপত্র এবং আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়টি আরও নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হবে। এর ফলে প্রকৃত ও আগ্রহী শিল্পপতিরা সঠিক সুবিধা পাবেন এবং দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য সম্পূর্ণ বন্ধ হবে।
- বিনিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদনের আগে শিল্পপতিদের তথ্য যাচাই করবে রাজ্য সরকার।
- ভুয়ো বা কাল্পনিক লগ্নির প্রস্তাব রুখতে নেওয়া হয়েছে এই বিশেষ প্রশাসনিক পদক্ষেপ।
- শিল্পমহলে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ডব্লিউবিআইডিসি (WBIDC)-কে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্বচ্ছ শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ার বার্তা
সরকারের এই পদক্ষেপে প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা আরও বেশি উৎসাহ পাবেন বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। অতীতে অনেক সময় ভুয়ো বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হলেও, বর্তমান প্রশাসনের এই কঠোর যাচাইকরণ পদ্ধতি জালিয়াতির সম্ভাবনা অনেকটাই কমিয়ে দেবে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প মানচিত্রে স্বচ্ছতা ফিরবে এবং আস্থার পরিবেশ তৈরি হবে।
শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরে দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থা কায়েম করাই এই নতুন নিয়মের মূল লক্ষ্য। আগামী দিনে এই তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া কীভাবে কার্যকর হয় এবং এর সুফল কতটা মেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।