রাজ্যের কৃষকদের জন্য সুখবর, পিএম কিষাণ যোজনায় বছরে ৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা
পিএম কিষাণ যোজনায় কৃষকদের আর্থিক সহায়তা
দেশের কৃষকদের আর্থিকভাবে সহায়তা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি বা PM-KISAN। পশ্চিমবঙ্গের যোগ্য কৃষকরাও এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য জমির মালিক কৃষক পরিবারের জন্য বছরে মোট ৬,০০০ টাকা দেওয়া হয়। এই অর্থ তিনটি সমান কিস্তিতে, অর্থাৎ প্রতি কিস্তিতে ২,০০০ টাকা করে সরাসরি উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।
বর্তমানে কোন কিস্তি দেওয়া হয়েছে?
কেন্দ্রীয় সরকারের PM-KISAN-এর সরকারি পোর্টাল অনুযায়ী, ২০ জুন ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গের হুগলির তারকেশ্বর থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রকল্পের ২৩তম কিস্তি প্রকাশ করেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের এপ্রিল-জুলাই পর্যায়ে ৯ কোটি ৪৪ লক্ষেরও বেশি কৃষক এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। ফলে বর্তমানে যোগ্য কৃষকদের জন্য পিএম কিষাণের অর্থপ্রাপ্তির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে কোনও কৃষক এই প্রকল্পে নথিভুক্ত থাকলেই প্রতিটি কিস্তির টাকা নিশ্চিতভাবে পাবেন, এমন নয়। যোগ্যতা, eKYC, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং অন্যান্য সরকারি যাচাই ঠিক থাকা প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে যোগ্যতার শর্ত নিয়ে সন্দেহ থাকলে বা তথ্য যাচাই অসম্পূর্ণ থাকলে অর্থপ্রদান সাময়িকভাবে আটকে রাখা হতে পারে।
কারা পিএম কিষাণের সুবিধা পান?
PM-KISAN মূলত দেশের জমির মালিক কৃষক পরিবারগুলিকে আয় সহায়তা দেওয়ার জন্য চালু করা হয়েছে। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য কৃষক পরিবারের স্বামী, স্ত্রী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের পরিবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসন প্রকল্পের নির্দেশিকা অনুযায়ী যোগ্য কৃষক পরিবার চিহ্নিত করে।
- যোগ্য জমির মালিক কৃষক পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারে।
- বছরে মোট ৬,০০০ টাকা তিনটি সমান কিস্তিতে দেওয়া হয়।
- প্রতি কিস্তিতে ২,০০০ টাকা করে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।
- প্রকল্পের অর্থ সরাসরি উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়।
- নথিভুক্ত কৃষকদের জন্য eKYC সম্পূর্ণ করা বাধ্যতামূলক।
কারা এই সুবিধা থেকে বাদ পড়তে পারেন?
PM-KISAN-এর অধীনে নির্দিষ্ট কয়েকটি শ্রেণির মানুষ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। যেমন, প্রাক্তন ও বর্তমান সাংবিধানিক পদাধিকারী, নির্দিষ্ট সরকারি পদে কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মী, আয়কর প্রদানকারী ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট পেশাজীবীদের প্রকল্পের বাইরে রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের নির্দেশিকায় উল্লেখ করা অন্যান্য বর্জন-শর্তও প্রযোজ্য। তাই শুধু কৃষিজমি থাকলেই প্রত্যেক ব্যক্তি PM-KISAN-এর টাকা পাবেন—এমনটা নয়।
eKYC কেন গুরুত্বপূর্ণ?
PM-KISAN-এর সরকারি পোর্টালে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে নথিভুক্ত কৃষকদের জন্য eKYC বাধ্যতামূলক। বর্তমানে PM-KISAN মোবাইল অ্যাপ, CSC এবং অনুমোদিত রাজ্য ব্যবহারকারীর মাধ্যমে বায়োমেট্রিক eKYC-এর ব্যবস্থাও রয়েছে। তাই যেসব কৃষকের eKYC এখনও সম্পূর্ণ হয়নি, তাদের দ্রুত প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা প্রয়োজন।
টাকা এসেছে কি না কীভাবে জানবেন?
কৃষকরা PM-KISAN-এর সরকারি পোর্টালের Know Your Status পরিষেবার মাধ্যমে নিজেদের পেমেন্টের তথ্য দেখতে পারেন। রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে স্ট্যাটাস পরীক্ষা করলে পেমেন্টের অবস্থা, ব্যাংকের নাম, UTR নম্বর এবং অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হওয়ার তারিখের মতো তথ্য দেখা যায়। এছাড়া সরকারি Beneficiary List-এর মাধ্যমেও নির্দিষ্ট এলাকা অনুযায়ী উপভোক্তার তালিকা যাচাই করা যায়।
তাই পশ্চিমবঙ্গের যেসব কৃষক PM-KISAN-এর আওতায় রয়েছেন, তাঁদের eKYC এবং ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য সঠিক রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। কোনও সমস্যা থাকলে সরকারি পোর্টালের স্ট্যাটাস দেখে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা যোগাযোগের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
PM-KISAN-এর ৬,০০০ টাকা একটি বার্ষিক আয় সহায়তা, যা যোগ্য কৃষক পরিবারকে তিন কিস্তিতে দেওয়া হয়। এই অর্থ পাওয়ার জন্য সরকারি যোগ্যতার শর্ত পূরণ করা এবং প্রয়োজনীয় যাচাই সম্পূর্ণ থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই সোশ্যাল মিডিয়া বা অনির্ভরযোগ্য সূত্রে ছড়ানো অতিরিক্ত টাকা বা নিশ্চিত অর্থপ্রাপ্তির দাবিতে বিশ্বাস না করে কৃষকদের সরকারি PM-KISAN পোর্টালেই নিজেদের তথ্য ও পেমেন্টের বর্তমান অবস্থা যাচাই করা উচিত।
```