অমিত শাহের ঘোষণা: আইএসআই-সমর্থিত শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের ২০০-র বেশি সদস্য গ্রেফতার
আইএসআই-সমর্থিত নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বড় অভিযান
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, স্বাধীনতা দিবসের আগে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পাকিস্তান-ভিত্তিক ও আইএসআই-সমর্থিত বলে অভিযুক্ত শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক-এর বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালিয়েছে। তাঁর দাবি, এই অভিযানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেটওয়ার্কটির ২০০ জনেরও বেশি অপারেটিভকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতামূলক কার্যকলাপের আশঙ্কায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সমন্বিত অভিযান শুরু করে। দেশের ১৪টি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে মোট ২৫৩ জনকে আটক করা হয়েছিল এবং পরবর্তী প্রক্রিয়ায় ২০০-র বেশি গ্রেফতারের তথ্য সামনে এসেছে। একই সঙ্গে নেটওয়ার্কটির বিরুদ্ধে ৮০টিরও বেশি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে।
অমিত শাহ কী জানিয়েছেন?
অমিত শাহ সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় দাবি করেন, স্বাধীনতা দিবসের আগে আইএসআই-সমর্থিত শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ককে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী ১৪টি রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সমন্বিত অভিযান চালিয়ে এই নেটওয়ার্কের পরিকল্পিত নাশকতামূলক কার্যকলাপ প্রতিহত করেছে। তিনি এই অভিযানকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির উদাহরণ হিসেবেও উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দাবি অনুযায়ী, শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কটি পাকিস্তান-ভিত্তিক এবং আইএসআই-সমর্থিত একটি সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট হিসেবে কাজ করছিল। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে গ্রেনেড হামলা, আইইডি ও পেট্রোল বোমা হামলা এবং লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড-সহ একাধিক সন্ত্রাসী কার্যকলাপের যোগসূত্র রয়েছে।
- ১৪টি রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সমন্বিত অভিযান চালানো হয়েছে।
- মোট ২৫৩ জনকে আটক করা হয়েছিল বলে সরকারি তথ্য জানিয়েছে।
- নেটওয়ার্কটির বিরুদ্ধে ২০০ জনের বেশি সদস্য বা অপারেটিভকে গ্রেফতারের কথা জানানো হয়েছে।
- ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ৮০টিরও বেশি এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে।
- অভিযানে আইইডি, গ্রেনেড, পিস্তল, তাজা কার্তুজ এবং নজরদারিতে ব্যবহৃত সিসিটিভি সরঞ্জাম উদ্ধারের দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্বাধীনতা দিবসের আগে বাড়তি নিরাপত্তা অভিযান
স্বাধীনতা দিবসের আগে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহর ও জনবহুল এলাকায় সাধারণত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এই প্রেক্ষাপটেই ১২ আগস্ট বিভিন্ন রাজ্যে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছিল বলে সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, রাজ্য পুলিশ এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির চিহ্নযুক্ত কিছু গ্রেনেড, আইইডি, পিস্তল, তাজা কার্তুজ এবং গুপ্তচরবৃত্তির কাজে ব্যবহারের অভিযোগ থাকা সিসিটিভি সরঞ্জামের উল্লেখ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী এবং ধৃতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তদন্ত ও নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্ব
একাধিক রাজ্যে বিস্তৃত এই অভিযান জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এত বড় নেটওয়ার্ক কীভাবে বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় ছিল, কারা এর সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং নাশকতার পরিকল্পনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আটক ও গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলির আইনি প্রক্রিয়াও চলবে।
অমিত শাহের ঘোষণার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, সীমান্তপারের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভারত সরকারের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে নতুন তথ্য সামনে এলে গ্রেফতার, উদ্ধার এবং নেটওয়ার্কের কার্যকলাপ সংক্রান্ত বিস্তারিত আরও স্পষ্ট হতে পারে। বর্তমানে সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ রাজ্যে চালানো এই সমন্বিত অভিযানে ২০০-র বেশি সদস্য গ্রেফতার এবং ২৫৩ জনকে আটকের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।