অমরাবতীর সরকারি হাসপাতালে ভেন্টিলেটর বিস্ফোরণে বিধ্বংসী আগুন, ৩ নবজাতকের মৃত্যুতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ
অমরাবতীর সরকারি হাসপাতালে বিধ্বংসী আগুন, প্রাণ হারাল ৩ নবজাতক
মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলা মহিলা হাসপাতালের (District Women's Hospital) নিওনেটাল ইন্টেন্সিভ কেয়ার ইউনিটে (NICU) এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিন জন নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোরে হাসপাতালের তিনতলায় অবস্থিত এনআইসিইউ ওয়ার্ডের আউটবর্ন সেকশনে রাখা একটি ভেন্টিলেটর মেশিনে শর্ট সার্কিট বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিস্ফোরণ ঘটে এই অগ্নিকাণ্ডের সূচনা হয় বলে জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ওয়ার্ডটিতে মোট ৩৯ জন শিশু ভর্তি ছিল।
ঘটনার পরপরই অন ডিউটি চিকিৎসক, নার্স ও নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। হাসপাতালে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় চরম আতঙ্ক তৈরি হলেও কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৩৬ জন সদ্যজাতকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হন। তবে অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর দগ্ধ হয়ে তিন নবজাতক প্রাণ হারায়। আরও ছয়টি শিশুকে গুরুতর আহত অবস্থায় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: দুর্ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধারকাজের প্রধান বিষয়সমূহ:
- সোমবারে অমরাবতী জেলা মহিলা হাসপাতালের এনআইসিইউ-তে ভেন্টিলেটর বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ড।
- ওয়ার্ডে থাকা ৩৯ জন শিশুর মধ্যে ৩৬ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ৩ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু।
- মহারাষ্ট্র সরকার নিহতদের পরিবারের জন্য ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছে।
- হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামোগত ত্রুটি খতিয়ে দেখতে কড়া তদন্ত শুরু।
উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন ও ক্ষতিপূরণ ঘোষণা
ঘটনায় তীব্র শোক প্রকাশ করেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ ও স্থানীয় অভিভাবক মন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানঙ্কুলে। মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনাকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক আখ্যা দিয়ে সমগ্র ঘটনার একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মৃত শিশুগুলির পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রকাশ আবিতকার জানান, ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখতে একটি ৭ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (Investigation Panel) গঠন করা হয়েছে, যা আগামী ৮ দিনের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করবে।
অন্যদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক। হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ অডিট (Fire Safety Audit), ওয়াটার স্প্রিঙ্কলার সিস্টেম বিকল থাকা এবং নিম্নমানের মেডিক্যাল সরঞ্জাম ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী নেতৃত্ব। অগ্নিকাণ্ডের আসল কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি কোনো প্রশাসনিক বা কারিগরি গাফিলতি থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।