২০২৯ সালের মধ্যেই দেশে 'এক দেশ, এক নির্বাচন' কার্যকর সম্ভব, স্পষ্ট জানালেন যৌথ সংসদীয় কমিটির প্রধান

২০২৯ সালের মধ্যেই দেশে 'এক দেশ, এক নির্বাচন' কার্যকর সম্ভব, স্পষ্ট জানালেন যৌথ সংসদীয় কমিটির প্রধান

২০২৯ সালের মধ্যে 'এক দেশ, এক নির্বাচন' কার্যকরের বার্তা

দেশজুড়ে সমস্ত লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন একযোগে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে গঠিত যৌথ সংসদীয় কমিটির (JPC) প্রধান স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন যে, ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের মধ্যেই ভারতে 'এক দেশ, এক নির্বাচন' (One Nation, One Election) নীতি কার্যকর করা পুরোপুরি সম্ভব। প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংশোধন ও পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হলে এই ঐতিহাসিক নীতি বাস্তবায়নে কোনো বাধা থাকবে না বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার, বিপুল আর্থিক সাশ্রয় এবং বারবার নির্বাচন আয়োজনের প্রশাসনিক চাপ কমাতেই এই একক নির্বাচনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণের মাধ্যমে একটি সর্বজনগ্রাহ্য রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: যৌথ সংসদীয় কমিটির প্রধানের বক্তব্যের মূল দিকগুলি:

  • ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনগুলি একযোগে করার লক্ষ্যমাত্রা।
  • প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাসের জন্য রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত।
  • ইভিএম (EVM), ভিভিপ্যাট (VVPAT) এবং প্রশাসনিক পরিকাঠামো প্রস্তুতির পরিকল্পনা।
  • বারবার নির্বাচন আয়োজনের ফলে উন্নয়নমূলক কাজে বাধা পড়া রোধ করার বার্তা।

আইনি সংস্কার ও বাস্তবায়নের পথ

একযোগে নির্বাচন বাস্তবায়নের জন্য দেশের সংবিধানে কয়েকটি মূল অনুচ্ছেদে সংশোধন আনা প্রয়োজন। বিশেষ করে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলির কার্যকালের মেয়াদ সমন্বয় করা এবং কোনো রাজ্যে আগাম সরকার পতন হলে করণীয় কী হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট আইনি বিধান তৈরি করা হচ্ছে। সংসদীয় কমিটি এই সংক্রান্ত সমস্ত জটিলতা দূর করতে রিপোর্ট তৈরির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে আসছে।

যৌথ সংসদীয় কমিটির আশা, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে রাজ্যগুলির সম্মতি ও প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরি হয়ে গেলে ২০২৯ সালে দেশবাসী এক সঙ্গেই লোকসভা ও নিজ নিজ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এর ফলে দেশের আমলাতন্ত্র ও জনসম্পদের ব্যবহার আরও কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।