মনুস্মৃতি ও নারীদের অধিকার নিয়ে রাহুলের অভিযোগ খারিজ বিজেপির, সনাতন ধর্মকে নিশানা করার পাল্টা দাবি
মনুস্মৃতি ও নারী অধিকার নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ খারিজ বিজেপির
মনুস্মৃতি ও ভারতীয় নারীদের সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং বিরোধী শিবিরের তোলা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে খারিজ করে দিল ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) শীর্ষ নেতৃত্ব। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের পুনেতে এক ছাত্র সম্মেলনে রাহুল গান্ধী 'মনুস্মৃতি মানসিকতা' এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজের তীব্র সমালোচনা করে দাবি করেন যে, বিজেপি ও আরএসএস নারীদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও মুখ্যমন্ত্রীরা পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন।
বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, বিরোধী দলনেতা নারী ক্ষমতায়নের বাহানায় প্রকৃতপক্ষে সনাতন হিন্দু ধর্ম ও ভারতের ঐতিহ্যকে নিশানা করছেন। ভারতীয় সংবিধানে দেওয়া নারীদের সমস্ত মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: বিজেপির পাল্টা যুক্তি ও বক্তব্যের মূল দিকগুলি:
- মনুস্মৃতিতে নারীদের অসম্মান করার দাবি নস্যাৎ করে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে শ্লোক উদ্ধৃত করে সম্মান প্রদর্শনের কথা তুলে ধরেন।
- আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী নারী অধিকারের অজুহাতে হিন্দু ধর্মকে আক্রমণ করছেন।
- অন্য ধর্মের মধ্যযুগীয় বা পুরুষতান্ত্রিক প্রথা (যেমন শরিয়তি নিয়ম) নিয়ে রাহুলের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি।
- সংবিধানই দেশের একমাত্র চালিকাশক্তি এবং নারীদের সমঅধিকার সুনিশ্চিত করতে বিজেপি সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানানো হয়েছে।
সনাতন ধর্মকে নিশানা করার পাল্টা অভিযোগ
বিজেপির বর্ষীয়ান নেতারা অভিযোগ করেন যে, বিরোধীরা ভারতীয় সংস্কৃতি ও সংবিধানকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা করছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এক বার্তায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, রাহুল গান্ধী যদি সত্যই নারী ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করেন, তবে তিনি কেন অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC)-কে সমর্থন করছেন না, যা সমস্ত ধর্মের নারীদের সমান অধিকার সুনিশ্চিত করবে।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং অন্যান্য শীর্ষ বিজেপি নেতারাও জানান যে, আধুনিক ভারত সম্পূর্ণভাবে ড. বি আর আম্বেদকরের প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়। প্রাচীন কোনো সামাজিক গ্রন্থের দোহাই দিয়ে বর্তমান ভারতীয় নারীদের অগ্রগতি ও সংবিধানপ্রদত্ত অধিকারকে খাটো করার বিরোধীদের এই চেষ্টা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা মাত্র।