NEET-UG আন্দোলনে পুলিশি লাঠিচার্জের তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের উচ্চপর্যায়ের কমিটি ও নোডাল অফিসার নিয়োগ
NEET-UG আন্দোলনে পুলিশি অত্যাচারের তদন্তে সুপ্রিম কোর্ট
নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অত্যাচার, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং লাঠিচার্জের মতো গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি আর সুভাষ রেড্ডির (Justice R. Subhash Reddy) নেতৃত্বে ৫ সদস্যের এক উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি (High-Powered Expert Committee) গঠন করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়ায় আবেদনকারী, রাজ্য ও বিচারবিভাগীয় কমিটির মধ্যে সুসংবদ্ধ যোগাযোগ বজায় রাখতে নোডাল অফিসারদের (Nodal Officers) নিয়োগ করা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত ৩ বিচারপতির বেঞ্চ এই তাৎপর্যপূর্ণ আদেশ দেন। দিল্লির জন্তর মন্তরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের টিয়ার গ্যাস, প্যালেট গান, লাঠিচার্জ এবং মহিলা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের খবরকে সুপ্রিম কোর্ট অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও তদন্ত কমিটির মূল বিষয়সমূহ:
- শীর্ষ আদালতের প্রাক্তন বিচারপতি আর সুভাষ রেড্ডির নেতৃত্বে গঠিত ৫ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন।
- সমন্বয় ও যোগাযোগের সুবিধার জন্য আইনজীবী আশিমা মন্ডলা, দক্ষ কাদিয়ান ও আস্থা সিংহকে নোডাল অফিসার নিয়োগ।
- মহিলা শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক হেনস্থার অভিযোগকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তদন্তের নির্দেশ।
- আন্দোলনস্থলের সিসিটিভি (CCTV), বডি-ক্যামেরা ফুটজ ও ড্রোন ভিডিও সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ।
নোডাল অফিসার নিয়োগ ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ
সর্বোচ্চ আদালতের এই ঐতিহাসিক নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, গঠিত তদন্ত কমিটি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের যাবতীয় অভিযোগ নথিবদ্ধ করবে। নিয়োগপ্রাপ্ত নোডাল অফিসাররা শিক্ষার্থী ও আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে সমস্ত নথিপত্র এবং প্রমাণাদি সংগ্রহ করে সুসংগঠিতভাবে কমিটির নিকট পেশ করবেন।
কমিটি কেবল পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগই নয়, বরং আন্দোলনের সময় আহত পুলিশ কর্মী এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখবে। নির্দেশে জানানো হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হবে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন কোনও নিরীহ শিক্ষার্থী যেন আইনি বা প্রশাসনিক হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করবে শীর্ষ আদালত⏹।