‘বন্দে মাতরম’ অবমাননা শাস্তিযোগ্য অপরাধ, বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি
‘বন্দে মাতরম’কে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি
জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’কে আইনি সুরক্ষার আওতায় আনার সংশোধনী বিলে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ১১ অগস্ট ২০২৬ সম্মতি দিয়েছেন বলে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী। এর ফলে সংসদে পাস হওয়া Prevention of Insults to National Honour Amendment Act, 2026 কার্যকর হওয়ার পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। সংসদের বাদল অধিবেশনে রাজনৈতিক বিরোধিতা ও হট্টগোলের মধ্যেই সংশোধনী বিলটি অনুমোদিত হয়েছিল।
কী পরিবর্তন আনছে নতুন আইন?
১৯৭১ সালের Prevention of Insults to National Honour আইনে এত দিন জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর অবমাননার বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষার বিধান ছিল। সংশোধনীর মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম’কেও সেই আইনি কাঠামোর আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। ফলে জাতীয় গানটির ইচ্ছাকৃত অবমাননা বা এর পরিবেশনে বাধা দেওয়ার মতো আচরণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ায় বাধা দিলে, গানটির অবমাননা করলে অথবা গান পরিবেশনের সময় সমাবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা দু’ধরনের শাস্তিই হতে পারে। একই ধরনের অপরাধ পুনরায় করলে ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি অনুষ্ঠানে নতুন প্রোটোকল
নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের প্রোটোকল নিয়েও নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় গান এবং জাতীয় সঙ্গীত একসঙ্গে পরিবেশন করা হলে ‘বন্দে মাতরম’ আগে গাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গানটির ছয়টি স্তবক পরিবেশনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড বলে জানানো হয়েছে। গান পরিবেশনের সময় উপস্থিতদের সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার প্রোটোকলের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
বিরোধীদের আপত্তি
বিলটি নিয়ে বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর বিশেষ করে পুরো ছয়টি স্তবক নির্দিষ্ট সময় ধরে পরিবেশনের বাস্তবতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড ধরে সবাইকে দাঁড়িয়ে থাকার বাধ্যবাধকতা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাস্তব সমস্যা তৈরি করতে পারে।
বিরোধীদের একাংশ ১৯৫০ সালের সংবিধান সভার সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গও সামনে এনেছে। তাঁদের বক্তব্য, তৎকালীন সভাপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুটি স্তবককে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে পুরো ছয়টি স্তবকের জন্য নতুন প্রোটোকল নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ডিএমকে-সহ কয়েকটি বিরোধী দলও বিলটির সমালোচনা করেছে। তাঁদের অভিযোগ, জাতীয়তাবাদের প্রশ্নকে সামনে রেখে সরকারের এই উদ্যোগের মধ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তবে এই অভিযোগের সঙ্গে সরকার একমত নয়।
সরকারের বক্তব্য কী?
কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘বন্দে মাতরম’ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিজেপি নেতা সম্বিত পাত্র এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই গানটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে সংশোধনীকে দীর্ঘদিনের একটি ঘাটতি পূরণের পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। সরকারের বক্তব্য, ‘বন্দে মাতরম’-এর মর্যাদা ও সুরক্ষা আরও স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করাই এই আইনি পরিবর্তনের উদ্দেশ্য।
স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে কী হতে পারে?
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে দিল্লির লাল কেল্লায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন আইনি সুরক্ষা এবং প্রোটোকল কার্যকর হওয়ার পর এই পরিবেশনা বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশিকা ও অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত ব্যবস্থাপনাই কার্যকর প্রোটোকল নির্ধারণ করবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: নতুন আইনের আওতায় কোন আচরণ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট বিধান কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা সরকারি আইন ও প্রোটোকলের নির্দিষ্ট ভাষার ভিত্তিতেই বিবেচনা করতে হবে। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর সংশোধনীটি আইনি কাঠামোর অংশ হয়েছে বলে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে।