শহরে অগ্নিকাণ্ডের জের, কলকাতার ১৩টি হোটেল বন্ধের নির্দেশ এবং ফায়ার সেফটি না থাকায় ৫০টিতে নোটিস
কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডের জের, ১৩টি হোটেল বন্ধের নির্দেশ
শহরের বিভিন্ন হোটেল ও গেস্ট হাউসে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কলকাতার মোট ১৩টি হোটেল অবিলম্বে বন্ধ রাখার কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ বা ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগে আরও প্রায় ৫০টি হোটেলকে শো-কজ নোটিস পাঠানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে শহরের বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যৌথভাবে বিশেষ পরিদর্শন অভিযান চালানো হয়। ফায়ার সার্ভিস, পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা শহরের বিভিন্ন হোটেলের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন। তদন্তে নেমে দেখা যায়, বহু হোটেলেই ফায়ার লাইসেন্স ও জরুরি নিরাপত্তার নিয়মকানুন সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হচ্ছে, যা চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: শহরের হোটেলগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতি থাকায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়াতে ১৩টি হোটেল বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ৫০টি হোটেলকে নোটিস দিয়ে জবাব তলব করা হয়েছে।
- ফায়ার সেফটি আইন না মানায় কলকাতার ১৩টি হোটেল বন্ধের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- নিরাপত্তার ত্রুটি থাকায় আরও প্রায় ৫০টি হোটেলকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে।
- প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ অভিযানে হোটেলের অন্দরের ত্রুটিগুলি প্রকাশ্যে এসেছে।
- নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরাপত্তা প্রোটোকল পূরণ না করলে হোটেলগুলির লাইসেন্স বাতিল হতে পারে।
প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও পর্যটন মহল
প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপে হোটেল মালিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পর্যটন মরশুমের আগে এই ধরনের পদক্ষেপে ব্যবসায়িক মহলে সাময়িক ধাক্কা লাগলেও নিরাপত্তার বিষয়টিকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য প্রতিটি হোটেল কর্তৃপক্ষকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
আগামী দিনেও শহরের অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও লজগুলিতে এই ধরনের আকস্মিক পরিদর্শন অভিযান জারি থাকবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের জীবন রক্ষা ও সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।