যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ পড়ুয়ার একাডেমিক ও ব্যক্তিগত রেকর্ড চাইল কলকাতা পুলিশ, বাড়ছে আইনি চাপ
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ পড়ুয়ার রেকর্ড তলব করল কলকাতা পুলিশ
ক্যাম্পাসে ছাত্র সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনায় তদন্তের গতি বাড়িয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) ১৮ জন নির্দিষ্ট পড়ুয়ার সম্পূর্ণ একাডেমিক ও ব্যক্তিগত রেকর্ড তলব করল কলকাতা পুলিশ। লালবাজারের নির্দেশ মতো যাদবপুর থানার পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জিব ভট্টাচার্যকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে চলা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত অগাস্ট মাসে ক্যাম্পাসে দুই ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনার পর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে যে এফআইআর (FIR) রুজু করা হয়েছিল, তারই তদন্তের স্বার্থে এই পদক্ষেপ। সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখে মোট ১৮ জন ছাত্র-ছাত্রীকে চিহ্নিত করেছেন তদন্তকারীরা। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ৯৪ ধারায় এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে, যেখানে অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াদের বিশদ তথ্য চেয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৯৪ ধারা অনুযায়ী প্রেরিত এই নোটিশে নির্দিষ্ট ১৮ জন পড়ুয়ার পূর্ণাঙ্গ নাম, বিভাগ, সেমেস্টার, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং যোগাযোগ নম্বর আগামী কয়েকদিনের মধ্যে জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- তলব করা পড়ুয়ার সংখ্যা: ১৮ জন নির্দিষ্ট শিক্ষার্থী (যাঁদের মধ্যে বাম ও এবিভিপি উভয় সংগঠনের সঙ্গেই যুক্ত থাকার তথ্য মিলছে)
- প্রশাসনিক পদক্ষেপ: যাদবপুর থানার পক্ষ থেকে উপাচার্যের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি প্রেরণ
- আইনি ধারা: বিএনএসএস (BNSS)-এর ৯৪ ধারা অনুযায়ী তথ্য তলব এবং নির্দিষ্ট ধারায় এফআইআর
- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিক্রিয়া: উপাচার্য জানিয়েছেন যে পুলিশের চাওয়া তথ্য প্রস্তুত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে
তদন্তের অগ্রগতি এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সিসিটিভি ফুটেজে চিহ্নিত এই পড়ুয়ারা সরাসরি গণ্ডগোল ও সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এই ১৮ জন পড়ুয়ার বিশদ তথ্য হাতে পাওয়ার পরই তাদের লালবাজারে বা থানায় তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য সরবরাহ না করলে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে নোটিশে।
শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং অপরাধমূলক ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও, এই ঘটনায় ছাত্র মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলির পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মাঝেই পুলিশের এই কড়া পদক্ষেপে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ উত্তপ্ত।