ঘরোয়া হিংসা থেকে সুরক্ষা: লিভ-ইন সম্পর্কে নারীদের সুরক্ষায় আইনের কী কী ঢাল রয়েছে?

ঘরোয়া হিংসা থেকে সুরক্ষা: লিভ-ইন সম্পর্কে নারীদের সুরক্ষায় আইনের কী কী ঢাল রয়েছে?

লিভ-ইন সম্পর্ক ও ঘরোয়া হিংসা প্রতিরোধ আইন

একসময় মনে করা হতো যে ২০০৫ সালের 'গার্হস্থ্য হিংসা থেকে নারীদের সুরক্ষা আইন' (Protection of Women from Domestic Violence Act, 2005) কেবল বিবাহিত নারীদের জন্যই প্রযোজ্য। কিন্তু ভারতের সর্বোচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্ট একাধিক রায়ে স্পষ্ট করেছে যে, বিয়ের পিঁড়িতে না বসলেও কোনো নারী যদি একজন পুরুষের সাথে দীর্ঘদিন ধরে একই ছাদের নিচে 'বিয়ের মতো সম্পর্কে' (Relationship in the nature of marriage) বসবাস করেন, তবে তিনিও এই আইনের সম্পূর্ণ আইনি সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য।

লিভ-ইন সম্পর্কে কোনো নারী যদি সঙ্গী বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের দ্বারা শারীরিক, মানসিক, আর্থিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হন, তবে নীরব না থেকে আইনের আশ্রয়ে সুরক্ষা পাওয়া তাঁর অন্যতম সাংবিধানিক অধিকার।

আইন অনুযায়ী লিভ-ইন সম্পর্কে নারীদের প্রধান আইনি ঢালসমূহ:

  • সুরক্ষা নির্দেশ (Protection Order): শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন বন্ধে এবং ভুক্তভোগী নারী বা তাঁর স্বজনদের ওপর হামলা বা যোগাযোগ নিষিদ্ধ করতে আদালতের নির্দেশ।
  • আবাসনের অধিকার (Residence Order): সম্পর্ক ভেঙে গেলেও বা বিবাদ চলাকালীন ভুক্তভোগী নারীকে যৌথ গৃহ (Shared Household) থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা যাবে না।
  • আর্থিক খোরপোষ (Monetary Relief): চিকিৎসার খরচ, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বিচ্ছেদের পর সঙ্গী থেকে মাসিক খোরপোষ বা আর্থিক সাহায্য পাওয়ার সুযোগ।
  • সন্তানের অস্থায়ী হেফাজত (Custody Order): লিভ-ইন সম্পর্কের ফলে জন্মানো সন্তানের সাময়িক রক্ষণাবেক্ষণ ও হেফাজত মায়ের কাছে রাখা।
  • ক্ষতিপূরণের নির্দেশ (Compensation Order): মানসিক যন্ত্রণা, অবমাননা ও শারীরিক আঘাতের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করা।

কখন একটি লিভ-ইন সম্পর্ক এই সুরক্ষার আওতায় আসে?

যেকোনো স্বল্পমেয়াদী পরিচয় বা কেবল সাময়িক সহবাসই এই আইনের আওতায় খোরপোষ বা সুরক্ষার সুবিধা পায় না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সম্পর্কটিকে বিয়ের সমতুল্য হতে হলে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়—উভয় সঙ্গীকে প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে, সুদীর্ঘ সময় ধরে যৌথভাবে বসবাস করতে হবে, সমাজে নিজেদের স্বামী-স্ত্রীর মতো উপস্থাপন করতে হবে এবং যৌথ গৃহস্থালি পরিচালনা করতে হবে।

এই শর্তাবলী পূরণ হলে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা নারী সরাসরি গার্হস্থ্য হিংসা প্রতিরোধ আইনের অধীনে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা দাবি করতে পারেন।

অন্যায় বা নির্যাতনের শিকার হলে কীভাবে আইনি আশ্রয় নেবেন?

লিভ-ইন সম্পর্কের মধ্যে যেকোনো ধরনের সহিংসতার সম্মুখীন হলে বিলম্ব না করে দ্রুত আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা দরকার। ভুক্তভোগী নারী সরাসরি নিজ জেলার সুরক্ষা কর্মকর্তা (Protection Officer), স্থানীয় পুলিশ থানা বা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আবেদন করতে পারেন। জরুরি পরিস্থিতিতে সাহায্য পেতে জাতীয় হেল্পলাইন ১৮১ (Women Helpline 181)-এ সরাসরি ফোন করা সম্ভব।

এছাড়া জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের (DLSA) মাধ্যমে বিনামূল্যে সরকারি আইনজীবীর আইনি পরামর্শ ও বিচার পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। আইন প্রতিটি নারীর নিরাপত্তা ও অধিকার সুনিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।