তথ্য অধিকার আইন (RTI): সরকারি দপ্তরের তথ্য পেতে কীভাবে আবেদন করবেন
তথ্য অধিকার আইন কী?
ভারতে নাগরিকদের সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৫ বা Right to Information Act, 2005 গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই আইনের মাধ্যমে যোগ্য কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা নির্দিষ্ট তথ্য চাওয়া যায় এবং আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার উত্তর পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
RTI-এর মাধ্যমে সরকারি সিদ্ধান্ত, নথি, আদেশ, প্রকল্পের অগ্রগতি, সরকারি খরচ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে থাকা রেকর্ড সম্পর্কে তথ্য চাওয়া যেতে পারে। তবে আইন অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ থেকে অব্যাহতি পেতে পারে।
কার কাছে RTI আবেদন করবেন?
যে সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে সংশ্লিষ্ট তথ্য রয়েছে, সেই দপ্তরের Public Information Officer বা PIO-এর কাছে আবেদন করা যায়। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে Central Public Information Officer এবং রাজ্য সরকারি কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে State Public Information Officer দায়িত্ব পালন করেন।
আবেদন করার আগে কোন দপ্তরের কাছে তথ্যটি রয়েছে তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। ভুল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন গেলে প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে, যদিও আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আবেদন অন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও রয়েছে।
RTI আবেদন কীভাবে করবেন?
RTI আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট কোনও জটিল ফরম্যাট সব ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়। আবেদন লিখিতভাবে বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনলাইনে করা যেতে পারে। আবেদনে আবেদনকারীর নাম, যোগাযোগের তথ্য এবং কোন তথ্য প্রয়োজন তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত।
প্রশ্ন করার সময় অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ ব্যাখ্যার বদলে কোন নথি, রেকর্ড, আদেশ বা তথ্য প্রয়োজন তা পরিষ্কারভাবে লেখা ভালো। একটি আবেদনে একাধিক সম্পর্কিত তথ্য চাওয়া যেতে পারে, তবে তথ্যগুলি নির্দিষ্ট ও সহজে শনাক্তযোগ্য হলে উত্তর পাওয়া সহজ হয়।
- সঠিক সরকারি কর্তৃপক্ষ নির্বাচন করুন
- PIO-এর উদ্দেশে আবেদন লিখুন
- প্রয়োজনীয় তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন
- প্রযোজ্য আবেদন ফি জমা দিন
- আবেদন জমা দেওয়ার প্রমাণ সংরক্ষণ করুন
- অনলাইনে আবেদন করলে Application Number সংরক্ষণ করুন
- প্রাপ্ত উত্তরের কপি নিরাপদে রাখুন
RTI আবেদনের ফি কত?
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে সাধারণ RTI আবেদনের নির্ধারিত ফি বর্তমানে ₹১০। তবে রাজ্য সরকারি কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে আবেদন ফি ও পেমেন্টের পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট রাজ্যের RTI Rules অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। নির্ধারিত শ্রেণির আবেদনকারীরা, যেমন BPL পরিবারের ব্যক্তিরা, প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী আবেদন ফি থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন।
তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ফি এবং পেমেন্টের পদ্ধতি যাচাই করা উচিত।
কত দিনের মধ্যে RTI-এর উত্তর পাওয়া যায়?
সাধারণ ক্ষেত্রে PIO-কে আবেদন পাওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তথ্য দিতে বা তথ্য না দেওয়ার কারণ জানাতে হয়। তবে জীবন বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্যের ক্ষেত্রে আইনে দ্রুততর সময়সীমার বিধান রয়েছে।
কোনও আবেদন অন্য সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানান্তরের প্রয়োজন হলে সেই স্থানান্তর সাধারণত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করতে হয়। তথ্য না পাওয়া, অসম্পূর্ণ তথ্য পাওয়া বা নির্ধারিত সময়ে উত্তর না এলে আবেদনকারী পরবর্তী পর্যায়ে আপিল করতে পারেন।
তথ্য না পেলে প্রথম আপিল কীভাবে করবেন?
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তর না পাওয়া, তথ্য অসম্পূর্ণ হওয়া বা PIO তথ্য দিতে অস্বীকার করলে আবেদনকারী First Appellate Authority বা FAA-এর কাছে প্রথম আপিল করতে পারেন। সাধারণভাবে PIO-এর সিদ্ধান্ত বা উত্তর পাওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপিল করতে হয়।
প্রথম আপিলের সঙ্গে মূল RTI আবেদনের কপি, PIO-এর উত্তর থাকলে তার কপি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করা ভালো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রথম আপিলের নিষ্পত্তি না হলে বা সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দ্বিতীয় আপিলের সুযোগ রয়েছে।
দ্বিতীয় আপিল ও অভিযোগ
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে তথ্য সংক্রান্ত বিরোধে Central Information Commission এবং রাজ্য সরকারি কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট State Information Commission-এর কাছে দ্বিতীয় আপিল বা প্রযোজ্য অভিযোগ করা যেতে পারে। কোন ক্ষেত্রে আপিল এবং কোন ক্ষেত্রে অভিযোগ করা যাবে তা ঘটনার ধরন ও আইনের বিধানের উপর নির্ভর করে।
RTI-এর মাধ্যমে তথ্য না দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে PIO-এর বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে জরিমানা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয় না; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়।
বেসরকারি সংস্থার তথ্য কি RTI-তে পাওয়া যায়?
RTI মূলত Public Authority বা সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা তথ্য পাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। সাধারণভাবে কোনও সম্পূর্ণ বেসরকারি সংস্থার কাছে সরাসরি RTI আবেদন করা যায় না। তবে কোনও বেসরকারি সংস্থার এমন তথ্য যদি কোনও Public Authority-এর কাছে থাকে এবং আইন অনুযায়ী তা প্রকাশযোগ্য হয়, তাহলে সেই সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
তাই কোনও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য চাইলে আগে দেখতে হবে সেই তথ্য কোনও সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে আইনগতভাবে সংরক্ষিত বা উপলব্ধ রয়েছে কি না।
RTI আবেদনে কী ধরনের প্রশ্ন করা ভালো?
RTI-তে মতামত, ব্যাখ্যা বা ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত জানতে চাওয়ার পরিবর্তে বিদ্যমান রেকর্ড, নথি, রিপোর্ট, আদেশ, চিঠিপত্র বা সরকারি তথ্য চাওয়া বেশি কার্যকর। উদাহরণ হিসেবে কোনও প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে, নির্দিষ্ট আদেশের কপি বা কোনও আবেদন নিয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এই ধরনের বিদ্যমান তথ্য চাওয়া যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, RTI আইন নাগরিকদের সরকারি তথ্য জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি মাধ্যম। সঠিক সরকারি কর্তৃপক্ষ নির্বাচন করে স্পষ্টভাবে তথ্য চেয়ে আবেদন করা, প্রযোজ্য ফি জমা দেওয়া এবং আবেদন জমা দেওয়ার প্রমাণ সংরক্ষণ করা জরুরি। নির্ধারিত সময়ে তথ্য না পেলে First Appeal এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী আপিলের পথও রয়েছে। তবে কোন তথ্য প্রকাশযোগ্য এবং কোন তথ্য আইনের আওতায় অব্যাহতি পায়, তা নির্ভর করে RTI Act-এর নির্দিষ্ট বিধানের উপর।