দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখার এবং মুখের দুর্গন্ধ দূর করার কার্যকরী উপায়
দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখার এবং মুখের দুর্গন্ধ দূর করার কার্যকরী উপায়
দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখা শুধু সুন্দর হাসির জন্য নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার না করলে প্লাক ও ব্যাকটেরিয়া জমে দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির প্রদাহ এবং মুখের দুর্গন্ধের মতো সমস্যা হতে পারে। সঠিক দৈনন্দিন যত্নের মাধ্যমে এসব সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।
মুখের দুর্গন্ধ কখনও শুধু মুখের অপরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কারণে হয় না। মাড়ির রোগ, দাঁতের ক্ষয়, মুখ শুষ্ক থাকা, ধূমপান, কিছু খাবার বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণেও দুর্গন্ধ হতে পারে।
দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখার ১০টি কার্যকরী উপায়
১. দিনে দুইবার দাঁত ব্রাশ করুন
সকালে এবং রাতে ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে প্রায় দুই মিনিট ধরে দাঁত ব্রাশ করুন। খুব জোরে ব্রাশ না করে নরম ব্রাশ ব্যবহার করে দাঁতের সব পৃষ্ঠ পরিষ্কার করার চেষ্টা করুন।
২. নিয়মিত ফ্লস বা দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করুন
শুধু ব্রাশ করলে দাঁতের মাঝখানে আটকে থাকা খাবার ও প্লাক সম্পূর্ণ পরিষ্কার নাও হতে পারে। প্রতিদিন ডেন্টাল ফ্লস বা উপযুক্ত ইন্টারডেন্টাল ক্লিনার ব্যবহার করলে দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার রাখা সহজ হয়।
৩. জিহ্বা পরিষ্কার রাখুন
জিহ্বার ওপর ব্যাকটেরিয়া ও আবরণ জমে মুখের দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। প্রতিদিন আলতোভাবে জিহ্বা পরিষ্কার করুন। জোরে ঘষে জিহ্বায় ক্ষত করবেন না।
৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
মুখ শুষ্ক থাকলে মুখের দুর্গন্ধের সমস্যা বাড়তে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করলে মুখ আর্দ্র রাখতে এবং মুখের স্বাভাবিক পরিষ্কার প্রক্রিয়ায় সাহায্য করতে পারে।
৫. অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টি খাবার কমান
চিনি ও মিষ্টি খাবার অতিরিক্ত খেলে দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে বারবার মিষ্টি বা চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণের অভ্যাস কমানো ভালো।
৬. ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য এড়িয়ে চলুন
ধূমপান ও তামাক মাড়ির রোগ, দাঁতের ক্ষতি এবং দীর্ঘস্থায়ী মুখের দুর্গন্ধের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এসব পণ্য এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
৭. স্বাস্থ্যকর খাবার খান
শাকসবজি, ফল, দুধ বা উপযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার, ডাল, মাছ, ডিম ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার দাঁত ও মাড়ির সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। অতিরিক্ত চিনি ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে দিন।
৮. দাঁত দিয়ে শক্ত জিনিস ভাঙবেন না
বরফ, শক্ত বাদামের খোসা বা অন্য কোনও শক্ত বস্তু দাঁত দিয়ে ভাঙার চেষ্টা করলে দাঁত ফেটে বা ভেঙে যেতে পারে। বোতলের ঢাকনা বা প্যাকেট খোলার জন্যও দাঁত ব্যবহার করবেন না।
৯. নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ করুন
নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে দাঁত ও মাড়ি পরীক্ষা করালে দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির রোগ বা প্লাকের মতো সমস্যা শুরুতেই শনাক্ত করা সম্ভব। প্রয়োজন অনুযায়ী পেশাদার দাঁত পরিষ্কার করানোও উপকারী হতে পারে।
১০. ব্রাশ ও টুথব্রাশের যত্ন নিন
টুথব্রাশ পরিষ্কার জায়গায় রাখুন এবং ব্রাশের ব্রিসল ক্ষয়ে গেলে বা সাধারণত কয়েক মাস পর পর নতুন ব্রাশ ব্যবহার করুন। একই ব্রাশ অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না।
মুখের দুর্গন্ধ হওয়ার সাধারণ কারণ
- দাঁত ও জিহ্বা ঠিকমতো পরিষ্কার না করা
- দাঁতের ফাঁকে খাবার জমে থাকা
- মাড়ির রোগ
- দাঁতের ক্ষয় বা ইনফেকশন
- মুখ শুষ্ক থাকা
- ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য
- পেঁয়াজ, রসুনসহ কিছু খাবার
- কিছু ওষুধ বা শারীরিক সমস্যা
মুখের দুর্গন্ধ কমানোর সহজ উপায়
- দিনে দুইবার ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করুন
- প্রতিদিন দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করুন
- জিহ্বা নিয়মিত পরিষ্কার করুন
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন
- ধূমপান ও তামাক এড়িয়ে চলুন
- দীর্ঘসময় না খেয়ে মুখ শুকিয়ে রাখবেন না
- চিনিমুক্ত চুইংগাম ব্যবহার করলে লালা নিঃসরণ বাড়তে পারে
- দুর্গন্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন
মাউথওয়াশ কি মুখের দুর্গন্ধ দূর করে?
কিছু মাউথওয়াশ সাময়িকভাবে মুখের দুর্গন্ধ কমাতে এবং মুখের ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। তবে মাউথওয়াশ দাঁত ব্রাশ ও দাঁতের ফাঁক পরিষ্কারের বিকল্প নয়। দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধের মূল কারণ খুঁজে বের করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে কী করবেন?
ব্রাশ করার সময় নিয়মিত মাড়ি থেকে রক্ত পড়া মাড়ির প্রদাহ বা অন্য কোনও সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। রক্ত পড়ছে বলে ব্রাশ করা বন্ধ না করে নরম ব্রাশ দিয়ে আলতোভাবে পরিষ্কার করুন এবং সমস্যা চলতে থাকলে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন।
কখন দ্রুত ডেন্টিস্টের কাছে যাবেন?
দাঁতে তীব্র ব্যথা, মুখ বা মাড়ি ফুলে যাওয়া, পুঁজ, দাঁত নড়বড়ে হয়ে যাওয়া, দীর্ঘদিন মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, মুখে ঘা দীর্ঘদিন না শুকানো বা নিয়মিত মুখের দুর্গন্ধ থাকলে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শেষ কথা
দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত ব্রাশ, দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার, জিহ্বার যত্ন, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ। মুখের দুর্গন্ধ বারবার হলে শুধু সুগন্ধি মাউথওয়াশ ব্যবহার না করে এর কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। সঠিক মুখের পরিচর্যার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন।