হার্ট অ্যাটাকের আগের সতর্ক সংকেত: কোন লক্ষণগুলো কখনও অবহেলা করবেন না
হার্ট অ্যাটাক কী?
হার্ট অ্যাটাক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (Myocardial Infarction) হলো এমন একটি জরুরি চিকিৎসাজনিত অবস্থা, যেখানে হৃদপেশিতে রক্ত সরবরাহকারী ধমনির একটি হঠাৎ আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হৃদপেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে না পেরে ক্ষতি হতে শুরু করে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই হার্ট অ্যাটাকের আগের সতর্ক সংকেতগুলো সম্পর্কে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হার্ট অ্যাটাকের আগের প্রধান সতর্ক সংকেত
সব মানুষের ক্ষেত্রে একই ধরনের লক্ষণ দেখা যায় না। কারও লক্ষণ হঠাৎ শুরু হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন আগে থেকেই সতর্ক সংকেত দেখা দিতে পারে। নিচের লক্ষণগুলোর এক বা একাধিক থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
- বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী অনুভূতি, জ্বালাপোড়া বা তীব্র ব্যথা
- ব্যথা বাম হাত, দুই হাত, কাঁধ, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়া
- শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা হাঁপিয়ে যাওয়া
- হঠাৎ ঠান্ডা ঘাম হওয়া
- বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
- মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
- কোনো কারণ ছাড়াই অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বিশেষ করে নারী ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে
কারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন?
কিছু মানুষের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। ঝুঁকির কারণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।
- উচ্চ রক্তচাপ
- ডায়াবেটিস
- উচ্চ কোলেস্টেরল
- ধূমপান বা তামাকজাত পণ্য ব্যবহার
- অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা
- নিয়মিত শরীরচর্চার অভাব
- পরিবারে অল্প বয়সে হৃদরোগের ইতিহাস
- অতিরিক্ত মানসিক চাপ
হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহ হলে কী করবেন?
যদি বুকের ব্যথা ৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঘাম, বমি বা অজ্ঞান হওয়ার মতো উপসর্গ থাকে, তাহলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিন। নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পরিবর্তে সম্ভব হলে অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন বা অন্য কারও সহায়তা নিন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলে হৃদপেশির ক্ষতি কমানোর সম্ভাবনা বাড়ে।
হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে কী করবেন?
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদিও সব ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়, তবু কিছু অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে উপকারী হতে পারে।
- সুষম ও কম লবণযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করুন।
- সপ্তাহে নিয়মিত শরীরচর্চা করুন।
- ধূমপান সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করুন।
- রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
- পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ নিয়মিত গ্রহণ করুন।
কখন অবিলম্বে হাসপাতালে যাবেন?
বুকের তীব্র চাপ বা ব্যথা, ব্যথা হাত বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়া, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা উপসর্গ কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে এটিকে জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করুন। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা পূর্বে হৃদরোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এসব লক্ষণকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়।
উপসংহার
হার্ট অ্যাটাকের আগের সতর্ক সংকেত দ্রুত শনাক্ত করা জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বুকের ব্যথা বা অস্বাভাবিক কোনো লক্ষণকে গ্যাস্ট্রিক বা সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নিন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা এবং ঝুঁকির কারণ নিয়ন্ত্রণে রাখলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।