বিদ্যুৎ বিল কমাতে রুফটপ সোলার, কত খরচ ও কীভাবে মিলবে কেন্দ্রীয় ভর্তুকি

বিদ্যুৎ বিল কমাতে রুফটপ সোলার, কত খরচ ও কীভাবে মিলবে কেন্দ্রীয় ভর্তুকি

বিদ্যুৎ বিল কমাতে রুফটপ সোলার, কীভাবে শুরু করবেন?

ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ বিলের চাপ কমাতে অনেকেই এখন বাড়ির ছাদে রুফটপ সোলার বা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসানোর কথা ভাবছেন। এটি যেমন দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ খরচ কমাতে সাহায্য করে, তেমনই পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহারও বাড়ায়। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘পিএম সূর্য ঘর’ প্রকল্পের মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ভর্তুকির সুবিধাও পাওয়া যায়। তবে সোলার ব্যবস্থা বসানোর আগে ছাদের ধরন, সূর্যের আলো, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণসহ একাধিক বিষয় বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র বাড়ির আকার বা ছাদের পরিমাণ দেখে সোলার সিস্টেমের ক্ষমতা নির্ধারণ করা উচিত নয়। বরং মাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহার, বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ, ছাদে সারাদিন পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পৌঁছায় কি না এবং আশপাশে এমন কোনও বাধা রয়েছে কি না, যা প্যানেলের উপর ছায়া ফেলতে পারে—এসব বিষয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কলকাতার নবায়নযোগ্য শক্তি সংস্থা 'গীতাঞ্জলি সোলার'-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও অনুপম বোরাল জানিয়েছেন, কোনও গ্রাহকের জন্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা পরিকল্পনার ক্ষেত্রে প্রথমেই তাঁর মাসিক বিদ্যুৎ খরচের হিসাব দেখা হয়। অনেকেই প্রতি মাসে কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন তা জানেন না, কিন্তু বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা থাকে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় সোলার সিস্টেমের ক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও পরিবারের মাসিক বিদ্যুৎ বিল যদি প্রায় ২,০০০ টাকা হয়, তাহলে সাধারণভাবে ২-কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি রুফটপ সোলার সিস্টেম যথেষ্ট হতে পারে। তবে সারা বছরের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরণও বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে এসির ব্যবহার বাড়ার কারণে বিদ্যুৎ খরচ অনেক বেড়ে যায়।

এই কারণে বিশেষজ্ঞরা গড় বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব করেন। উদাহরণ হিসেবে, যদি গ্রীষ্মকালে বিদ্যুৎ বিল ৪,০০০ টাকা এবং শীতকালে ২,০০০ টাকা হয়, তাহলে গড় হিসাব ধরে ৩-কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেমের পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিবর্তনের বিষয়টিও কিছুটা বিবেচনায় রাখা সম্ভব হয়।

সোলার সিস্টেম বসানোর ক্ষেত্রে ছাদের জায়গাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে ২-কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি সিস্টেম বসাতে প্রায় ২০০ বর্গফুট কংক্রিটের ছাদের প্রয়োজন হয়। জিএসটি ছাড়া এমন একটি সিস্টেম স্থাপনে প্রায় ১.৫ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে। এটি এককালীন বিনিয়োগ হলেও দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে টিনের ছাদেও কার্যকরভাবে সোলার প্যানেল বসানো সম্ভব হয়। কারণ টিনের কাঠামোতে প্যানেলগুলো তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি স্থাপন করা যায়। তবে শুধু ছাদের আয়তন থাকলেই হবে না, সেখানে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পৌঁছানোও নিশ্চিত করতে হবে।

অনুপম বোরালের বক্তব্য অনুযায়ী, সোলার প্যানেলের উপর সরাসরি সূর্যের আলো পড়া অত্যন্ত জরুরি। একটি সারিতে থাকা প্যানেলের মধ্যে কোনও একটি আংশিক ছায়ার মধ্যে থাকলেও পুরো সারির বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই ইনস্টলেশনের আগে আশপাশে উঁচু ভবন, গাছ বা অন্য কোনও স্থাপনা থেকে ছায়া পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হয়।

অন্যদিকে, বহুতল আবাসনের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। ব্যক্তিগতভাবে সোলার প্যানেল বসানোর জন্য পর্যাপ্ত ছাদের জায়গা না থাকলে রুফটপ সোলার স্থাপন সম্ভব নাও হতে পারে। তবে আবাসনের সব ফ্ল্যাট মালিকের সম্মতি থাকলে যৌথভাবে ব্যবহৃত ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের সুযোগ থাকতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
  • পিএম সূর্য ঘর প্রকল্পের আওতায় নির্দিষ্ট শর্তে কেন্দ্রীয় ভর্তুকির সুবিধা পাওয়া যায়।
  • মাসিক প্রায় ২,০০০ টাকার বিদ্যুৎ বিল হলে সাধারণভাবে ২-কিলোওয়াট সোলার সিস্টেমের প্রয়োজন হতে পারে।
  • ২-কিলোওয়াট সিস্টেম বসাতে প্রায় ২০০ বর্গফুট ছাদের প্রয়োজন হয়।
  • জিএসটি ছাড়া ২-কিলোওয়াট সিস্টেম স্থাপনের আনুমানিক খরচ প্রায় ১.৫ লক্ষ টাকা।
  • সরাসরি সূর্যের আলো এবং ছায়ামুক্ত ছাদ কার্যকর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অতিরিক্ত তথ্য

বিশেষজ্ঞদের মতে, রুফটপ সোলার ব্যবস্থা বসানোর আগে নিজের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরণ, ছাদের অবস্থা এবং সূর্যালোকের প্রাপ্যতা সম্পর্কে সঠিক মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। উপযুক্ত পরিকল্পনা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সিস্টেম নির্বাচন করলে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ খরচ কমানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব।