অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার আগে নিজেকে যে ৭টি প্রশ্ন করা দরকার
নতুন ঋণ নেওয়ার আগে কেন ভাববেন?
প্রয়োজনের সময়ে ঋণ আর্থিক চাপ সামলানোর একটি উপায় হতে পারে। কিন্তু ইতিমধ্যে কোনও লোন বা ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া থাকলে তার ওপর নতুন ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত আরও সতর্কভাবে নিতে হয়। নতুন EMI যোগ হওয়ার সঙ্গে মাসিক খরচ বাড়ে এবং আয় কমে গেলে বা কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে ঋণ পরিশোধের চাপও বেড়ে যেতে পারে। তাই অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার আগে নিজের আর্থিক অবস্থার বাস্তব হিসাব করা জরুরি।
শুধু ব্যাংক বা ঋণদাতা কত টাকা দিতে রাজি, সেটি দেখে ঋণের পরিমাণ ঠিক করা উচিত নয়। বরং সেই ঋণের EMI দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছন্দে পরিশোধ করা সম্ভব কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার আগে ৭টি প্রশ্ন
- এই ঋণটি সত্যিই প্রয়োজন, নাকি শুধু ইচ্ছা পূরণের জন্য নেওয়া হচ্ছে?
- বর্তমান EMI-এর পাশাপাশি নতুন EMI দেওয়া কি সম্ভব?
- ঋণের মোট সুদ এবং অন্যান্য চার্জ কত হবে?
- আমার আয় কমে গেলে বা সাময়িকভাবে বন্ধ হলে EMI কীভাবে দেব?
- ঋণ নেওয়ার পরেও কি পর্যাপ্ত জরুরি তহবিল থাকবে?
- নতুন ঋণ নেওয়ার বদলে সঞ্চয় বা অন্য কোনও কম খরচের বিকল্প আছে কি?
- ঋণের পুরো মেয়াদে মোট কত টাকা পরিশোধ করতে হবে?
১. ঋণটি সত্যিই প্রয়োজন কি?
নতুন ঋণ নেওয়ার আগে প্রথমেই নিজের কাছে জানতে হবে, এই টাকা কোন কাজে ব্যবহার করা হবে। জরুরি চিকিৎসা, শিক্ষা, বাড়ির প্রয়োজনীয় মেরামত বা অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ কারণে ঋণ নেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য ঋণ নেওয়া এক বিষয় নয়। প্রয়োজনটি কয়েকদিন অপেক্ষা করে সঞ্চয়ের মাধ্যমে মেটানো সম্ভব হলে নতুন ঋণ না নেওয়াও একটি বিকল্প হতে পারে।
২. নতুন EMI কি বাজেটে সামলানো যাবে?
বর্তমানে একাধিক EMI থাকলে নতুন ঋণের মাসিক কিস্তি যোগ করার আগে পুরো বাজেট তৈরি করুন। বাড়িভাড়া, খাবার, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ বাদ দেওয়ার পর নতুন EMI দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অর্থ থাকে কি না দেখুন। শুধু কোনও মাসে EMI দেওয়া সম্ভব হলেই হবে না; দীর্ঘ সময় ধরে সেটি বহন করা সম্ভব কি না সেটিও বিবেচনা করতে হবে।
৩. সুদ ও মোট খরচ কত?
ঋণের ক্ষেত্রে শুধু হাতে কত টাকা পাওয়া যাবে তা দেখলে চলবে না। সুদের হার, Processing Fee, Prepayment Charge এবং অন্যান্য প্রযোজ্য খরচ সম্পর্কে জানতে হবে। একই অঙ্কের ঋণ হলেও মেয়াদ বেশি হলে মোট সুদের খরচ বাড়তে পারে। তাই ঋণের চুক্তি অনুযায়ী পুরো মেয়াদে মোট কত টাকা পরিশোধ করতে হবে, তা আগে হিসাব করে নেওয়া ভালো।
৪. আয় কমে গেলে কী হবে?
বর্তমান আয় স্থির থাকবে ধরে নিয়ে ঋণের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চাকরি পরিবর্তন, ব্যবসায় আয় কমে যাওয়া বা অন্য কোনও কারণে আয় সাময়িকভাবে কমলে EMI চালানো কঠিন হতে পারে। তাই নতুন ঋণ নেওয়ার আগে নিজের আর্থিক পরিস্থিতিতে এমন পরিবর্তন হলে কীভাবে কিস্তি দেওয়া হবে, তার একটি বাস্তব পরিকল্পনা থাকা দরকার।
৫. জরুরি তহবিল থাকবে তো?
নতুন ঋণের EMI দিতে গিয়ে যদি পুরো সঞ্চয় শেষ হয়ে যায়, তাহলে হঠাৎ কোনও জরুরি খরচ এলে আবার ধার করতে হতে পারে। তাই ঋণ নেওয়ার পরেও প্রয়োজনীয় Emergency Fund বা জরুরি সঞ্চয় বজায় থাকবে কি না, তা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
৬. অন্য কোনও বিকল্প আছে কি?
ঋণ নেওয়ার আগে নিজের সঞ্চয়, খরচ কমানো, ধাপে ধাপে প্রয়োজন মেটানো বা কম খরচের অন্য আর্থিক বিকল্প রয়েছে কি না যাচাই করুন। তবে একটি ঋণ শোধ করতে আরেকটি ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুই ঋণের সুদ, ফি এবং শর্ত ভালোভাবে তুলনা করা জরুরি।
৭. পুরো ঋণের হিসাব বুঝেছেন কি?
গুরুত্বপূর্ণ: ঋণের সুদের হার, EMI, মেয়াদ, মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ এবং সমস্ত চার্জ না বুঝে কোনও চুক্তিতে সই করা উচিত নয়। ঋণদাতার দেওয়া নথি ভালোভাবে পড়ে শর্তগুলি পরিষ্কার করে নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে ঋণের মোট খরচ নিজের বাজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া সবসময় ভুল সিদ্ধান্ত নয়। কিন্তু পুরনো ঋণের সঙ্গে নতুন দায় যোগ করার আগে নিজের আয়, বর্তমান EMI, জরুরি সঞ্চয় এবং ভবিষ্যতের আর্থিক লক্ষ্য একসঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। প্রয়োজন বুঝে এবং পরিশোধের সামর্থ্য নিশ্চিত করেই ঋণ নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।