ব্যাংকে ১ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করলে কত সুদ পাওয়া যায়? জানুন বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাব

ব্যাংকে ১ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করলে কত সুদ পাওয়া যায়? জানুন বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাব

ব্যাংকে ১ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করলে কত লাভ হয়?

নিরাপদ ও নিশ্চিত আয়ের মাধ্যম হিসেবে ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডি আজও দেশের সাধারণ মানুষের কাছে অন্যতম সেরা পছন্দ। বর্তমান সময়ে ব্যাংকগুলোতে ফিক্সড ডিপোজিটের সুদের হারে নানা ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিকরা বিভিন্ন মেয়াদে বিনিয়োগ করে আকর্ষণীয় রিটার্ন পেয়ে থাকেন। ১ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করলে কোন ব্যাংক কেমন সুদ দেয় এবং মেয়াদের শেষে হাতে কত টাকা আসে, তা জেনে রাখা জরুরি।

দেশের শীর্ষস্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ফিক্সড ডিপোজিটের সুদের হার সাধারণত ৬ শতাংশ থেকে ৭.৫ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। অন্যদিকে, কিছু স্মল ফাইন্যান্স ব্যাংক বা ছোট ব্যাংক সাধারণ নাগরিকদের জন্য ৮ শতাংশ পর্যন্ত বা তার বেশি সুদ অফার করে থাকে। প্রবীণ নাগরিকরা সব সময়ই সাধারণ depositors-দের তুলনায় অতিরিক্ত ০.৫০ শতাংশ বা তার বেশি সুদ পেয়ে থাকেন, যা তাদের মুনাফার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ব্যাংকের সুদের হিসাব মূলত নির্ভর করে বিনিয়োগের মেয়াদ এবং সুদের ধরণের (কম্পাউন্ড ইন্টারেস্ট বা সরল সুদ) ওপর। সাধারণত ১ বছর, ২ বছর বা ৩ বছরের মেয়াদে সুদের হার ভিন্ন হয়ে থাকে। নিচে বিভিন্ন ব্যাংকের সম্ভাব্য সুদের হারের একটি ধারণা দেওয়া হলো:

  • স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (SBI): ১ লাখ টাকায় বার্ষিক প্রায় ৬.২৫% থেকে ৬.৫০% পর্যন্ত সুদ মিলতে পারে।
  • এইচডিএফসি ব্যাংক ও আইসিআইসিআই ব্যাংক: এই ব্যাংকগুলোতে নির্দিষ্ট মেয়াদে ৬.৫০% পর্যন্ত সাধারণ সুদ পাওয়া যায়।
  • ব্যাংক অব বরোদা: বিভিন্ন মেয়াদে সর্বোচ্চ ৭.১৫% পর্যন্ত সুদের সুযোগ রয়েছে।
  • স্মল ফাইন্যান্স ব্যাংক: সূর্যোদয় বা জনা স্মল ফাইন্যান্স ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ৮ শতাংশের বেশি পর্যন্ত সুদ প্রদান করে থাকে।

বিভিন্ন মেয়াদের হিসেব ও লাভ

যদি আপনি ১ লাখ টাকা কোনো ব্যাংকে ১ বছরের জন্য ৬.৫০ শতাংশ সুদে রাখেন, তবে মেয়াদ শেষে আপনি সুদ বাবদ প্রায় ৬,৫০০ টাকা পাবেন (কর বা টিডিএস বাদ দেওয়ার আগে)। অর্থাৎ ম্যাচুরিটির পর মোট ১,০৬,৫০০ টাকা হাতে আসবে। মেয়াদের সময় যত বেশি হবে, চক্রবৃদ্ধি সুদের নিয়মে লাভের পরিমাণ তত বাড়তে থাকবে। তবে বিনিয়োগের আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বর্তমান সুদের হার এবং টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

সংসংক্ষেপে, ফিক্সড ডিপোজিটে ঝুঁকির পরিমাণ শূন্য থাকায় মধ্যবিত্ত ও দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়কারীদের জন্য এটি একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। সঠিক ব্যাংক এবং সঠিক মেয়াদ বেছে নিলে ১ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট থেকেও বেশ ভালো অংকের অতিরিক্ত আয় করা সম্ভব।