মঙ্গলের দুই রহস্যময় উপগ্রহ ‘ফোবোস’ ও ‘ডেইমোস’ নিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে জাপানের সবচেয়ে বড় মিশন!

মঙ্গলের দুই রহস্যময় উপগ্রহ ‘ফোবোস’ ও ‘ডেইমোস’ নিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে জাপানের সবচেয়ে বড় মিশন!

মঙ্গলের দুই রহস্যময় উপগ্রহ ‘ফোবোস’ ও ‘ডেইমোস’ নিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে জাপানের সবচেয়ে বড় মিশন!

মঙ্গল গ্রহের মূল গ্রহ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চললেও এর দুই ক্ষুদ্র ও রহস্যময় উপগ্রহ ‘ফোবোস’ (Phobos) এবং ‘ডেইমোস’ (Deimos) সম্পর্কে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। এই দুই উপগ্রহের উৎপত্তি এবং বিবর্তনের নেপথ্য রহস্য ভেদ করতে জাপানি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জাকসা (JAXA) হাতে নিয়েছে তাদের এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় ও উচ্চাভিলাষী আন্তঃগ্রহ মিশন—‘মারশিয়ান মুনস এক্সপ্লোরেশন’ বা সংক্ষেপে ‘এমএমএক্স’ (MMX)। নির্দিষ্ট সূচি অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর ২০২৬-এ তানগেগাশেমা স্পেস সেন্টার থেকে এইচ৩ রকেটের মাধ্যমে মহাশূন্যে পাড়ি জমাতে চলেছে এই ঐতিহাসিক মহাকাশযান। এই অভিযಾನের মূল লক্ষ্য হলো ফোবোসের মাটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা, যা মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

জাপানের এই মেগা মিশনটির মূল উদ্দেশ্য, প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা এবং এর সুদূরপ্রসারী বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: এমএমএক্স মিশনটি কেবল ফোবোস ও ডেইমোসকে দূর থেকে পর্যবেক্ষণই করবে না, বরং ফোবোসের বুক থেকে অন্তত ১০ গ্রাম মূল্যবান পৃষ্ঠদেশ বা রেগোলিথ নমুনা সংগ্রহ করে ২০৩১ সালের মধ্যে তা নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার ঐতিহাসিক লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

  • উপগ্রহের উৎপত্তি রহস্য উন্মোচন: ফোবোস ও ডেইমোস কি মঙ্গল গ্রহের মহাকর্ষে আটকে পড়া প্রাচীন কোনো গ্রহাণু নাকি অতীতে কোনো বিশাল উল্কাপিণ্ডের আঘাতে মঙ্গলের দেহ থেকে ছিটকে যাওয়া অবশেষ—তা নিশ্চিত করবে এই মিশন।
  • ফ্রান্স ও জার্মানির যৌথ রোভার (IDEFIX): এই অভিযানে এমএমএক্স যানের সঙ্গে যুক্ত থাকছে একটি অত্যাধুনিক ছোট রোভার, যা ফরাসি ও জার্মান মহাকাশ সংস্থার সহায়তায় ফোবোসের কম অভিকর্ষের মাটিতে নেমে সরাসরি জরিপ চালাবে।
  • আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা: জাকসার নেতৃত্বে পরিচালিত এই মিশনে নাসা (NASA), ইএসএ (ESA) এবং সিএনইএস (CNES)-এর মতো বিশ্বসেরা মহাকাশ সংস্থাগুলোর উন্নত যন্ত্রপাতি ও স্পেকট্রোমিটার যুক্ত রয়েছে।
  • মঙ্গল ব্যবস্থার সামগ্রিক পর্যবেক্ষণ: উপগ্রহ গবেষণার পাশাপাশি এই মহাকাশযানটি মঙ্গলের আবহাওয়া, ধূলিঝড় এবং বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তনশীলতা দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করবে।

মহাকাশ গবেষণায় নতুন জাপানি দিগন্ত

জাপানের এমএমএক্স মিশনটি সফল হলে তা মানবজাতির আন্তঃগ্রহ গবেষণার সক্ষমতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। লাল গ্রহের এই দুই ছোট্ট প্রহরীকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বৈজ্ঞানিক লড়াই একদিন হয়তো আমাদের সৌরজগতের জন্মলগ্ন এবং গ্রহগুলোর সৃষ্টির অজানা অনেক গোপন সূত্র উন্মোচন করতে সাহায্য করবে। বিজ্ঞানের এই অভাবনীয় অগ্রগতি মানবজাতিকে তার মহাজাগতিক ঠিকানার আরও কাছাকাছি পৌঁছে দিচ্ছে।