ইথিওপিয়ায় ফের নতুন করে তীব্র সংঘর্ষ, সরকারি বাহিনীর দখলে তিগ্রায়ের রাজধানী মেকেলে
ইথিওপিয়ায় ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে তিগ্রায়ের রাজধানী মেকেলে
আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় ফের একবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে গৃহযুদ্ধ। সরকারি বাহিনী ও তিগ্রায়ের স্থানীয় বিদ্রোহীদের মধ্যে চলা তীব্র ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা অঞ্চল। সাম্প্রতিক এই সামরিক অভিযানে তিগ্রায়ের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী শহর মেকেলে (Mekelle) সম্পূর্ণভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে ইথিওপিয়ার সরকারি সেনা। এই বড় পরিবর্তনের ফলে পূর্ব আফ্রিকার এই দেশটির ভূ-রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম সঙ্কটের মুখে পড়েছে।
খবর অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শান্তি আলোচনার সমস্ত প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার পরেই দুই পক্ষের মধ্যে এই পূর্ণমাত্রার লড়াই শুরু হয়। সরকারি বাহিনী ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও বিমান হামলার সাহায্য নিয়ে বিদ্রোহীদের শক্তঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মেকেলে শহরের দিকে অগ্রসর হয় এবং তীব্র লড়াইয়ের পর শহরটির দখল নেয়। সংঘর্ষের জেরে শহরের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরছাড়া হয়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে এই নতুন দফার সংঘাতে সাধারণ মানুষের জীবনহানি এবং চরম মানবিক সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অবরুদ্ধ এলাকায় জরুরি ত্রাণসামগ্রী এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছানোর পথ অবিলম্বে সুগম করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
- ইথিওপিয়ায় নতুন করে তীব্র সংঘর্ষের জেরে তিগ্রায়ের রাজধানী মেকেলে দখল করল সরকারি সেনা।
- শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ণমাত্রার সামরিক লড়াই শুরু হয়েছে।
- যুদ্ধের জেরে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ বাস্তুচ্যুত, তীব্র মানবিক সংকটের আশঙ্কা।
মানবিক সংকট ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
বিশ্লেষকদের মতে, মেকেলের পতন এবং সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এই ঘটনা ইথিওপিয়ার দীর্ঘস্থায়ী জাতিগত ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে এক নতুন ও রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের সূচনা করল। এর ফলে সমগ্র অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতা বজায় থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদরা অবিলম্বে রক্তপাত বন্ধ করে সংঘাতের পথ ছেড়ে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য উভয় পক্ষের প্রতি নতুন করে আহ্বান জানিয়েছেন।