রাশিয়া থেকে ভারতে সরাসরি রেলপথের মেগা প্রস্তাব, ২৫ দিনে মস্কো-মুম্বাই পণ্য পরিবহনের পরিকল্পনা

রাশিয়া থেকে ভারতে সরাসরি রেলপথের মেগা প্রস্তাব, ২৫ দিনে মস্কো-মুম্বাই পণ্য পরিবহনের পরিকল্পনা

রাশিয়া থেকে ভারতে সরাসরি রেলপথের প্রস্তাব

ভারতের সঙ্গে স্থলপথে বাণিজ্য ও যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী মারাত খুশনুলিন একটি দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাবিত এই রেল করিডোর রাশিয়া থেকে শুরু হয়ে মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ভারতে পৌঁছতে পারে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে পণ্য পরিবহনে নতুন একটি স্থলপথ তৈরি হবে।

কোন কোন দেশের ওপর দিয়ে যাবে রেলপথ?

প্রস্তাবিত রেল রুটটি রাশিয়া থেকে তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান হয়ে ভারতে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এটি মূলত যাত্রীবাহী ট্রেনের পরিবর্তে একটি কার্গো বা পণ্যবাহী রেল করিডোর হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এই নতুন রেলপথ ভবিষ্যতে ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোর বা INSTC-এর পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে। এর ফলে রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে পণ্য পরিবহনের জন্য বিকল্প রুট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কেন নতুন স্থলপথের কথা ভাবছে রাশিয়া?

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটগুলির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী এবং বসফরাস প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতেই বিকল্প স্থলপথ তৈরির পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, এই রেল করিডোর কার্যকর হলে সামুদ্রিক পরিবহনের তুলনায় পণ্য পরিবহনের সময় ও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, মস্কো থেকে মুম্বাই পর্যন্ত পণ্য পৌঁছতে প্রায় ২৫ দিন সময় লাগতে পারে এবং সামুদ্রিক রুটের তুলনায় খরচ প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে।

ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

এই ধরনের একটি রেল করিডোর বাস্তবায়িত হলে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও দ্রুত ও বহুমুখী হতে পারে। সমুদ্রপথের পাশাপাশি একটি দীর্ঘ স্থলপথ তৈরি হলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নতুন বিকল্প তৈরি হবে। বিশেষ করে শিল্পপণ্য, কাঁচামাল ও অন্যান্য বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনে এই করিডোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ

তবে এই পরিকল্পনা এখনও প্রাথমিক প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটির জন্য কোনও নির্দিষ্ট নির্মাণ সময়সীমা বা চালুর তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। ফলে এটি বাস্তবে কতটা দ্রুত এগোবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে রেলপথ নির্মাণ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যে ট্রানজিট ও বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন করা। এত দীর্ঘ আন্তর্জাতিক রেল করিডোরের জন্য বিপুল পরিমাণ পরিকাঠামো বিনিয়োগ এবং একাধিক দেশের সমন্বয় প্রয়োজন হবে।

২৫ দিনে মস্কো থেকে মুম্বাই—কতটা বাস্তব?

২৫ দিনের সম্ভাব্য পরিবহন সময় বর্তমানে একটি প্রস্তাবিত হিসাব মাত্র। প্রকল্পটি বাস্তবে নির্মিত হলে সীমান্ত পারাপার, কাস্টমস, নিরাপত্তা, ট্রানজিট অনুমতি এবং বিভিন্ন দেশের রেল পরিকাঠামোর সক্ষমতার ওপর পরিবহনের প্রকৃত সময় নির্ভর করবে। তাই এই সময়সীমাকে এখনই নিশ্চিত পরিবহন সময় হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: রাশিয়া থেকে ভারত পর্যন্ত প্রস্তাবিত এই সরাসরি রেল করিডোর এখনও পরিকল্পনার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। রাশিয়া-ভারত বাণিজ্যে নতুন স্থলপথ তৈরি করাই এর মূল লক্ষ্য। তবে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলের মধ্য দিয়ে রেলপথ নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক ট্রানজিট চুক্তি সম্পন্ন করাই প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।