জাপোরিঝঝিয়ায় রুশ হামলায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র, ৭ শ্রমিক নিহত
জাপোরিঝঝিয়ায় রুশ বিমান হামলায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ
ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে রাশিয়ার বিমান হামলায় উত্তর কোরিয়ার KN-23/KN-24 ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ১১ আগস্ট ২০২৬-এর এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর অভিযোগ, রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে পাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের সামরিক ও বেসামরিক পরিকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে।
ইস্পাত কারখানায় হামলা, নিহত ৭
জাপোরিঝঝিয়ার একটি ইস্পাত কারখানায় বিমান হামলার সাইরেন বাজানোর পর শ্রমিকরা নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে বলে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। হামলায় ৭ জন শ্রমিক নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের দাবি অনুযায়ী, হামলায় উত্তর কোরিয়ার KN-23/KN-24 ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি রাশিয়ার জিরকন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার প্রভাবে বেশ কয়েকটি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিয়েভের একটি সংক্রামক রোগের হাসপাতালও ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পুতিন-কিম চুক্তি নিয়ে জেলেনস্কির অভিযোগ
জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন-এর মধ্যে হওয়া চুক্তির আওতায় পিয়ংইয়ং মস্কোকে আরও বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করার জন্য প্রায় ৫০,০০০ উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।
তবে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্ট থাকলেও সেনা মোতায়েনের নির্দিষ্ট সংখ্যা ও বর্তমান প্রস্তুতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে সব তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও জানিয়েছেন, দেশের Patriot missile defence system-এর পর্যাপ্ত ঘাটতি থাকায় রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। দ্রুত আরও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।
জেলেনস্কির বক্তব্য, রাশিয়ার এই ধরনের দূরপাল্লার হামলা শুধু ইউক্রেনের সামরিক লক্ষ্য নয়, সাধারণ মানুষ এবং গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক পরিকাঠামোকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
পাল্টা প্রায় ৪০০ ড্রোন হামলার দাবি
রুশ হামলার পর ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রায় ৪০০টি ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার ফলে রাশিয়ার ভোরোনেঝ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাব এবং ওর্স্ক শহরের একটি তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। তবে এসব ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের তথ্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবির ভিত্তিতে প্রকাশিত এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন উদ্বেগ
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র এবং সম্ভাব্য সামরিক সহায়তা নিয়ে ইউক্রেনের অভিযোগ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আন্তর্জাতিক মাত্রাকে আরও স্পষ্ট করছে। একদিকে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, অন্যদিকে ইউক্রেনের পাল্টা ড্রোন হামলা—দুই পক্ষের দূরপাল্লার আক্রমণ যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ইউক্রেনের দাবি অনুযায়ী, জাপোরিঝঝিয়ায় রুশ হামলায় উত্তর কোরিয়ার KN-23/KN-24 ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং হামলায় ৭ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। ইউক্রেন পাল্টা রাশিয়ার অভ্যন্তরে বড় আকারের ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এসব দাবির কিছু তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা এখনও প্রয়োজন।