গাজায় হামলা অব্যাহত রাখলে ফেরার পথ থাকবে না, ইসরায়েলকে ট্রাম্পের দূতের কড়া হুঁশিয়ারি

গাজায় হামলা অব্যাহত রাখলে ফেরার পথ থাকবে না, ইসরায়েলকে ট্রাম্পের দূতের কড়া হুঁশিয়ারি

গাজায় নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ভয়াবহ পরিণতি হবে: মার্কিন দূত

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযান ও বিমান হামলা অব্যাহত রাখলে তা দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রক্রিয়াকে চিরতরে ধ্বংস করে দিতে পারে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গাজা শান্তি পরিকল্পনার তদারক কর্মকর্তা ও উচ্চ প্রতিনিধি। সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি আবারও পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা থেকে উত্তরণের বা আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আর কোনো সুযোগ বা পথ খোলা থাকবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় প্রণীত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ধারাবাহিক হামলা এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, সংঘাত থামানোর পরিবর্তে হামলা অব্যাহত রাখলে তা ফিলিস্তিনিদের মনে শান্তির আশাকে চিরতরে নিভিয়ে দিতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: মার্কিন প্রতিনিধি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, গাজায় যদি নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা সাময়িক কোনো বিপত্তি নয়, বরং এটি এমন এক বিন্দুতে পৌঁছে যাবে যেখান থেকে আর ফিরে আসা সম্ভব হবে না।

  • গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত থাকায় শান্তি প্রক্রিয়ায় তীব্র বাধা সৃষ্টি হচ্ছে
  • যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে তা থেকে ফিরে আসার কোনো পথ খোলা থাকবে না বলে সতর্কবার্তা
  • ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা এবং নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে তাগিদ দেওয়া হয়েছে
  • ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার চলমান দূরত্বের কারণে সংকট কাটছে না

শান্তি চুক্তি ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

মার্কিন প্রশাসনের ওই উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের জন্য হামাসের অস্ত্র সমর্পণ এবং বেসামরিক প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পাশাপাশি ইসরায়েলেরও সামরিক আক্রমণ বন্ধ করা জরুরি। তবে ইসরায়েলি পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, হামাস সম্পূর্ণভাবে অস্ত্র ত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা তাদের অবস্থান থেকে পিছু হটবে না। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে গাজার সাধারণ মানুষ চরম অনিশ্চয়তা ও মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন দূতের এই কড়া বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে এবং নতুন কোনো রক্তক্ষয়ী অধ্যায় এড়াতে আন্তর্জাতিক চাপ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সদিচ্ছার ওপরই পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।