সীমান্ত বিরোধ মেটাতে ভারত ও চীনের বড় পদক্ষেপ, 'আর্লি হারভেস্ট' চুক্তিতে একমত দুই দেশ
সীমান্ত বিরোধ নিরসনে ভারত ও চীনের বড় কূটনৈতিক সমঝোতা
দীর্ঘদিনের সীমান্ত জটিলতা কাটাতে এবং পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে পৌঁছেছে ভারত ও চীন। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম দফার বৈঠকে সীমান্ত সমস্যা সমাধানে একটি 'আর্লি অ্যান্ড সাবসটানশিয়াল হারভেস্ট' বা প্রাথমিক ও কার্যকর সমঝোতার পথে হাঁটার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে নয়াদিল্লি ও বেইজিং। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র মধ্যে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে পুরো সীমান্ত অঞ্চলের একটি সামগ্রিক বা প্যাকেজ সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হলেও, বর্তমান এই নতুন ফর্মুলা অনুযায়ী এখন ধাপে ধাপে বা ক্ষেত্রবিশেষে খণ্ডভিত্তিক অগ্রগতির পথ খোলা হলো। বেইজিংয়ের এই উচ্চপর্যায় বৈঠকে দুই পক্ষই আট দফা ঐকমত্যে স্বাক্ষর করেছে, যার মূল লক্ষ্য হলো প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি (LAC) বরাবর যেকোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা সামরিক সংকট এড়ানো এবং শান্তি বজায় রাখা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: সাম্প্রতিক এই বৈঠকে সীমান্ত নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটিকে দ্রুত সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা বা টার্মস অফ রেফারেন্স চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদী সীমান্ত সমাধানে গতি আনবে।
- সীমান্ত সীমানা নির্ধারণে 'আর্লি হারভেস্ট' বা প্রাথমিক সমঝোতার নীতিতে একমত দুই দেশ
- সেনা স্তরে যোগাযোগ বাড়াতে অতিরিক্ত দুটি নতুন মিটিং পয়েন্ট চালুর সিদ্ধান্ত
- পূর্ব ও মধ্য সেক্টরে দুটি নতুন সামরিক হটলাইন স্থাপনের বিষয়ে সমঝোতা
- সীমান্ত বাণিজ্য ও কৈলাশ মানস্রোবর যাত্রা সংক্রান্ত কার্যক্রমে গতি আনার ঘোষণা
বাণিজ্য, তীর্থযাত্রা ও নদীর পানি সংক্রান্ত সহযোগিতার ক্ষেত্র
সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলাতে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের ওপরও জোর দিয়েছে দুই দেশ। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, বন্ধ থাকা সীমান্ত বাণিজ্য পয়েন্টগুলির কার্যক্রম আরও সুদৃঢ় করা হবে এবং তিব্বতে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী কৈলাশ মানস্রোবর যাত্রার জন্য ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের ব্যাচ সংখ্যা বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে।
এছাড়া ট্রান্স-বর্ডার বা সীমান্তবর্তী নদীগুলির জলপ্রবাহের তথ্য আদান-প্রদান এবং সহযোগিতার বিষয়ে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকদের মতে, এই কূটনৈতিক সংলাপ ও ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমেই দুই প্রতিবেশী পরাশক্তির মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক দূরত্ব কমানোর ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। আগামী বছর ভারতে পরবর্তী ২৬তম বিশেষ প্রতিনিধি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।