যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা আমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না: ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা আমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না: ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কঠোর অবস্থান ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও তা তেহরানের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা আসার পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই মন্তব্য করেন। পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেছেন যে, সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র যেমন সফল হতে পারেনি, তেমনি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেও তারা নিজেদের কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির অর্থনৈতিক খাতের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এই কথা বলেন। তিনি জানান যে, বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক বিভাগগুলি সম্ভাব্য সকল প্রতিকূলতা মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। অতীতের দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলা নিষেধাজ্ঞার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন যে, তেহরান যেকোনো ধরনের বাহ্যিক চাপ মোকাবিলা করতে পুরোপুরি সক্ষম।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার জবাবে ইরানি নেতৃত্ব পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, তারা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষে থাকলেও চাপের কাছে কখনোই মাথা নত করবে না।

  • মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অর্থনীতিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে দাবি পেজেশকিয়ানের
  • যুদ্ধের মতো অর্থনৈতিক চাপ দমনেও ব্যর্থ হবে ওয়াশিংটন, মত ইরানি প্রেসিডেন্টের
  • সমস্যা সমাধানে আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ওপর জোর দিয়েছে তেহরান
  • কঠোর অর্থনৈতিক চাপের মুখেও দেশের আর্থিক স্থায়িত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও ভবিষ্যৎ পথ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট আলোচনার দরজাও খোলা রেখেছেন। তিনি জানান যে, দেশের স্বার্থ ও মর্যাদাকে অক্ষুণ্ণ রেখেই যেকোনো গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছে তেহরান। তবে একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এই স্নায়ুযুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতিতে গভীর প্রভাব ফেলছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালী ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ইস্যুগুলোকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার মতপার্থক্য এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাহ্যিক চাপ মোকাবেলায় নিজেদের প্রতিরক্ষা ও আর্থিক কৌশল আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছে।