কম জলে বেশি লাভ: সেচ সংকট কাটিয়ে লাভজনক চাষের সেরা উপায় বাতলাচ্ছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা
কম জলে বেশি লাভ: সেচ সংকটে আধুনিক কৃষির দিশা
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ভূগর্ভস্থ জলের স্তর ক্রমশ নেমে যাওয়ার কারণে বর্তমানে সেচ সংকট কৃষকদের অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কম জলে কীভাবে বেশি ফলন পাওয়া যায় এবং চাষে মুনাফা বাড়ানো সম্ভব হয়, তার সহজ ও কার্যকরী সমাধান বাতলাচ্ছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। সনাতন পদ্ধতিতে জল সেচ দিয়ে অতিরিক্ত জল অপচয়ের দিন শেষ, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে কম জল ব্যবহার করেই এখন দ্বিগুণ লাভ করছেন সচেতন কৃষকেরা।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথাগত প্লাবন সেচ (Flood Irrigation) পদ্ধতিতে মাঠ প্লাবিত করার ফলে জলের একটি বড় অংশ বাষ্পীভূত হয়ে বা মাটির গভীরে চুইয়ে অপচয় হয়। এতে জলের ঘাটতির পাশাপাশি গাছের শিকড় পচে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এর পরিবর্তে মাইক্রো-ইরিগেশন বা সূক্ষ্ম সেচ পদ্ধতি গ্রহণ করলে জলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয় এবং সরাসরি গাছের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছায়।
কম সেচে লাভজনক চাষের সেরা উপায়সমূহ:
- ড্রিপ সেচ পদ্ধতি (Drip Irrigation): পাইপের সাহায্যে ফোঁটা ফোঁটা জল সরাসরি গাছের গোড়ায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা, এতে জল অপচয় প্রায় ৯০% পর্যন্ত কমানো যায়।
- স্প্রিঙ্লার সেচ (Sprinkler Irrigation): কৃত্রিম বৃষ্টির মতো ছিটিয়ে জল সেচ দেওয়ার এই পদ্ধতিতে মসুর, সরিষা ও শাকসবজি চাষে অত্যন্ত কম জল লাগে।
- মালচিং প্রযুক্তির ব্যবহার: খড়, শুকনো পাতা বা প্লাস্টিক শট দিয়ে জমির মাটি ঢেকে রাখলে দীর্ঘক্ষণ মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকে।
- খরা সহনশীল জাত নির্বাচন: কম জল লাগে এমন উচ্চফলনশীল দানাশস্য, ডাল ও তৈলবীজ জাতীয় ফসল নির্বাচন করা।
জল সাশ্রয়ী প্রযুক্তিতে কৃষকদের দ্বিগুণ লাভ
কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, জল সাশ্রয়ী সেচ ব্যবস্থার সাথে 'ফার্টিগেশন' (Fertigation) যুক্ত করলে বাড়তি সুফল মেলে। ফার্টিগেশন হলো সেচের জলের সঙ্গেই দ্রবণীয় সার সরাসরি গাছের শিকড়ে পৌঁছে দেওয়ার পদ্ধতি। এতে সারের অপচয় কমে এবং গাছের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে, ফলে সাধারণ চাষের তুলনায় ফলন বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন সেচ প্রকল্প ও অনুদানের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে ড্রিপ ও স্প্রিঙ্লার সেট সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অনাবাদি ও জলসংকটপূর্ণ এলাকায় এই ধরনের সেচ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম খরচে ভুট্টা, তরমুজ, ড্রাগন ফল ও নানা ধরনের সবজি চাষ করে সফল হচ্ছেন কৃষকরা। বিজ্ঞানের এই সঠিক প্রয়োগ যেমন জলের সংকট মেটাচ্ছে, তেমনই চাষিদের আর্থিক হাল ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখছে।