বিশ্ব ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে লক্ষ্য সেনের দুরন্ত শুরু, প্রথম রাউন্ডে কঠিন লড়াইয়ের পর জয়
বিশ্ব ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে লক্ষ্য সেনের জয়
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আয়োজিত বিশ্ব ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ শুরু করেছেন ভারতের তারকা শাটলার লক্ষ্য সেন। ঘরের মাঠে দর্শকদের সামনে প্রথম রাউন্ডে নামতে গিয়ে তাঁকে প্রতিপক্ষের পাশাপাশি ভেন্যুর বাতাস ও শাটলের ড্রিফ্টের সঙ্গেও মানিয়ে নিতে হয়েছে। সেই কঠিন পরিস্থিতি সামলে শেষ পর্যন্ত প্রথম রাউন্ডের বাধা পেরিয়ে পরের পর্বে জায়গা করে নিয়েছেন ভারতীয় তারকা।
দিল্লির ইনডোর কোর্টে বাতাসের গতিবিধি নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা ছিল। এই ধরনের পরিস্থিতিতে শাটলের গতি ও গতিপথে পরিবর্তন আসে, ফলে আক্রমণাত্মক শট খেলা এবং সঠিক জায়গায় শাটল ফেলা কঠিন হয়ে পড়ে। লক্ষ্য সেন ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে নিজের খেলায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলিতে ধৈর্য ধরে লড়াই করেন।
ঘরের মাঠে বাড়তি চাপও সামলাতে হয়েছে
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের মতো বড় প্রতিযোগিতায় ঘরের মাঠে খেলার সুবিধার পাশাপাশি বাড়তি প্রত্যাশার চাপও থাকে। লক্ষ্য সেনের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ভারতীয় সমর্থকদের সামনে খেলায় প্রতিটি পয়েন্টেই দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে সেই চাপকে নিজের খেলায় প্রভাব ফেলতে না দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করেন তিনি।
প্রথম রাউন্ডে প্রতিপক্ষ সহজে জায়গা ছাড়েনি। র্যালির সময় একাধিকবার লক্ষ্যকে দীর্ঘ পয়েন্টে যেতে হয়েছে। বিশেষ করে বাতাসের কারণে নেটের কাছে ও ব্যাককোর্টে শটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন ছিল। ম্যাচ যত এগিয়েছে, পরিস্থিতির সঙ্গে লক্ষ্য তত বেশি মানিয়ে নিয়েছেন।
ড্রিফ্টের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ
ব্যাডমিন্টনে ড্রিফ্ট বলতে কোর্টের বাতাসের কারণে শাটলের স্বাভাবিক গতিপথে পরিবর্তন বোঝায়। এর ফলে একই ধরনের শট দুই প্রান্ত থেকে খেললে ফল আলাদা হতে পারে। বিশেষ করে স্ম্যাশ, ক্লিয়ার এবং লবের ক্ষেত্রে শাটলের গতি নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দিল্লির কোর্টে এই পরিস্থিতিই প্রথম রাউন্ডে লক্ষ্য সেনের জন্য অন্যতম বড় পরীক্ষা ছিল।
- দিল্লির ঘরের মাঠে প্রথম রাউন্ড খেলেছেন লক্ষ্য সেন।
- ম্যাচে বাতাস ও শাটলের ড্রিফ্ট বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
- পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে লক্ষ্য জয় তুলে নেন।
- এই জয়ের ফলে তিনি টুর্নামেন্টের পরের রাউন্ডে পৌঁছে গেছেন।
- ঘরের মাঠে ভারতীয় সমর্থকদের উপস্থিতি লক্ষ্যকে বাড়তি সমর্থন দিয়েছে।
বিশ্ব মঞ্চে লক্ষ্য সেনের লক্ষ্য আরও দূর
লক্ষ্য সেন ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের অন্যতম পরিচিত মুখ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে একাধিক বড় প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও তাঁর কাছ থেকে ভালো পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা রয়েছে। দিল্লিতে এবার ঘরের মাঠে সেই প্রত্যাশা আরও বেশি। প্রথম রাউন্ডের বাধা পার হওয়ার পর তাঁর সামনে এখন আরও কঠিন প্রতিপক্ষের সম্ভাবনা রয়েছে।
টুর্নামেন্ট যত এগোবে, প্রতিটি ম্যাচের চাপও বাড়বে। তাই প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া লক্ষ্য সেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে দিল্লির কোর্টের পরিবেশের সঙ্গে প্রথম ম্যাচেই মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা পরের রাউন্ডগুলিতে তাঁকে সাহায্য করতে পারে।
পরের রাউন্ডে আরও কঠিন পরীক্ষা
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ে। প্রথম রাউন্ডের তুলনায় পরের ম্যাচে প্রতিপক্ষের মান আরও কঠিন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে লক্ষ্যকে নিজের সার্ভিস, রিটার্ন, নেট প্লে এবং আক্রমণাত্মক শটের পাশাপাশি কোর্টের বাতাসের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।
দিল্লির পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া এবং র্যালির সময় ধৈর্য ধরে পয়েন্ট তৈরি করাই তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রথম ম্যাচে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, সেটিকে কাজে লাগিয়ে পরের ম্যাচে আরও আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স করার লক্ষ্য থাকবে তাঁর।
ভারতীয় সমর্থকদের নজরে লক্ষ্য সেন
বিশ্ব ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের পদকের সম্ভাবনা নিয়ে বরাবরই আলোচনা থাকে। লক্ষ্য সেনের মতো তারকার পারফরম্যান্স সেই প্রত্যাশার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। ঘরের মাঠে প্রথম রাউন্ডের কঠিন বাধা পেরিয়ে তিনি সেই যাত্রা ইতিবাচকভাবেই শুরু করেছেন। এখন তাঁর লক্ষ্য হবে ম্যাচ ধরে এগিয়ে গিয়ে টুর্নামেন্টের শেষ দিক পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া।
প্রবল বাতাস ও ড্রিফ্টের মতো প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলে প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া নিঃসন্দেহে লক্ষ্য সেনের জন্য ইতিবাচক শুরু। তবে সামনে প্রতিটি ম্যাচ আরও কঠিন হতে পারে। তাই প্রথম রাউন্ডের জয়কে আত্মবিশ্বাস হিসেবে কাজে লাগিয়ে ভারতীয় তারকা কতদূর যেতে পারেন, এখন সেদিকেই নজর থাকবে ব্যাডমিন্টনপ্রেমীদের।