ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল-এসসি দিল্লি মহারণ, যুবভারতীতে ফাইনালের টিকিটের লড়াই
ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল বনাম এসসি দিল্লি
ডুরান্ড কাপ ২০২৬-এর প্রথম সেমিফাইনালে আজ, ১৯ আগস্ট বুধবার, মুখোমুখি হচ্ছে ইস্টবেঙ্গল এফসি ও এসসি দিল্লি। কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচ। দুই দলের লক্ষ্য একটাই—সেমিফাইনালের বাধা পেরিয়ে ২৩ আগস্টের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা।
১৩৫তম ডুরান্ড কাপের শেষ চারে পৌঁছে ইস্টবেঙ্গল নিজেদের ঘরের মাঠে নামছে। অন্যদিকে তুলনামূলক নতুন দল এসসি দিল্লির সামনে রয়েছে ক্লাব ইতিহাসে বড় সাফল্য পাওয়ার সুযোগ। ফলে অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দুই দলের মানসিক প্রস্তুতিও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
কীভাবে সেমিফাইনালে পৌঁছল দুই দল?
ইস্টবেঙ্গলের ডুরান্ড কাপ অভিযান শুরু হয়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কাছে ০-১ গোলে হারের মাধ্যমে। তবে সেই পরাজয়ের পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় লাল-হলুদ শিবির। এরপর CISF Protectors-কে ৮-০ এবং South United-কে ৫-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় তারা। কোয়ার্টার ফাইনালে Indian Army FT-কে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ চারে পৌঁছে যায় ইস্টবেঙ্গল।
এসসি দিল্লিও এবারের প্রতিযোগিতায় নজর কেড়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে FC Raengdai-এর বিরুদ্ধে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ৫-১ গোলে জয় পায় তারা। এর আগে গ্রুপ পর্বেও আক্রমণাত্মক ফুটবলের মাধ্যমে নিজেদের শক্তির পরিচয় দিয়েছে দলটি।
ইস্টবেঙ্গলের শক্তি রক্ষণে
চলতি ডুরান্ড কাপে ইস্টবেঙ্গলের অন্যতম বড় শক্তি তাদের রক্ষণভাগ। চারটি ম্যাচে দলটি মোট ১৪টি গোল করেছে এবং মাত্র একটি গোল হজম করেছে। সেই একমাত্র গোলটি এসেছিল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী কলকাতা ডার্বিতে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে। এরপর টানা কয়েকটি ম্যাচে গোল না খেয়ে রক্ষণভাগ নিজেদের দৃঢ়তা প্রমাণ করেছে।
- ইস্টবেঙ্গল টুর্নামেন্টে ১৪টি গোল করেছে।
- চার ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছে লাল-হলুদ।
- কোয়ার্টার ফাইনালে Indian Army FT-কে ১-০ গোলে হারিয়েছে।
- এসসি দিল্লি কোয়ার্টার ফাইনালে FC Raengdai-কে ৫-১ গোলে হারিয়েছে।
- সেমিফাইনাল হবে ১৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে।
এসসি দিল্লির আক্রমণ নিয়ে চিন্তা ইস্টবেঙ্গলের
ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ যতটা শক্তিশালী, এসসি দিল্লির আক্রমণ ততটাই ভয়ঙ্কর। প্রতিযোগিতায় দিল্লির দলটি ইতিমধ্যেই প্রচুর গোল করেছে। তাদের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা রদ্রিগুইনহো, যিনি টুর্নামেন্টে সাতটি গোল করেছেন। ফলে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণকে তাঁর গতিবিধি এবং গোল করার সুযোগ আটকে রাখার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
এসসি দিল্লি ম্যাচে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চাইবে। বিপরীতে ইস্টবেঙ্গল নিজেদের রক্ষণ শক্ত রেখে সুযোগ বুঝে দ্রুত আক্রমণে যাওয়ার কৌশল নিতে পারে। এই দুই ভিন্ন ধরনের খেলার লড়াই সেমিফাইনালের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে।
ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণেও থাকবে নজর
লাল-হলুদ শিবিরের আক্রমণে দানি রামিরেজ, মহম্মদ রশিদ, বিপিন সিংয়ের মতো ফুটবলারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে চোটের কারণে পি ভি বিষ্ণুর অনুপস্থিতি ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণভাগে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁর গোলেই Indian Army FT-র বিরুদ্ধে জয় পেয়েছিল দলটি। ফলে সেমিফাইনালে তাঁর না থাকা কোচ অস্কার ব্রুজোনের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে পারে।
ফাইনালে উঠবে কে?
এই ম্যাচের বিজয়ী দল ২৩ আগস্ট যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত ডুরান্ড কাপের ফাইনালে খেলবে। অন্য সেমিফাইনালে ২০ আগস্ট শিলংয়ে মুখোমুখি হবে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি। ফলে ইস্টবেঙ্গল জিতলে ফাইনালে সম্ভাব্য কলকাতা ডার্বির সম্ভাবনাও তৈরি হবে। তবে তার জন্য মোহনবাগানকেও নিজেদের সেমিফাইনাল জিততে হবে।
যুবভারতীতে ফুটবলপ্রেমীদের নজর
কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ইস্টবেঙ্গল-এসসি দিল্লি সেমিফাইনাল বিশেষ আকর্ষণের হতে চলেছে। একদিকে ডুরান্ড কাপের ১৬ বারের চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল, অন্যদিকে নতুন দল হিসেবে নজর কাড়া এসসি দিল্লি। অভিজ্ঞতা, ঘরের মাঠের সমর্থন এবং শক্তিশালী রক্ষণের সুবিধা নিয়ে ইস্টবেঙ্গল ফাইনালে যেতে চাইবে। আর এসসি দিল্লি চাইবে আক্রমণাত্মক ফুটবলের জোরে ইতিহাস তৈরি করতে। শেষ পর্যন্ত যুবভারতীর ৯০ মিনিটের লড়াইয়েই ঠিক হবে কার হাতে উঠছে ফাইনালের টিকিট।