উচ্চশিক্ষায় টাকার বাধা নয়, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণে রাজ্য সরকারের সহায়তা

উচ্চশিক্ষায় টাকার বাধা নয়, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণে রাজ্য সরকারের সহায়তা

উচ্চশিক্ষার খরচ মেটাতে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণের সুবিধা

অর্থের অভাবে যাতে কোনও পড়ুয়ার উচ্চশিক্ষা থেমে না যায়, সেই লক্ষ্যেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার চালু করেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড স্কিম। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য পড়ুয়ারা সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন শিক্ষা ঋণ পাওয়ার সুযোগ পান। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই ঋণ মাধ্যমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা, পেশাদারি কোর্স এবং গবেষণার বিভিন্ন পর্যায়ে পড়াশোনার খরচ মেটাতে ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রকল্পের অধীনে ব্যাঙ্ক ঋণ প্রদানে রাজ্য সরকারের গ্যারান্টি ও সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে পড়াশোনা বন্ধ না করে নিজেদের পছন্দের শিক্ষার সুযোগ নিতে পারেন। স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার জন্য এই ঋণের সুবিধা রয়েছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ বা দেশের অন্য প্রান্ত নয়, নির্ধারিত শর্তে বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রেও প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

কত টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে?

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড প্রকল্পে একজন যোগ্য শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ঋণের উপর বার্ষিক প্রায় ৪ শতাংশ সরল সুদের হার প্রযোজ্য। পড়াশোনার সময় নিয়ম অনুযায়ী সুদ পরিশোধ করলে অতিরিক্ত ১ শতাংশ সুদ ছাড়ের সুবিধাও পাওয়া যেতে পারে। তবে ঋণের চূড়ান্ত অনুমোদন, প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ এবং অন্যান্য শর্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের যাচাই ও প্রকল্পের নিয়মের উপর নির্ভর করবে।

  • যোগ্য শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন।
  • ঋণটি জামানত বা Collateral Security ছাড়াই দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
  • মাধ্যমিক স্তর থেকে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা পর্যন্ত বিভিন্ন শিক্ষার ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
  • দেশের ভিতরে এবং নির্ধারিত শর্তে বিদেশে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার জন্যও ঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
  • কোর্স ফি, টিউশন ফি, হস্টেল খরচ, বই, কম্পিউটার ও ল্যাপটপের মতো শিক্ষাসংক্রান্ত ব্যয় মেটাতে ঋণ ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • ঋণ পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত সময়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

কারা স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন?

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীর পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হওয়া এবং সাধারণভাবে অন্তত ১০ বছর রাজ্যে বসবাসের শর্ত রয়েছে। আবেদন করার সময় বয়স ৪০ বছরের মধ্যে থাকতে হবে। শিক্ষার্থীকে কমপক্ষে নবম শ্রেণি উত্তীর্ণ হতে হবে এবং স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত যোগ্য কোর্সে ভর্তি হওয়া বা পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ দিতে হবে। আবেদনকারীর জন্য একজন সহ-ঋণগ্রহীতার প্রয়োজন হয়, যিনি সাধারণভাবে অভিভাবক বা পিতা-মাতা হতে পারেন।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: এই প্রকল্পে ১০ লক্ষ টাকা সরাসরি অনুদান হিসেবে দেওয়া হয় না। এটি একটি শিক্ষা ঋণ, যা নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া হয় এবং পরে পরিশোধ করতে হয়। প্রকল্পের বিশেষত্ব হল, যোগ্য শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ঋণ পেতে রাজ্য সরকারের সহায়তা ও গ্যারান্টির ব্যবস্থা রয়েছে এবং জামানতবিহীন ঋণের সুযোগও দেওয়া হয়। তাই ১০ লক্ষ টাকার সুবিধাকে সরকারি অনুদান বা বিনামূল্যের টাকা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

কোন কোন পড়াশোনার খরচে ব্যবহার করা যাবে ঋণ?

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের আওতায় মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক, স্নাতকোত্তর, পেশাদারি ডিগ্রি, ডিপ্লোমা এবং ডক্টরাল বা পোস্ট-ডক্টরাল স্তরের পড়াশোনার জন্য ঋণের সুবিধা রয়েছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিক্যাল, আইন, IAS, IPS, WBCS-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নির্দিষ্ট কোচিং প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার ক্ষেত্রেও যোগ্যতা অনুযায়ী সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

শিক্ষার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একাধিক খরচ এই ঋণের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে কোর্স ও টিউশন ফি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি সংক্রান্ত নির্ধারিত ব্যয়, হস্টেল খরচ, বই, পড়াশোনার উপকরণ, কম্পিউটার বা ল্যাপটপের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রী। কোন খরচের জন্য কত অর্থ অনুমোদন হবে, তা প্রকল্পের নিয়ম ও সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের চূড়ান্ত যাচাইয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া ও ঋণ পরিশোধের নিয়ম

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য নির্ধারিত সরকারি অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। আবেদন জমা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং উচ্চশিক্ষা দফতরের স্তরে তথ্য যাচাই করা হয়। এরপর আবেদনটি ব্যাঙ্কের কাছে পাঠানো হয় এবং ব্যাঙ্ক প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের পর ঋণ অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ঋণ পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত সময় রাখা হয়েছে, যার মধ্যে কোর্সের সময়কাল এবং নির্ধারিত মোরাটোরিয়াম বা রিপেমেন্ট হলিডে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ফলে পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরই তাৎক্ষণিকভাবে সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধের চাপ পড়ে না; প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারিত হয়।

সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের যোগ্য পড়ুয়াদের জন্য স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড প্রকল্প উচ্চশিক্ষার আর্থিক বাধা কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন শিক্ষা ঋণ, তুলনামূলক কম সুদের হার এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিশোধের সুযোগ এই প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য দিক। তবে আবেদন করার আগে বয়স, আবাসিক যোগ্যতা, শিক্ষাগত শর্ত, কোর্সের স্বীকৃতি এবং সর্বশেষ সরকারি নিয়ম অবশ্যই সরকারি পোর্টাল থেকে যাচাই করে নেওয়া উচিত।