মানুষ ঘুমের মধ্যে নড়াচড়া করে কেন? জানুন এর পেছনের কারণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

মানুষ ঘুমের মধ্যে নড়াচড়া করে কেন? জানুন এর পেছনের কারণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

মানুষ ঘুমের মধ্যে নড়াচড়া করে কেন? জেনে নিন বৈজ্ঞানিক কারণ

রাতে বিছানায় ঘুমানোর পর অনেক সময়ই দেখা যায় মানুষ হাত-পা ছুঁড়ছে, পাশ ফিরছে কিংবা হঠাৎ কোনো জোরালো ঝাঁকুনিতে কেঁপে উঠে জেগে উঠছে। ঘুমের ভেতরে এই ধরনের শারীরিক নড়াচড়ার নেপথ্যে কাজ করে এক সুনির্দিষ্ট জৈবিক ও স্নায়বিক প্রক্রিয়া। সাধারণ মানুষের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে যে, গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকার পরেও শরীর কেন এমন অদ্ভুত আচরণ করে। মূলত আমাদের মস্তিষ্কের মোটর কন্ট্রোল এবং স্নায়ুতন্ত্রের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক्रিয়ার ফলেই এই ধরনের মোটর অ্যাক্টিভিটি বা শারীরিক নড়াচড়া ঘটে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞান ও নিউরোসায়েন্সের গবেষণায় এই বিষয়ের ওপর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে যা মানুষের ঘুমের ভেতরের আচরণকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে।

বিজ্ঞানীদের মতে, যখন আমরা নন-রিম (Non-REM) ঘুমের হালকা পর্যায় থেকে গভীর ঘুমে প্রবেশ করি কিংবা স্বপ্ন দেখার ধাপে অর্থাৎ রিম (REM) স্লিপে থাকি, তখন মস্তিষ্কের ব্রেনস্টেম থেকে পেশিগুলোকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় বা অবশ রাখার একটি প্রাকৃতিক নির্দেশ পাঠানো হয়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'মাসল অ্যাটোনিয়া' বলা হয়। তবে কোনো কারণে এই প্রক্রিয়াটি আংশিকভাবে ব্যাহত হলে বা মস্তিষ্কের সিগন্যালে সামান্য বিঘ্ন ঘটলে স্নায়ুর মৃদু উত্তেজনার কারণে পেশিগুলো হঠাৎ সংকুচিত হয়ে যায়। এর ফলে হাত-পায়ে ঝাঁকুনি লাগে বা শরীর নড়ে ওঠে। এ ছাড়া দিনের অতিরিক্ত ক্লান্তি, মানসিক চাপ বা ঘুমের অভ্যাসের পরিবর্তনের কারণেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ঘুমের মধ্যে হঠাৎ কেঁপে ওঠার এই সাধারণ ঘটনাটিকে বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় 'হাইপনিক জের্ক' বলা হয়, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।

  • গভীর ঘুমে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে মস্তিষ্কের পেশি শিথিল করার প্রক্রিয়ায় সামান্য বিলম্ব ঘটলে শরীর হঠাৎ কেঁপে ওঠে।
  • রিম (REM) ঘুমের সময় মস্তিষ্কের অতিরিক্ত সক্রিয়তার কারণে অবচেতনভাবেই হাত-পায়ের সামান্য নড়াচড়া হতে পারে।
  • অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ, মানসিক উদ্বেগ বা অনিয়মিত রুটিনও ঘুমের ভেতরের এই শারীরিক প্রবণতাকে বাড়িয়ে দিতে পারে।

স্নায়বিক প্রক্রিয়া ও এর প্রভাব

ঘুমের মধ্যে নড়াচড়া করার এই প্রবণতা মূলত আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কাজের একটি অংশ। তবে যদি এই নড়াচড়া অতিরিক্ত মাত্রায় হয় এবং এর ফলে ঘুম বারবার ভেঙে যায়, তবে তা রেস্টলেস লেগস সিন্ড্রোম বা অন্য কোনো স্লিপ ডিসঅর্ডারের লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনের জন্য সুশৃঙ্খল স্লিপ হাইজিন বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং সঠিক সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস এই ধরনের শারীরিক নড়াচড়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

পরিশেষে, ঘুমের মধ্যে নড়াচড়া করার বিষয়টি মূলত মানবদেহের জটিল স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ। এই বিষয়ে সঠিক ধারণা থাকলে অপ্রয়োজনীয় দুশ্চিন্তা দূর করা সম্ভব এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করা যায়।