ওভারটাইম বিতর্ক: সপ্তাহে ৭০ ঘণ্টা কাজের দাবি বনাম কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
ওভারটাইম বিতর্ক: সপ্তাহে ৭০ ঘণ্টা কাজের দাবি বনাম কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতিদের একাংশের ‘সপ্তাহে ৭০ ঘণ্টা কাজ’ করার পরামর্শ ঘিরে কর্পোরেট দুনিয়ায় যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে এখনও চলছে নানা জল্পনা ও আলোচনা। কর্মসংস্কৃতির উন্নতির নামে অতিরিক্ত সময় কাজ করার এই দাবি একদিকে যেমন দেশের উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পক্ষে জোরালো যুক্তি দেয়, অন্যদিকে তেমনি এটি কর্মীদের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক সম্পর্ক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মত প্রকাশ করেছেন চিকিৎসাকুল ও মনোবিজ্ঞানীরা।
অবিরাম কাজের চাপ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবের ফলে ‘বার্নআউট’ (Burnout), তীব্র উদ্বেগ, অবসাদ এমনকি শারীরিক জটিলতার মতো সমস্যায় পড়ছেন বহু তরুণ পেশাদার। কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের ইঁদুরদৌড় বজায় রাখতে গিয়ে মানসিক শান্তি বিসর্জন দেওয়ার এই ট্রেন্ড কতদূর যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে চলছে গভীর পর্যালোচনা। সপ্তাহে ৭০ ঘণ্টা কাজের এই বিতর্ক এবং এর নেপথ্য সত্য নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) সাম্প্রতিক গবেষণা রিপোর্ট অনুযায়ী, সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করা মানুষের স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয়।
- দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও অতিরিক্ত ওভারটাইমের ফলে কর্মীদের মধ্যে শারীরিক ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদের মাত্রা বৃদ্ধি
- পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের (Work-Life Balance) ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পারিবারিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া
- অতিরিক্ত চাপের কারণে সৃজনশীলতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদে কাজের মান হ্রাস পাওয়া
- মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা এবং মানসিক অবসাদ দূর করার জন্য ব্রেকের প্রয়োজনীয়তা
সুস্থ কর্পোরেট সংস্কৃতি ও ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্র
অতিরিক্ত কাজের চাপে কর্মী পিষে ফেলার পুরনো ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক কর্পোরেট জগৎকে এখন মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থ কর্মপরিবেশকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কাজের ঘণ্টার চেয়ে কাজের গুণগত মান এবং সুনির্দিষ্ট দক্ষতার মূল্যায়ন করাটাই হলো একটি সুস্থ ও প্রগতিশীল সমাজের মূল চাবিকাঠি। সঠিক ভারসাম্য বজায় রেখেই কেবল দীর্ঘমেয়াদী পেশাগত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।