খাদ্য সুরক্ষা অভিযানে রাজ্যজুড়ে কড়া পদক্ষেপ, ৫৯২টি দোকানে হানা দিয়ে ১১২টি প্রতিষ্ঠানকে নোটিস ও ১২২৪ কেজি খাবার নষ্ট

খাদ্য সুরক্ষা অভিযানে রাজ্যজুড়ে কড়া পদক্ষেপ, ৫৯২টি দোকানে হানা দিয়ে ১১২টি প্রতিষ্ঠানকে নোটিস ও ১২২৪ কেজি খাবার নষ্ট

খাদ্য সুরক্ষা বিধি ভাঙায় রাজ্যজুড়ে জোরদার অভিযান, ৫৯২টি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি

উৎসবের মরশুমের আগে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মানসম্মত খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করতে রাজ্যজুড়ে বিশেষ অভিযান চালাল খাদ্য নিরাপত্তা দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন। কলকাতার বিভিন্ন নামী রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকান, বাজার এবং শপিং মলের ফুড কোর্টগুলিতে লাগাতার তল্লাশি চালানো হয়েছে। এই বিশেষ অভিযানে মোট ৫৯২টি খাদ্য প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তল্লাশির সময় একাধিক প্রতিষ্ঠানে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার এবং খাদ্য সংরক্ষণে গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে। ফ্রিজে পচা মাছ, মাংস ও বাসি মিষ্টি মজুদ রাখার পাশাপাশি অনেক জায়গায় খাবার তৈরিতে ক্ষতিকর কৃত্রিম রং ব্যবহারের অভিযোগও ধরা পড়েছে। জনগণের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগে একশোর বেশি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: এই অভিযানে মোট ১১২টি খাদ্য প্রতিষ্ঠানকে সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে এবং প্রায় ১,২২৪ কেজি পচা ও অযোগ্য খাবার বাজেয়াপ্ত করে নষ্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি মান পরীক্ষার জন্য ১৬১টি খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।

  • রাজ্যজুড়ে মোট ৫৯২টি খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁয় যৌথ অভিযান
  • নিয়ম না মানায় ১১২টি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর নোটিস জারি
  • বাজেয়াপ্ত করা ১,২২৪ কেজি বাসি ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য ধ্বংস
  • পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে ১৬১টি খাদ্যের নমুনা

প্রশাসনের কঠোর বার্তা ও নজরদারি

খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস করার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে প্রশাসন। উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ মানুষ যাতে খাঁটি ও নিরাপদ খাবার পান, তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের অভিযান আগামী দিনেও অবিরাম চলবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলিকে দ্রুত তাদের পরিকাঠামো উন্নত করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাজারগুলিতে সাধারণ মানুষের বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করতে এবং ভেজাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি শাস্তি সুনিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই পদক্ষেপে জনমহলে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে।