ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন: কেনাকাটায় প্রতারিত হলে কীভাবে অভিযোগ করবেন?

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন: কেনাকাটায় প্রতারিত হলে কীভাবে অভিযোগ করবেন?

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও ক্রেতা সুরক্ষা

কেনাকাটায় প্রতারণা, নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ বা ত্রুটিপূর্ণ সেবার হাত থেকে ক্রেতাদের সুরক্ষা দিতে ভারতে অত্যন্ত কার্যকর 'ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০১৯' (Consumer Protection Act, 2019) চালু রয়েছে। আগের ১৯৮৬ সালের আইনটিকে আধুনিকায়ন করে নতুন আইনে অনলাইন কেনাকাটা বা ই-কমার্স, বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন এবং বিক্রেতার ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার বিধান রাখা হয়েছে। যেকোনো পণ্য বা সেবা ক্রয়ের বিনিময়ে অর্থ প্রদান করলে প্রতিটি নাগরিক আইনত 'ভোক্তা' বা 'ক্রেতা' হিসেবে সুনির্দিষ্ট আইনি অধিকার লাভ করেন।

পণ্য কিনে প্রতারিত হলে বা বিক্রেতা যথাযথ পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হলে নীরব না থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এই আইনের অধীনস্থ বিচার প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সহজ ও দ্রুত সম্পাদনযোগ্য করা হয়েছে।

ভোক্তা হিসেবে আপনার প্রধান মৌলিক অধিকারসমূহ:

  • সুরক্ষার অধিকার: জীবন ও সম্পত্তির জন্য ক্ষতিকর পণ্য বা সেবা থেকে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার।
  • তথ্য জানার অধিকার: পণ্যের গুণমান, পরিমাণ, বিশুদ্ধতা, মূল্য ও উপাদান সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়ার সুযোগ।
  • পছন্দ ও বাছাইয়ের অধিকার: প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে যেকোনো পণ্য বা সেবা বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা।
  • ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার: ত্রুটিপূর্ণ পণ্য বা সেবার কারণে ক্ষতি হলে তার উপযুক্ত প্রতিবিধান ও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আইনি অধিকার।
  • শুনানির অধিকার: যেকোনো ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ফোরামে বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ।

কখন ও কী কী কারণে অভিযোগ দায়ের করা যায়?

পণ্য বা সেবার মান নিয়ে কোনো বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে একজন ভোক্তা আইনগতভাবে অভিযোগ জানাতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ—ধার্যকৃত এমআরপি (MRP)-র চেয়ে বেশি দাম নেওয়া, মেয়াদউত্তীর্ণ (Expired) পণ্য বিক্রি করা, গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি সত্ত্বেও ফ্রি সার্ভিস দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং অনলাইন কেনা পণ্যের বদলে ভুল বা ভাঙা জিনিস পাঠানো।

এছাড়া বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যে প্রতিশ্রুতিযুক্ত বিজ্ঞাপন দেখে প্রতারিত হলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও প্রচারকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভোক্তা আদালতের শরণাপন্ন হওয়া যায়।

কীভাবে এবং কোথায় অভিযোগ জানাবেন?

প্রতারণার শিকার হলে প্রথম পদক্ষেপে বিক্রেতা বা প্রস্তুতকারক সংস্থাকে লিখিতভাবে বা ইমেলের মাধ্যমে ত্রুটি শুধরে নেওয়ার অনুরোধ জানানো উচিত। তাতে সমাধান না হলে ভোক্তা সুরক্ষার সরাসরি আইনি সাহায্য নেওয়া যায়। কেন্দ্র সরকারের টোল-ফ্রি জাতীয় নম্বর ১৯১৫ (National Consumer Helpline)-এ ফোন করে বা ই-দাখিল (e-daakhil.nic.in) পোর্টালে গিয়ে ঘরে বসেই অনলাইনে অভিযোগ নথিভুক্ত করা সম্ভব।

এছাড়া সরাসরি ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে (Consumer Disputes Redressal Commission) লিখিত পিটিশন দায়ের করা যায়। ক্ষতির দাবির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে জেলা, রাজ্য ও জাতীয় স্তরের কমিশনে যাওয়া হয়। ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবির ক্ষেত্রে জেলা কমিশন, ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত রাজ্য কমিশন এবং ২ কোটি টাকার ওপরের মামলার শুনানি জাতীয় কমিশনে হয়। ভোক্তা আদালতে মামলা চালানোর জন্য কোনো উকিল বা আইনজীবীর বাধ্যবাধকতা নেই; রসিদ ও প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিয়ে ক্রেতা নিজেই নিজের পক্ষ উপস্থাপন করতে পারেন।