প্রবাসী পরিবার ও আইনি জটিলতা: বিদেশে থাকা স্বামী বা স্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের নিয়ম

প্রবাসী পরিবার ও আইনি জটিলতা: বিদেশে থাকা স্বামী বা স্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের নিয়ম

প্রবাসী পরিবার ও বৈবাহিক আইনি জটিলতা

বর্তমান সময়ে কাজের সূত্রে বা স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য স্বামী বা স্ত্রীর বিদেশে (NRI) অবস্থান করার ঘটনা অত্যন্ত সাধারণ। কিন্তু এই দূরত্বের সুযোগ নিয়ে অনেক সময় দাম্পত্য সম্পর্ক এড়িয়ে চলা, ভরণপোষণ বন্ধ করে দেওয়া বা একতরফাভাবে সম্পর্ক ছিন্নের চেষ্টার মতো আইনি জটিলতা তৈরি হয়। স্বামী বা স্ত্রী বিদেশে থাকলেও ভারতীয় পারিবারিক আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর বিধান রয়েছে।

দূরত্ব বা ভিন্ন দেশ আইনি ব্যবস্থার ক্ষেত্রে কোনো বড় বাধা হতে পারে না; ভারতীয় নাগরিকত্ব বা ভারতে বিয়ে রেজিস্ট্রি হওয়ার কারণে এ দেশের পারিবারিক আদালতগুলোতে এই মামলাগুলো পরিচালনা করা সম্ভব।

বিদেশে থাকা স্বামী বা স্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রধান নিয়মাবলী:

  • ভার্চুয়াল শুনানি ও অনলাইন হাজিরা (Video Conferencing): বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী, বিদেশে থাকা স্বামী বা স্ত্রী শারীরিক উপস্থিতির ঝামেলা এড়াতে পারিবারিক আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে ভিডিও কনফারেন্সিং বা অনলাইনের মাধ্যমে মামলার শুনানিতে অংশ নিতে পারেন।
  • বিদেশেই আইনি নোটিশ বা সমন পাঠানো (Service of Summons Abroad): ভারতের আদালত থেকে জারি করা সমন বা নোটিশ আন্তর্জাতিক চুক্তি (যেমন—হেগ কনভেনশন বা কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে) অনুযায়ী প্রবাসীর বিদেশের ঠিকানায় বা কর্মস্থলে সরকারিভাবে পাঠানো হয়। নোটিশ পাওয়ার পরও হাজির না হলে আদালত একতরফা (Ex-parte) রায় ঘোষণা করতে পারেন।
  • দেশে সম্পত্তি বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে খোরপোশ আদায়: প্রবাসী স্বামী যদি খোরপোশ বা আইনি খরচের টাকা দিতে অস্বীকার করেন, তবে আদালত ভারতে থাকা তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ফ্ল্যাট বা পৈতৃক সম্পত্তির ওপর নির্দেশ জারি করে সেই অর্থ বা সম্পত্তি ক্রোক করে বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা করতে পারেন।
  • লুকআউট সার্কুলার (Lookout Circular - LOC) ও পাসপোর্ট জব্দ: স্বামী যদি গুরুতর অপরাধমূলক অভিযোগে (যেমন—যৌতুক নির্যাতন বা ৪৯৮এ মামলা) অভিযুক্ত হন এবং তদন্তে সহযোগিতা না করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তবে আদালত বা পুলিশের অনুরোধে ইমিগ্রেশন বিভাগ তাঁর বিরুদ্ধে 'লুকআউট সার্কুলার' জারি করে পাসপোর্ট বাতিল বা জব্দ করতে পারে।
  • ডিভোর্স ও খোরপোশের মামলা (Maintenance & Divorce): হিন্দু বিবাহ আইন বা মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী ভারতে যেকোনো পক্ষ পারিবারিক আদালতে ডিভোর্স, কাস্টডি বা মাসিক খোরপোশের মামলা দায়ের করতে পারেন, যা প্রবাসীর ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।

দূরবর্তী আইনি লড়াইয়ে করণীয় সতর্কতা

প্রবাসী সঙ্গীর বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে তাঁর সঠিক বিদেশের কর্মস্থলের ঠিকানা, ইমেল আইডি, ফোন নম্বর এবং পাসপোর্ট বা ভিসার বিবরণ সংগ্রহ রাখা অত্যন্ত জরুরি। ভারতীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সহায়তা নিয়েও অনেক সময় আইনি নোটিশ প্রেরণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা যায়।

সংক্ষেপে, স্বামী বা স্ত্রী দেশের বাইরে অবস্থান করলেও তাঁদের আইনি দায়বদ্ধতা থেকে পালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সঠিক আইনি পরামর্শ ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিদেশে থাকা সঙ্গীর বিরুদ্ধে দেশে বসেই কার্যকর আইনি প্রতিকার পাওয়া সম্ভব।