পরিবারের হুমকি বা সামাজিক হেনস্থা: বিপদে পড়লে লিভ-ইন যুগল কীভাবে পুলিশি নিরাপত্তা পাবেন?

পরিবারের হুমকি বা সামাজিক হেনস্থা: বিপদে পড়লে লিভ-ইন যুগল কীভাবে পুলিশি নিরাপত্তা পাবেন?

লিভ-ইন যুগল ও নিরাপত্তা পাওয়ার মৌলিক অধিকার

ভারতে প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের লিভ-ইন রিলেশনশিপ বা বিয়ে ছাড়া একসঙ্গে বসবাস করা আইনত সম্পূর্ণ বৈধ। তবুও রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থা কিংবা নিজ পরিবারের তরফ থেকে অনেক সময় এই ধরনের যুগলদের ওপর শারীরিক আক্রমণ, হুমকি, অনার কিলিং (Honor Killing)-এর ঝুঁকি বা অহেতুক হেনস্থার মুখোমুখি হতে হয়। তবে ভারতের সংবিধান ও সর্বোচ্চ বিচার ব্যবস্থা প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং জীবনের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।

পরিবার, সমাজ কিংবা যেকোনো অসাধু ব্যক্তির পক্ষ থেকে হুমকি বা বেআইনি বাধা আসলে ভয় না পেয়ে আইনসম্মত উপায়ে পুলিশি ও বিচারিক নিরাপত্তা লাভ করা একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার।

আইন অনুযায়ী লিভ-ইন যুগলদের নিরাপত্তার মূল ভিত্তি:

  • সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ: জীবন ধারণ ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মৌলিক অধিকার (Right to Life and Personal Liberty), যা যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে তাঁর ইচ্ছানুযায়ী জীবনসঙ্গী নির্বাচনের স্বাধীনতা দেয়।
  • আইনি প্রাপ্তবয়স্কতা: মহিলার বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর এবং পুরুষের বয়স অন্তত ২১ বছর হলে পুলিশ বা অন্য কোনো সংস্থা তাঁদের একসাথে থাকা থেকে বিরত রাখতে পারে না।
  • পুলিশের আইনি বাধ্যবাধকতা: হুমকি বা ভয়ের তথ্য পেলে নাগরিকদের নিরাপত্তা প্রদান করা পুলিশ প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক দায়িত্ব।
  • অন্যায় আটক বা হয়রানির ওপর নিষেধাজ্ঞা: কোনো অপরাধ না করা সত্ত্বেও কেবল লিভ-ইন সম্পর্কে থাকার কারণে পুলিশ কাউকে আটক, হেনস্থা বা পরিবারকে খবর দিতে বাধ্য করতে পারে না।
  • আদালতের সুরক্ষামূলক নির্দেশ (Protection Order): ভুক্তভোগীদের আবেদনক্রমে হাইকোর্ট বা সেশনস কোর্ট সরাসরি পুলিশ সুপারকে (SP/CP) কড়া নিরাপত্তার নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।

বিপদে পড়লে বা হুমকি পেলে পুলিশি নিরাপত্তা পাওয়ার প্রক্রিয়া

পরিবার বা সমাজ থেকে জীবন বা অঙ্গহানির হুমকি থাকলে যুগলকে বিলম্ব না করে সুনির্দিষ্ট আইনি পথ অনুসরণ করা উচিত। সবচেয়ে প্রথম কাজ হলো হুমকির বিবরণ দিয়ে নিকটস্থ থানা কিংবা জেলা পুলিশ সুপারের (Superintendent of Police / Commissioner of Police) কার্যালয়ে একটি লিখিত আবেদনপত্র (Written Representation) জমা দেওয়া।

যদি স্থানীয় থানা থেকে তাৎক্ষণিক সাড়া না পাওয়া যায় বা পুলিশ পদক্ষেপ নিতে অনীহা প্রকাশ করে, তবে ভুক্তভোগী যুগল সরাসরি রাজ্য হাইকোর্টে (High Court) সংবিধানের ২২৬ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে একটি "রিট পিটিশন" (Writ Petition for Police Protection) দায়ের করতে পারেন। হাইকোর্ট বিষয়টির তীব্রতা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ প্রধানকে জরুরি ভিত্তিতে যুগলের বাসস্থান ও জীবনের পূর্ণ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ প্রদান করেন।

জরুরি পরিস্থিতিতে সাহায্য পাওয়ার হেল্পলাইন ও পরামর্শ

তাৎক্ষণিক কোনো আক্রমণ বা হুমকির সম্মুখীন হলে ১১২ (জাতীয় জরুরি নম্বর) বা ১০০ নম্বরে কল করে পুলিশের সাহায্য চাওয়া উচিত। এছাড়া নারী সঙ্গীর কোনো বিপদের ক্ষেত্রে জাতীয় নারী কমিশন (NCW) বা ১৮১ উইমেন হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে সহায়তা পাওয়া যায়।

হুমকির মুখোমুখি হলে কোনো ভয় বা আত্মগোপনে না থেকে নিকটস্থ জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ (DLSA)-র মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ ও আইনজীবীর সাহায্য গ্রহণ করার পথ খোলা রয়েছে। সচেতনতা এবং আইনের প্রতি আস্থাই যেকোনো হেনস্থা ও হুমকির বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী ঢাল।