স্ট্রেস বা টেনশন হলেই কি বেশি খাওয়ার অভ্যাস? জেনে নিন এই প্রবণতা দূর করার বৈজ্ঞানিক ট্রিকস।
স্ট্রেস বা টেনশন হলেই কি বেশি খাওয়ার অভ্যাস? জেনে নিন এই প্রবণতা দূর করার বৈজ্ঞানিক ট্রিকস
কাজের প্রচণ্ড চাপ, পরীক্ষার টেনশন কিংবা জীবনের নানা জটিলতায় মন যখনই ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে, তখন কি আপনার বারবার ফ্রিজ খুলে মুখরোচক বা ভাজাপোড়া খাবার খাওয়ার ইচ্ছে জাগে? চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ‘ইমোশনাল ইটিং’ (Emotional Eating) বা মানসিক চাপের কারণে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা। মন খারাপ বা উদ্বেগের মুহূর্তে আমাদের মস্তিষ্ক দ্রুত আরাম পেতে ‘কর্টিসল’ বা স্ট্রেস হরমোন ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, যা সাময়িকভাবে চকোলেট, ফাস্টফুড বা মিষ্টি খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে। এই বদঅভ্যাস অজান্তেই শরীরের ওজন বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মেটাবলিজমের মারাত্মক বারোটা বাজায়।
টেনশন বা স্ট্রেসের বশে অতিরিক্ত খাওয়ার এই ক্ষতিকর মানসিক প্রবণতা কাটিয়ে ওঠার কার্যকরী ও বিজ্ঞানসম্মত কিছু উপায় নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: মনোবিদ ও পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, স্ট্রেসের সময় শরীরে কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে হাঙ্গার হরমোন ‘গ্রেলিন’ সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা আমাদের প্রকৃত ক্ষিদে না থাকা সত্ত্বেও বারবার ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ার জন্য প্ররোচিত করে।
- পজ বা থামা কৌশল (The Pause Rule): খাবার খাওয়ার তীব্র ইচ্ছে জাগলে অন্তত ৫ মিনিট অপেক্ষা করুন এবং নিজেকে প্রশ্ন করুন—এটি কি সত্যিই শারীরিক ক্ষিদে, নাকি নিছকই মানসিক উদ্বেগের প্রকাশ?
- হেলদি স্ন্যাক্স হাতের কাছে রাখা: ফ্রিজে ফাস্টফুড বা মিষ্টির বদলে বাদাম, ফল বা রোস্টেড ছোলার মতো স্বাস্থ্যকর খাবার মজুত রাখুন, যাতে চাপের মুখে ভুল খাবার খাওয়া না হয়।
- ডাইভার্ট ইউর মাইন্ড: টেনশন হলে খাওয়ার কথা না ভেবে হালকা হাঁটাচলা, পছন্দের গান শোনা কিংবা ডিপ ব্রিদিং এক্সারসাইজ বা গভীর দীর্ঘশ্বাসের ব্যায়াম করুন।
- পর্যাপ্ত ঘুম ও জল পান: শরীরে জলের ঘাটতি বা কম ঘুম অনেক সময় ভুলের বশে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়, তাই হাইড্রেটেড থাকা অত্যন্ত জরুরি।
সচেতন মন ও সুষম খাদ্যাভ্যাস
স্ট্রেস বা মানসিক চাপ জীবনেরই একটি অংশ, কিন্তু তার জেরে নিজের স্বাস্থ্যের বারোটা বাজানো কোনো কাজের কথা নয়। খাদ্যাভ্যাসের ওপর মানসিক আবেগের নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে একটু সচেতন হলে এবং বৈজ্ঞানিক এই সহজ উপায়গুলি মেনে চললে সহজেই ‘ইমোশনাল ইটিং’-এর ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। সঠিক মানসিক নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতাই আপনাকে রাখতে পারে সুস্থ, ঝরঝরে ও ফিট।