ইউরিক অ্যাসিডের বাড়বাড়ন্ত: গাঁটের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়
ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে কী হয়?
রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি হলে শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে ইউরিক অ্যাসিডের স্ফটিক জমে প্রদাহ ও তীব্র ব্যথা তৈরি হতে পারে। এই অবস্থাকে গাউট বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে পায়ের বুড়ো আঙুল, গোড়ালি বা হাঁটুর জয়েন্টে হঠাৎ তীব্র ব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।
খাদ্যাভ্যাসে নজর দিন
গাউট বা উচ্চ ইউরিক অ্যাসিডের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পিউরিনযুক্ত কিছু খাবার এবং বিশেষ করে অ্যালকোহল ও চিনি যুক্ত পানীয় সীমিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পর্যাপ্ত জল পান করা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
অতিরিক্ত ওজন ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা ও গাউটের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই দ্রুত ওজন কমানোর পরিবর্তে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার চেষ্টা করা ভালো। নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
গাঁটের ব্যথা হলে কী করবেন?
হঠাৎ জয়েন্টে তীব্র ব্যথা ও ফোলাভাব হলে আক্রান্ত অংশকে বিশ্রাম দেওয়া এবং ঠান্ডা সেঁক কিছুটা আরাম দিতে পারে। তবে বারবার এমন সমস্যা হলে কারণ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
ওষুধ নিজে থেকে বন্ধ করবেন না
গাউট নিয়ন্ত্রণের জন্য চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যথা ও প্রদাহ কমানোর ওষুধ অথবা ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণের ওষুধ দিতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ শুরু, বন্ধ বা ডোজ পরিবর্তন করা উচিত নয়।
- পর্যাপ্ত জল পান করার অভ্যাস রাখুন।
- অতিরিক্ত পিউরিনযুক্ত খাবার সীমিত করুন।
- অ্যালকোহল ও চিনি যুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন বা কমান।
- স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
- নিয়মিত হালকা শরীরচর্চা করুন।
- বারবার জয়েন্টে ব্যথা বা ফোলাভাব হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত যত্ন জরুরি
শুধু একটি বা দুটি খাবার বাদ দিলেই ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে না। খাদ্যাভ্যাস, ওজন, পর্যাপ্ত জল পান, শারীরিক কার্যকলাপ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। তীব্র বা বারবার গাঁটের ব্যথা হলে সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।