মাসে ৫০০০ টাকা এসআইপি করলে ১০ বছরে কত টাকা রিটার্ন পাবেন? সম্পূর্ণ হিসাব ও লাভ
মাসে ৫০০০ টাকা এসআইপি করলে ১০ বছরে কত জমবে?
ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা এবং বড় ধরনের তহবিল গড়ে তোলার জন্য সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপি (SIP)-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। অনেকেই প্রতি মাসে নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট অংক জমিয়ে বড় রিটার্ন পাওয়ার পরিকল্পনা করেন। আপনি যদি প্রতি মাসে ৫০০০ টাকা করে টানা ১০ বছর ধরে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করেন, তবে মেয়াদ শেষে আপনার হাতে কত টাকা আসতে পারে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। চক্রবৃদ্ধি সুদের জাদুতে এই ছোট সঞ্চয়ও দীর্ঘমেয়াদে বড় অংকে রূপ নিতে পারে।
মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগ পুরোপুরি শেয়ার বাজারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর সুনির্দিষ্ট কোনো গ্যারান্টিযুক্ত রিটার্ন থাকে না। তবে ঐতিহাসিক তথ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী বাজারের ট্রেন্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভালো মানের মিউচুয়াল ফান্ড বা ইনডেক্স ফান্ডে সাধারণত বার্ষিক গড়ে ১২ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত রিটার্ন পাওয়া সম্ভব। এই অনুমানের ওপর ভিত্তি করেই ১০ বছরের একটি নিখুঁত হিসাব কষে নেওয়া যায়, যা আপনার ভবিষ্যতের আর্থিক লক্ষ্য নির্ধারণে সাহায্য করবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: প্রতি মাসে ৫০০০ টাকা বিনিয়োগ করলে ১০ বছরে আপনার মোট জমানো টাকার পরিমাণ দাঁড়াবে ৬,০০,০০০ টাকা (পাঁচ হাজার টাকা গুণিতক ১২০ মাস)। কিন্তু এর ওপর চক্রবৃদ্ধি সুদের সুবিধা যুক্ত হলে চূড়ান্ত রিটার্ন জমানো মূলধনের চেয়ে অনেকটাই বেশি হয়। নিচে বিভিন্ন সম্ভাব্য রিটার্ন হারের একটি স্পষ্ট হিসাব তুলে ধরা হলো:
- যদি বার্ষিক ১২ শতাংশ রিটার্ন পাওয়া যায়: ১০ বছরে আপনার মোট বিনিয়োগ হবে ৬ লাখ টাকা এবং আনুমানিক রিটার্ন বা লাভসহ মোট ফান্ড ভ্যালু দাঁড়াবে প্রায় ১১,৬১,০০ টাকা।
- যদি বার্ষিক ১৪ শতাংশ রিটার্ন পাওয়া যায়: ১০ বছরে মোট জমানো টাকার ওপর চক্রবৃদ্ধি সুদে মোট পরিমাণ পৌঁছাতে পারে প্রায় ১৩,০৬,০০০ টাকায়।
- যদি বার্ষিক ১৫ শতাংশ রিটার্ন পাওয়া যায়: বাজার অনুকূল থাকলে এবং ১৫% হারে গ্রোথ পেলে এই তহবিল প্রায় ১৩,৮১,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
এসআইপি বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদী সুবিধার গুরুত্ব
উপরের হিসাব থেকে স্পষ্ট যে, আপনি যত দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগ বজায় রাখবেন, চক্রবৃদ্ধি সুদের (Compounding Interest) সুফল তত বেশি পাবেন। ১০ বছরের যাত্রায় প্রথম কয়েক বছরের তুলনায় শেষের দিকে টাকার বৃদ্ধি অনেক দ্রুত গতিতে হয়। তাছাড়া, রুপি কস্ট অ্যাভারেজিংয়ের কারণে বাজারের উত্থান-পতনের ধাক্কাও সামলে নেওয়া সহজ হয়।
সংক্ষেপে, প্রতি মাসে ৫০০০ টাকার নিয়মিত এসআইপি আপনার সন্তানের উচ্চশিক্ষা, বাড়ি কেনা বা রিটায়ারমেন্ট ফান্ডের মতো বড় লক্ষ্যপূরণে দারুণ সহায়ক হতে পারে। তবে বিনিয়োগ করার আগে নিজের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা বুঝে সঠিক ফান্ড নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি।