রবিবার ডুরান্ডের মেগা ফাইনাল: যুবভারতীতে ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে পাল্লা ভারী ইস্টবেঙ্গল নাকি মোহনবাগানের?

রবিবার ডুরান্ডের মেগা ফাইনাল: যুবভারতীতে ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে পাল্লা ভারী ইস্টবেঙ্গল নাকি মোহনবাগানের?

যুবভারতীতে ডুরান্ডের মহারণ

রবিবার কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল এফসি এবং মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। একই শহরের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী যখন ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে মুখোমুখি হয়, তখন ম্যাচের গুরুত্ব স্বাভাবিকভাবেই কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এবারের লড়াইয়ে একদিকে ১৭তম ডুরান্ড ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে নামবে ইস্টবেঙ্গল, অন্যদিকে রেকর্ড ১৮তম শিরোপার হাতছানি রয়েছে মোহনবাগানের সামনে।

ফাইনালের আগে দুই দলের পথই ছিল যথেষ্ট কঠিন। ইস্টবেঙ্গল সেমিফাইনালে এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য থাকার পর পেনাল্টি শুটআউটে ৫-৩ ব্যবধানে জয় পেয়ে ফাইনালে পৌঁছেছে। অন্যদিকে মোহনবাগানও নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ৯০ মিনিটে গোল করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে সবুজ-মেরুন শিবির।

ইস্টবেঙ্গলের পাল্লা কেন ভারী হতে পারে?

ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে তাদের সাম্প্রতিক নকআউট লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা এবং চাপ সামলানোর ক্ষমতা। সেমিফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে কঠিন পরিস্থিতি সামলে তারা জয় পেয়েছে। গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিলের গুরুত্বপূর্ণ সেভ দলকে ফাইনালে পৌঁছতে সাহায্য করেছে। ফলে বড় ম্যাচের চাপ সামলে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিজেদের ধরে রাখার আত্মবিশ্বাস লাল-হলুদ শিবিরে রয়েছে।

এছাড়া ডুরান্ড কাপের ইতিহাসেও ইস্টবেঙ্গলের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। ১৬ বার ট্রফি জেতা লাল-হলুদ দল এবার ১৭তম শিরোপার লক্ষ্যে নামবে। ২০২৩ সালের ডুরান্ড ফাইনালে মোহনবাগানের কাছে হারের স্মৃতিও তাদের কাছে বাড়তি প্রেরণা হতে পারে। ফলে প্রতিশোধের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ট্রফি জেতার লক্ষ্য থাকবে ইস্টবেঙ্গলের।

মোহনবাগানের শক্তি কোথায়?

অন্যদিকে মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে পারে তাদের রক্ষণ এবং গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে কাইথ দুটি গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি সেভ করে দলকে ফাইনালে তুলে দেন। এর আগে কোয়ার্টার ফাইনালেও মোহনবাগান টাইব্রেকারে জয় পেয়েছিল। ফলে চাপের মুহূর্তে গোলরক্ষকের পারফরম্যান্স সবুজ-মেরুনদের জন্য বড় সুবিধা হতে পারে।

চলতি প্রতিযোগিতায় গ্রুপ পর্বের কলকাতা ডার্বিতেও মোহনবাগান ১-০ গোলে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়েছিল। তবে ফাইনাল সম্পূর্ণ আলাদা ম্যাচ এবং আগের ফল এখানে সরাসরি প্রভাব ফেলবে এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। মোহনবাগানের লক্ষ্য থাকবে সেই আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ডুরান্ডের মঞ্চে নিজেদের আধিপত্য আরও শক্ত করা।

ইতিহাস ও পরিসংখ্যানে কার এগিয়ে?

ডুরান্ড ফাইনালে দুই দলের এটি ১৩তম সাক্ষাৎ। ইতিহাসে দুই দলেরই স্মরণীয় জয় রয়েছে। ইস্টবেঙ্গল ১৯৭৩, ১৯৭৮ ও ২০০৪ সালের ফাইনালে মোহনবাগানকে হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল। অন্যদিকে মোহনবাগান ১৯৮৪, ১৯৯৪ এবং সর্বশেষ ২০২৩ সালের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়েছে। মোট ডুরান্ড শিরোপার হিসাবেও মোহনবাগান ১৭টি ট্রফি নিয়ে এগিয়ে, ইস্টবেঙ্গলের সংগ্রহ ১৬টি।

  • ফাইনাল: ইস্টবেঙ্গল এফসি বনাম মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট
  • তারিখ: ২৩ অগস্ট ২০২৬, রবিবার
  • ভেন্যু: বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন, কলকাতা
  • ইস্টবেঙ্গলের লক্ষ্য: ১৭তম ডুরান্ড শিরোপা
  • মোহনবাগানের লক্ষ্য: রেকর্ড ১৮তম ডুরান্ড শিরোপা
  • চলতি ডুরান্ডে গ্রুপ পর্বের ডার্বিতে মোহনবাগান ১-০ গোলে জিতেছিল

শেষ পর্যন্ত কার পাল্লা ভারী?

কাগজে-কলমে মোহনবাগান সামান্য এগিয়ে থাকতে পারে। গ্রুপ পর্বে ডার্বি জয়, শক্তিশালী রক্ষণ এবং বিশাল কাইথের দুর্দান্ত ফর্ম তাদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে ইস্টবেঙ্গলও সেমিফাইনালের চাপ সামলে ফাইনালে পৌঁছেছে এবং বড় ম্যাচে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পেয়েছে। তাই রবিবারের ম্যাচে কোনও দলকেই স্পষ্ট ফেভারিট বলা কঠিন।

ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণভাগের সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা এবং গোলরক্ষকদের পারফরম্যান্স। ম্যাচ যদি নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য বা সমতায় থাকে, তাহলে আবারও টাইব্রেকারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সব মিলিয়ে যুবভারতীতে রবিবারের কলকাতা ডার্বি শুধু দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং ডুরান্ড কাপের ইতিহাসে আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করার লড়াই।