পাকিস্তানকে ১৭১ রানে গুটিয়ে রবিনসন-টাংয়ের ইতিহাস, একই ইনিংসে দুই ইংরেজ পেসারের ৫ উইকেট

পাকিস্তানকে ১৭১ রানে গুটিয়ে রবিনসন-টাংয়ের ইতিহাস, একই ইনিংসে দুই ইংরেজ পেসারের ৫ উইকেট

রবিনসন-টাংয়ের দাপটে পাকিস্তানের ব্যাটিং ধস

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হেডিংলিতে প্রথম টেস্টের শুরুতেই দুর্দান্ত বোলিং করে ইতিহাসের পাতায় নাম তুললেন ইংল্যান্ডের দুই পেসার অলি রবিনসন এবং জশ টাং। একই ইনিংসে দুজনেই পাঁচটি করে উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে মাত্র ১৭১ রানে অলআউট করে দেন। রবিনসন ৫১ রানে পাঁচটি এবং টাং ৪৬ রানে পাঁচটি উইকেট নেন। ইংল্যান্ডের দুই বোলারের এই পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যাচের শুরু থেকেই স্বাগতিকরা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

ইংল্যান্ড টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রথম বল থেকেই রবিনসনের আক্রমণ শুরু হয়। পাকিস্তানের আজান আওয়াইসকে প্রথম বলেই এলবিডব্লিউ করে দেন তিনি। এরপরও থামেননি ইংরেজ পেসার। পাকিস্তানের টপ অর্ডারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারদের একে একে ফিরিয়ে দিয়ে প্রথম ইনিংসে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন রবিনসন। তাঁর বোলিংয়ে গতি অপেক্ষাকৃত কম হলেও নিখুঁত লাইন-লেন্থ এবং বলের মুভমেন্ট পাকিস্তানের ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলে।

পাকিস্তানের ইনিংস: ৪৮.১ ওভারে মাত্র ১৭১ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান। রবিনসন ও টাং পাঁচটি করে উইকেট নেওয়ায় পাকিস্তানের মোট ১০টি উইকেটই ইংল্যান্ডের এই দুই পেসারের দখলে যায়। একই টেস্ট ইনিংসে ইংল্যান্ডের দুই বোলারের পাঁচ উইকেট নেওয়ার ঘটনা ২০০৬ সালের পর এই প্রথম।

  • রবিনসন ৫১ রান দিয়ে পাঁচটি উইকেট নেন।
  • জশ টাং ৪৬ রান দিয়ে পাঁচটি উইকেট নেন।
  • পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ১৭১ রানে অলআউট হয়।
  • দুই ইংরেজ পেসারই পাকিস্তানের পাঁচটি করে উইকেট নেন।
  • ২০০৬ সালের পর প্রথমবার ইংল্যান্ডের দুই বোলার একই টেস্ট ইনিংসে পাঁচ উইকেট করে নিলেন।

প্রথম বল থেকেই রবিনসনের আক্রমণ

ম্যাচের প্রথম বলেই উইকেট তুলে নিয়ে রবিনসন বুঝিয়ে দেন, সেদিন বল হাতে তিনি কতটা কার্যকর হতে চলেছেন। এরপর পাকিস্তানের টপ অর্ডারের চারজন ব্যাটারকে আউট করে ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণের মূল কারিগর হয়ে ওঠেন তিনি। বলের মুভমেন্ট এবং স্টাম্প লক্ষ্য করে বোলিং করে পাকিস্তানের ব্যাটিংকে চাপে রাখেন রবিনসন। শেষ পর্যন্ত ৫১ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের পঞ্চম পাঁচ উইকেটের কীর্তি পূর্ণ করেন।

অন্যদিকে টাংয়ের বোলিং ছিল গতি ও বাউন্সনির্ভর। পাকিস্তানের লোয়ার অর্ডারের বিরুদ্ধে তাঁর স্পেল বিশেষভাবে কার্যকর হয়। শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ আব্বাসকে আউট করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। ফলে পাকিস্তানের শেষ পাঁচ উইকেটের ধস ইংল্যান্ডের বোলারদের জন্য আরও সহজ হয়ে যায়।

দুজনের জন্য এক বল, অভিনব স্মারক

একই ইনিংসে দুজনেই পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর ম্যাচের বলটি কার কাছে থাকবে, তা নিয়ে তৈরি হয় মজার পরিস্থিতি। শেষ পর্যন্ত রবিনসন ও টাং সিদ্ধান্ত নেন বলটি দুজনের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার। হেডিংলির মাঠকর্মীদের সাহায্যে ম্যাচের বলটি মাঝখান দিয়ে কেটে দুই ভাগ করা হয়। ফলে দুজনেই নিজেদের ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের স্মারক হিসেবে বলের একটি করে অংশ নিয়ে যেতে পারেন।

ইংল্যান্ডের শক্ত অবস্থান

পাকিস্তানকে ১৭১ রানে অলআউট করার পর ইংল্যান্ডও প্রথম দিনেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। দিনের শেষে ইংল্যান্ডের স্কোর ছিল ১১২ রানে ২ উইকেট। অধিনায়ক হিসেবে ফেরার পর জো রুট ৩৭ রানে অপরাজিত ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন জর্ডান কক্স। ফলে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসের স্কোর থেকে ইংল্যান্ড তখন মাত্র ৫৯ রান পিছনে ছিল।

পরের দিন ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা সেই সুবিধা আরও বাড়িয়ে দেন। দ্বিতীয় দিনের শেষে ৩৬৬ রানে ৮ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ড পাকিস্তানের থেকে ১৯৫ রানে এগিয়ে ছিল। ফলে রবিনসন ও টাংয়ের দুর্দান্ত বোলিং দিয়ে শুরু হওয়া ম্যাচে ইংল্যান্ড শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখে।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই পারফরম্যান্স শুধু ম্যাচের গতিপথই বদলে দেয়নি, ইংল্যান্ডের দুই পেসারের জন্যও একটি স্মরণীয় অধ্যায় তৈরি করেছে। একই ইনিংসে দুই বোলারের পাঁচ উইকেট নেওয়া এবং সেই কীর্তির স্মৃতি হিসেবে ম্যাচের বল অর্ধেক করে ভাগ করে নেওয়ার ঘটনা টেস্ট ক্রিকেটে নিঃসন্দেহে বিরল ও আকর্ষণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকল।